যৌনকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে দৃষ্টিভঙ্গির পরিবর্তন জরুরি
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৮:৫১ | আপডেট: ২৯ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ২১:৫১
যৌনকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে তাদের প্রতি সবার দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করতে হবে। সমাজ থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন এসব মানুষ নিজেদের কথা বলতে পারে না। তাদের হয়ে আমাকে, আপনাকে এবং সরকারকে কথা বলতে হবে। তাদের প্রয়োজনগুলো মেটাতে হবে। তাদের আইনগত স্বীকৃতির পাশাপাশি সামাজিকভাবেও স্বীকৃতি দিতে হবে।
গত ১৬ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকালের সভাকক্ষে ‘যৌনকর্মীদের জীবনমান উন্নয়নে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল আলোচনায় বক্তারা এসব কথা বলেন। ইউএন উইমেন-এর সহযোগিতায় যৌথভাবে এর আয়োজন করে অপরাজেয় বাংলাদেশ ও সমকাল।
হালিদা হানুম আখতার
যৌনকর্মীর পেশাটা নতুন কোনো বিষয় না।
বাংলাদেশে প্রায় দুই লাখ যৌনকর্মী আছে। তাদের মধ্যে প্রায় ২৯ হাজার অপ্রাপ্তবয়স্ক। সংখ্যাটা কিন্তু বিরাট। তারা কোনো ধরনের সুরক্ষার আওতায় নেই। তারা ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠী। তাদের সেবাগ্রহীতারাও ঝুঁকিতে আছে। স্বাধীনতার পরপরই পাকসেনাদের ধর্ষণের শিকার হয়ে অন্তঃসত্ত্বা নারীদের পাঁচ মাস সেবা দেওয়ার একটা সুযোগ হয়েছিল। তখন আমরা দেখেছিলাম, এই নারীদের সমাজ কী চোখে দেখছে। সেই নারীদের অনেকের সন্তান হয়েছে, আবার অনেকের গর্ভপাত করা হয়েছে। কিন্তু তাদের পরিবার তাদের নিতে আসেনি। যুদ্ধের এই বীরাঙ্গনাদের প্রতি সমাজের যে অবজ্ঞা ও ঘৃণা আমি তখন দেখেছিলাম। তাহলে যৌনকর্মীদের কী চোখে দেখে সমাজ, তা সহজে অনুমেয়। বর্তমান চিত্রটা ভয়াবহ। এই নারীরা এ দেশের নাগরিক, এ দেশের মানুষ। তারা কোন কর্ম করেন, সেটা বড় কথা না। তার যেটা অধিকার, সেটা তাকে দিতে হবে। এই অধিকারটা যিনি দেবেন, তার মানসিকতায় পরিবর্তন জরুরি। তা না হলে তাদের অধিকার নিশ্চিত করা যাবে না। যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা ব্যক্তি, প্রতিষ্ঠান ও সংস্থাগুলোকে একটা প্ল্যাটফর্মের অধীনে আনতে হবে। এই প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে কে কোন কাজ করছে, সুবিধাভোগীদের চাহিদা কী, কোথায় ঘাটতি আছে– সেটা জানা যাবে।
এখনও মানুষের মধ্যে যৌনকর্মীদের অধিকার নিয়ে সচেতনতার অভাব রয়েছে। তাদের নিয়ে গবেষণা করতে হবে। গবেষণার ফল প্রতিটি মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কাছে পাঠাতে হবে। নীতিনির্ধারণী পর্যায়ে যারা আছেন, তাদের কাছে যেতে হবে।
