ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ভ্রমণ

পাহাড়ের দেশ ও নিরামিষ গজ্যাপজ্যা

পাহাড়ের দেশ ও নিরামিষ গজ্যাপজ্যা
×

ছবি এঁকেছেন জায়ান শামস ইসলাম

পাহাড় ঘুরে এসে লিখেছেন ও ছবি এঁকেছেন জায়ান শামস ইসলাম

প্রকাশ: ১৮ এপ্রিল ২০২৬ | ০৭:৫৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

বন্ধুরা, পহেলা বৈশাখ মানেই তো আনন্দ আর উৎসব। সেই উৎসব যদি হয় টানা তিন-চার দিন এবং একটু ভিন্ন রকমের তাহলে তো কথাই নেই! ঠিকই ধরেছ, আজ বলবো পাহাড়ে পহেলা বৈশাখ উদযাপনের গল্প, যা বৈসাবি নামে পরিচিত। পাহাড় খুবই বিচিত্র; যা ভিন্ন ভিন্ন ঋতুতে ভিন্ন রূপে সাজে। রাঙামাটি, বান্দরবান ও খাগড়াছড়ি জেলায় বসবাস করে চাকমা, মারমা, ত্রিপুরা, মুরং ইত্যদি আদিবাসী সম্প্রদায়। বৈশাখ তাদের কাছে খুবই গুরুত্বপূর্ণ। তারা আনন্দ উদ্দীপনা আর ঐতিহ্যের সঙ্গে এই উৎসব উদযাপন করে তিন দিন ধরে। বৈসাবি আসলে কয়েকটি সম্প্রদায়ের সম্মিলিত অনুষ্ঠানের নাম। বৈ-বৈসু উৎসব; যা উদযাপন করে ত্রিপুরারা, সা-সাংগ্রাই; যা উদযাপন করে মারমারা, আর বি-বিজু; উদযাপন করে চাকমারা। একত্রে বৈসাবি। 

বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় জেলা রাঙামাটিতে আমার বৈসাবি উদযাপনের সুযোগ হয়েছিল এবার। পাহাড়ি মানুষেরা খুবই আন্তরিক ও অতিথিপরায়ণ। তারা খুবই পরিচ্ছন্ন ও পরিপাটি। উৎসবে তারা আরও বেশি সুন্দর করে ঘর সাজায় ও নিজেরা সাজে। উৎসবের শুরুতে আমি গেলাম ত্রিপুরা সম্প্রদায়ের ফুল বিজু অনুষ্ঠানে। পাহাড়ি মেয়েরা নতুন রং-বেরং-এর পোশাক পরে বুনো ফুল তুলে এনে পাহাড়ি ঝর্ণা বা নদীতে কলা পাতায় করে ভাসিয়ে দেয়। আর প্রার্থনা করে। আমি অংশ নিতে চাইলে তারা খুবই আগ্রহের সঙ্গে আমাকে সঙ্গে নিল। সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা, ঘরে ঘরে মিষ্টান্ন রাখা হয়। সবাই সবার বাসায় আমন্ত্রিত। পাহাড়ি মানুষেরা গুরুজনদের খুব সম্মান করে। পহেলা বৈশাখে চাকমারা বাড়ির গুরুজনদের গোসল করিয়ে দেন। নতুন কাপড় বোনেন বাড়ির মেয়েরা। সবাই নতুন পোশাক পরেন। আমিও উপহার পেলাম রঙিন ফতুয়া। সবচেয়ে আনন্দ পেলাম চাকমাদের পানি খেলা উৎসবে। ছেলেরা ও মেয়েরা আলাদা সারিতে দাঁড়িয়ে থাকে। আর জমিয়ে রাখা পানি একে অন্যের গায়ে ছিটায়। গরমের দুপুরে এই পানি খেলা উৎসব খুব আনন্দের। আমিও পানি খেলায় অংশ নিলাম। 
আদিবাসী গ্রামে গেলাম। তারা খেতে দিল ‘গজ্যাপজ্যা’; যা ১০৫ রকমের সবজি দিয়ে তৈরি নিরামিষ। প্রতিটি বাড়িতে ডাবের পানি দিয়ে আপ্যায়ন করা হলো, মিষ্টি খেতে দেওয়া হলো। অচেনা হলেও তারা অতিথিকে এভাবেই আপ্যায়ন করে। 
আমরা যারা শহরে থাকি তারা অতি সহজেই পানি পাই। কিন্তু পাহাড়ে গিয়ে জানলাম, পানি তাদের কাছে কতো মূল্যবান। বহু দূরের ঝর্ণা বা ছড়া থেকে তাদের পানি সংগ্রহ করতে হয়। উঁচুনিচু বন্ধুর পথ পাড়ি দিয়ে বয়ে আনা পানিতে তাদের জীবনযাপন করতে হয়। কতভাবে আমরা পানি অপচয় করি তা ভেবে কষ্ট হলো। প্রতিজ্ঞা করলাম, পানি প্রকৃতির অমূল্য সম্পদ। এটি কখনও নষ্ট করব না এবং যথাযথ ব্যবহার করব। চাইলে তোমরাও কোনো একবার বেড়িয়ে আসতে পারো পাহাড়ের বৈসাবিতে। পাহাড় সব সময় তোমাদের স্বাগত জানায়! 

 বয়স : ১+২+৩+৪ বছর; ৪র্থ শ্রেণি, আদমজী ক্যান্টনমেন্ট পাবলিক স্কুল, ঢাকা

আরও পড়ুন

×