বইয়ের খোঁজ
বন্দুকের গুলির চেয়েও বেশি গতিতে ঘুষি মারে যে চিংড়ি
.
মো. রিফাত হাসান
প্রকাশ: ০২ আগস্ট ২০২৫ | ০০:০৭
সমুদ্রের গভীরে, ঝলমলে পানির নিচে বাস করে এক রহস্যময় প্রাণী। নাম–ম্যান্টিস শ্রিম্প। ছোট্ট এই চিংড়িকে দেখে প্রথমে মনে হবে যেন রং-তুলির ছোঁয়ায় আঁকা কোনো শিল্পকর্ম। অথচ এর রঙিন চেহারার আড়ালে লুকিয়ে আছে এক ভয়ংকর শক্তি ও অতুলনীয় ক্ষমতা, যা তাকে বানিয়েছে প্রকৃতির এক বিস্ময়কর যোদ্ধা!
নাম ও পরিচয়
ম্যান্টিস শ্রিম্প-এর বাংলা নাম ‘ঘুষি চিংড়ি’ বা ‘বিস্ফোরক চিংড়ি’। কেউ কেউ মজা করে বলে, যদি ম্যান্টিস শ্রিম্প মানুষের আকারে হতো, সে হতো পৃথিবীর সবচেয়ে শক্তিশালী প্রাণী!
শরীরে বিচিত্র রঙের ব্যবহার
ম্যান্টিস শ্রিম্প সাধারণত ১০ থেকে ১৮ সেন্টিমিটার লম্বা হয়। তার শরীরে আছে চোখ ধাঁধানো রঙের সমারোহ–সবুজ, লাল, নীল, কমলা ও সোনালি রং মিশে তাকে করে তুলেছে প্রকৃতির আঁকা এক জলজ ছবি। এই রং শুধুই সৌন্দর্যের জন্য নযয়–পরিবেশের সঙ্গে মিশে থাকা, শিকার ধরা এবং আত্মরক্ষায় কাজে লাগে।
তেড়ে এসে মারে ঘুষি...
এই ক্ষুদ্র প্রাণীর সবচেয়ে আশ্চর্যজনক দিক হলো তার ঘুষি। তার মুখের সামনে আছে দুটি শক্তিশালী পা, দেখতে অনেকটা রোমান গ্ল্যাডিয়েটরের অস্ত্রের মতো। এই পা দিয়ে সে আঘাত করতে পারে ঘণ্টায় ৮০ কিলোমিটার বেগে এবং প্রতি সেকেন্ডে নিজের শরীরের ৫০ গুণ দ্রুত! অনেকে বলেন, এই চিংড়ির ঘুষির গতি বন্দুকের গুলির চেয়েও বেশি। ফলে, পানির নিচে সৃষ্টি হয় ক্যাভিটেশন বাবল। মানে একটি ক্ষণস্থায়ী বুদবুদ, যা তাৎক্ষণিক বিস্ফোরণ ঘটিয়ে আলো ও ৪,৪০০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপ উৎপন্ন করে। এই আঘাতে মাছ, কাঁকড়া, এমনকি শক্ত সেলও ভেঙে যায়!
প্রযুক্তিতে অনুপ্রেরণা
এই অবিশ্বাস্য ক্ষমতার পেছনে রয়েছে বিজ্ঞান। ম্যান্টিস শ্রিম্পের ঘুষি দেখে বিজ্ঞানীরা বলছেন, তার গঠন থেকে ভবিষ্যতের উন্নত রোবট, বুলেটপ্রুফ সরঞ্জাম এবং সেন্সর বানানোর সম্ভাবনা রয়েছে। যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহারযোগ্য ন্যানো টেকনোলজির অনুপ্রেরণা মিলেছে এই প্রাণী থেকেই।
দৃষ্টিশক্তি বটে!
মানুষের চোখে যেখানে মাত্র তিন ধরনের রং দেখার কোষ থাকে, সেখানে ম্যান্টিস শ্রিম্পের চোখে থাকে ষোলো ধরনের রং শনাক্ত করার ক্ষমতা! এই বিস্ময়কর প্রাণীর দেখা মিলে বঙ্গোপসাগর, আরব সাগর, ইন্দোনেশিয়া, ফিলিপাইন, মালয়েশিয়া ও থাইল্যান্ডে। n
ষষ্ঠ শ্রেণি, হরিনারায়ণপুর বহুমুখী উচ্চ বিদ্যালয়, কুষ্টিয়া
- বিষয় :
- বইয়ের কথা