মো. মাহমুদুল হাসান
ইউনাইটেড নেশনস কনভেনশন অন রাইটস অব চিলড্রেন (ইউএনসিআরসি) অনুযায়ী, জন্মনিবন্ধন একটি শিশুর জন্য মৌলিক অধিকারের একটি।বাংলাদেশেও এটি স্বীকৃত। তবে বাবা-মায়ের জন্মনিবন্ধন না থাকা কিংবা স্থায়ী ঠিকানা না থাকার কারণে যৌনকর্মীদের সন্তানদের ক্ষেত্রে জন্মনিবন্ধনে বাধা আসত। সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো মানসিকতা। কারণ জন্মনিবন্ধন রেজিস্টার হিসেবে যারা কাজ করেন, তাদের অনেকে বিষয়টি সহজভাবে নিতে পারেননি। তবে এ নিয়ে অনেক কথা বলায় বিষয়টি এখন কিছুটা সহজ হয়েছে। এখন কোনো শিশুর বাবা-মা না থাকলেও রেজিস্ট্রেশন সম্ভব। জন্মনিবন্ধন হলো প্রাথমিক ধাপ। এর মাধ্যমে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র, ভোটার রেজিস্ট্রেশন বা পরবর্তী সেবা পাওয়ার আইনগত স্বীকৃতি পায়। এই বিষয়টি সরাসরি আমাদের মন্ত্রণালয় দেখভাল করে। কাজেই এ বিষয়ে আমরা সহযোগিতা করতে পারব।
সামাজিক সুরক্ষা প্রোগ্রামগুলো বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন। প্রধানতম মন্ত্রণালয় হলো সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। এ ছাড়া ত্রাণ ও পুনর্বাসন মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়সহ অন্যান্য মন্ত্রণালয়েরও কিছু কিছু কাজ আছে। তবে সব প্রোগ্রাম বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে আমাদের মন্ত্রণালয় জড়িত। কীভাবে? কারণ স্থানীয় সরকার বিভাগের আওতাধীন স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলো– ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদ এবং পৌরসভা এগুলো বাস্তবায়নে এবং সুবিধাভোগীদের তালিকা তৈরিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কাজেই যারা সামাজিকভাবে দীর্ঘদিন ধরে নিগৃহীত, তাদের মূলধারায় আনতে এই নেটওয়ার্কের আওতায় এসব প্রতিষ্ঠান কাজ করতে পারবে।
মো. মাহবুবুল হক
মানুষ হিসেবে সবার অধিকার রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিকভাবে সুরক্ষিত থাকলেও কিছু কিছু ক্ষেত্রে আইনি অস্পষ্টতা ও সুনির্দিষ্ট ব্যাখ্যা না থাকায় এর ব্যতিক্রম ঘটছে।যৌনকর্মীরা এর একটি উদাহরণ। এই পেশার সঙ্গে জৈবিক চাহিদা জড়িত। কাজেই এই পেশা সম্পূর্ণভাবে বিলোপ করা সম্ভব নয়। তবে এটি যেন আমাদের সমাজের ব্যাধি হিসেবে দেখা না দেয়, আগামী প্রজন্মের ক্ষতির কারণ না হয়, এ জন্য এটাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সে ক্ষেত্রে সরকারি-বেসরকারি অনেক উদ্যোগ রয়েছে। আশার কথা হলো, ১৫ বছর আগেও এ বিষয় নিয়ে এভাবে কথা বলা যেত না। এখন অবস্থার পরিবর্তন ঘটেছে– এটা স্বীকার করতে হবে। যৌনকর্মীদের নিয়ে যারা কাজ করছেন, তাদের একটা নেটওয়ার্কের মধ্যে আনতে হবে। কেননা এই ক্ষেত্রটা সারাদেশে অনেক বিস্তৃত। তাদের নিয়ে গবেষণার পরিধি বাড়াতে হবে। পাশাপাশি সরকারেরও ভূমিকা রাখতে হবে। এ ক্ষেত্রে মূল ভূমিকা নেবে সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়। সরকারের যে বিভিন্ন সামাজিক সুরক্ষা বা সামাজিক নিরাপত্তা কর্মসূচি আছে, তাতে এসব যৌনকর্মী অন্তর্ভুক্ত করার ক্ষেত্রে এনজিও প্রতিষ্ঠানগুলো সাহায্য করতে পারে।
ওয়াহিদা বানু
আমরা জামালপুরে ২০০০ সালে কাজ শুরু করেছি। তখন জামালপুরে ৩০০ জন যৌনকর্মী মা ছিলেন এবং ২৬৭ শিশু ছিল।জামালপুর সিটি করপোরেশন থেকে আমাদের জমি দেয় এবং কমিউনিটির সহযোগিতায় আমরা সেখানে দুটি শেল্টার হোম পরিচালনা করছি। আমাদের লক্ষ্য ছিল, কোনো শিশু তার মায়ের পেশায় যাবে না। শেল্টার হোমে শিশুদের খাবার ও লেখাপড়ার ব্যবস্থা করা হয়েছিল। ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও টিডিএইচ ইতালির ফান্ডিংয়ে এটা আমরা করেছিলাম। ২০১৬ সালে এসে এই অর্থায়ন বন্ধ হয়ে যায়। ২৬৭ শিশু শিক্ষিত হয়ে দক্ষতা অর্জনের মাধ্যমে বিভিন্ন পেশায় যুক্ত হয়েছে। কোনো শিশু তাদের মায়ের ব্যবসায় বা পেশায় ফিরে যায়নি। কারও বাল্যবিয়ে হয়নি, কেউ মাদক কিংবা পাচার ব্যবসায়ে যুক্ত হয়নি। যে ১০ জন এখনও আমাদের শেল্টার হোমে আছে, তারা উচ্চ মাধ্যমিক এবং নার্সিং-এ পড়ছে, পাশাপাশি ইন্টার্ন করছে। এই শিশুদের কেউই তার মায়ের পেশায় ফিরে যায়নি। ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় আমাদের গবেষণায় যৌনকর্মী মায়েদের সন্তানদের স্বেচ্ছাসেবক হিসেবে কাজে লাগিয়েছি। বর্তমানে স্বল্পমেয়াদি কিছু কাজ করছি। যেসব যৌনকর্মী মায়েদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট এবং হেলথ চেকআপের ব্যবস্থা করছি। প্রতি মাসে আমরা প্রশাসনের সঙ্গে বৈঠকে এই মায়েদের রাখি। এই নারীরা পুনর্বাসিত হতে চান। তবে যেখানে তাদের পরিচিত মানুষজন আছেন, সেখানে তারা যেতে চান না। তখন আমরা ৩০ জন করে তাদের পছন্দের ভিত্তিতে তিন মাস করে ট্রেনিং দিই। গত আগস্ট মাসে ১৫ জন মা ব্যবসা শুরু করেছেন। বেশির ভাগ মা-ই লেখাপড়া জানেন না। এ কারণে আমরা বয়স্ক শিক্ষা চালু করেছি। স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষার পাশাপাশি ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করে তাদের পুনর্বাসনের ব্যবস্থা করব। ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়েশিশু যেন এ পেশায় না আসে– এ বিষয়ে আমরা সচেতন আছি।
ফারজানা বাশার
২০২৪ সালে ইউএন উইমেনের সহযোগিতায় জামালপুরের একটি যৌনপল্লির ২০০ যৌনকর্মী ও ৫০ অংশীজনের ওপর আমরা অপরাজেয় বাংলাদেশ থেকে গবেষণা করেছি।গবেষণা থেকে দেখছি, ওই যৌনপল্লিতে শিশু বয়সেই যৌন পেশায় যুক্ত হন ৪৫ শতাংশ নারী। তাদের মধ্যে ১১ থেকে ১৪ বছর বয়সের মধ্যে এই পেশায় যুক্ত হয় ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ মেয়ে। এ ছাড়া ১৫ থেকে ১৭ বছর বয়সের ২৬ দশমিক ৫ শতাংশ মেয়ে এই পেশায় প্রবেশ করে। অন্যদিকে, ৩৮ শতাংশ নারী ১৮ থেকে ২১ বছর এবং ১০ শতাংশ নারী ২২ থেকে ২৫ বছর বয়সে এ পেশায় আসেন।
যৌনকর্মীদের মধ্যে ৪৯ শতাংশ মাসে ৫ থেকে ১০ হাজার টাকা আয় করেন। ৩২ দশমিক ৫ শতাংশ নারী আয় করেন ১০ থেকে ১৫ হাজার টাকা। ১২ শতাংশ যৌনকর্মী ১৫ থেকে ২০ টাকা। ৯৩ দশমিক ৫ শতাংশের বিকল্প কর্মসংস্থানের সুযোগ নেই। মাত্র ১২ জন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ের সঙ্গে জড়িত।
গত ১২ মাসে মাত্র ২২ জন স্বাস্থ্যসেবা পেয়েছেন। স্বাস্থ্যসেবা না পাওয়াদের মধ্যে ৮৯ জন কোনো কারণ জানাননি। ৩৪ জন কারণ জানাতে অস্বস্তি বোধ করেছেন। ২৮ জন সেবাস্থান কোথায়, তা জানতেন না। ১৫ জন টাকার অভাবের কথা বলেছেন। ২৮ জন সময় মেলেনি বলে জানিয়েছেন। দূরত্বের কারণে স্বাস্থ্যসেবা নিতে যাননি ছয়জন। ১৮১ জন শৈশবে যৌন নির্যাতনের শিকার হননি, তবে ১৫ জন শিকার হয়েছেন। উত্তর দেননি তিনজন। অন্যদিকে, এই পেশায় আসার পর একবার হলেও সহিংসতার শিকার হয়েছেন ১০৮ জন। কয়েকবার সহিংসতার মুখোমুখি হয়েছেন ২৭ জন। ১৬ জন বহুবার সহিংসতার শিকার হয়েছেন। উত্তর দেননি ৪৯ জন। এ ছাড়া কয়েকবার জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনের ঘটনা ঘটেছে ১৯০ জনের সঙ্গে। আটজনের সঙ্গে এ ঘটনা ঘটেছে বহুবার। এ বিষয়ে কথা বলতে রাজি হননি দুজন।
অংশগ্রহণকারী কর্মীদের মধ্যে কেউই সামাজিক নিরাপত্তা সুবিধা পাননি। শুধু সরকারি ত্রাণ পেয়েছেন ২০ জন। ৮৩ জন কম এবং ৬৮ জন খুব কম ত্রাণ পেয়েছেন। কখনও পাননি ২৮ জন। প্রধান চাহিদা হিসেবে তারা জাতীয় পরিচয়পত্র, সহিংসতা থেকে সুরক্ষা, নিরাপদ আশ্রয়, শিশুদের শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, জন্মনিবন্ধন, মানসিক সহায়তা, জীবন দক্ষতার প্রশিক্ষণ, কারিগরি প্রশিক্ষণ, প্রাথমিক শিক্ষা, বিকল্প কর্মসংস্থান, আর্থিক সহায়তা এবং শিশুদের জন্মনিবন্ধনের বিষয় উল্লেখ করেছেন।
ফওজিয়া খোন্দকার
যৌনকর্মীদের আইনি বৈধতার আগে সামাজিক বৈধতা প্রয়োজন। যেসব নারী এই পেশায় থাকতে চান, তারা যত কমই হোন না কেন, তাদের কিন্তু আমাদের সেই মর্যাদাটা দিতে হবে। সামাজিক বৈধতা এবং গ্রহণযোগ্যতা– এ দুটি নিয়েই আমাদের কাজ করা দরকার। যারা এই পেশায় জড়িত, তাদের নানা ধরনের উপাধি দেওয়া হলেও তাদের কাছে যারা যান, তাদের কোনো উপাধি নেই। তারা কেন যাচ্ছেন, সেই গবেষণাও আমরা করি না। এ ছাড়া যৌনকর্মীরা প্রায়ই নানা ধরনের নির্যাতনের শিকার হন। এই বিষয়টা গুরুতর। এ বিষয়ে সরকার এবং যারা তাদের নিয়ে কাজ করছেন– এ দুইয়ের সমন্বয়ে একটা পরিকল্পনা দরকার।
খোদেজা খানম
যৌনকর্মীরা স্বাভাবিক জীবনে ফিরে যেতে চান। কেননা তাদের বেশির ভাগই এই জীবনে সন্তুষ্ট নন। দেখা যায়, অর্ধেক যৌনকর্মীই শিশু বয়সে এই পেশায় যুক্ত হতে বাধ্য হন।যৌনপেশায় যারাই যুক্ত, তাদের প্রায় সবাইকেই জোরপূর্বক যৌন সম্পর্ক স্থাপনে বাধ্য করা হয়েছে। যৌনকর্মীরা ধর্ষণের শিকার হলে তাদের আইনের আওতায় ফেলা কঠিন। কেননা বলা হয়, এটাই তাদের কাজ। তাহলে কি সে আইনগত অধিকার পাবে না? যৌনকর্মীদের বেশির ভাগ নারী বিবাহিত এবং তালাকপ্রাপ্ত। এসব নারী বাধ্য হয়ে এই পেশায় থাকছেন। বেশির ভাগ যৌনকর্মী সহিংসতার শিকার হন তাদের সর্দারনীর দ্বারা। তারা নানা ক্ষেত্রে বিভিন্ন ধরনের অপরাধের শিকার হন।
ডা. মো. সুলতান আহম্মদ
যৌনকর্মীরা আমাদের সমাজের ঝুঁকিপূর্ণ ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠী। তারা অধিকাংশ সময়ে সমাজে অবহেলিত ও বৈষম্যের শিকার। তারা স্বাস্থ্যসেবা থেকে বঞ্চিত।তাদের স্বাস্থ্যসেবা ও জীবনমানের উন্নয়ন নিশ্চিত করা আমাদের সবার দায়িত্ব। তাদের জন্য নিরাপদ গর্ভনিরোধক নিশ্চিত করা, স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা এবং যৌন ও প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা সহজলভ্য করা অপরিহার্য। পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর ইতোমধ্যেই মাঠ পর্যায়ে প্রজনন স্বাস্থ্যসেবা দিচ্ছে। তাদের জন্য ওই সেবা প্রদান আরও জোরদার করা দরকার। ইউনিয়ন পর্যায়ে আমাদের মন্ত্রণালয়ে ৩ হাজার ২৯১টি ইউনিয়ন হেলথ অ্যান্ড ফ্যামিলি ওয়েলফেয়ার সেন্টার আছে। সেখানে আমাদের মেডিকেল অফিসারসহ অন্য কর্মীরা সেবা দিয়ে থাকেন। আমরা চেষ্টা করব, যৌনকর্মীদের কেউ ইউনিয়ন, উপজেলা ও জেলা পর্যায়ের সেন্টারে গেলে তাদের যেন সহজে সেবা দেওয়া হয়।
যৌনকর্মীরা এইচআইভি ও এসটিআইর ঝুঁকিতে রয়েছেন। তাদের চিকিৎসা গ্রহণে সামাজিক প্রতিবন্ধকতা কমানো জরুরি। সামাজিক বৈষম্য, অপমান ও অনিশ্চয়তা তাদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর গভীর প্রভাব ফেলে। তাদের কাউন্সেলিং এবং মানসিক সেবা কার্যক্রম চালু করা উচিত। আমাদের কাউন্সেলিং ব্যবস্থা আছে। সেখানে নারী ডাক্তাররাই কাউন্সেলিং করান। জীবিকা, দক্ষতা উন্নয়ন ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে তাদের অন্তর্ভুক্তি নিশ্চিত করা প্রয়োজন। একই সঙ্গে সচেতনতা বাড়ানো হবে।
অধ্যাপক ইশরাত শামীম
কম বয়সী মেয়েদের এসব যৌনপল্লিতে বিক্রি করে দেওয়া হয়। শতভাগ না হলেও আমার মনে হয়, ৯০ শতাংশ ক্ষেত্রেই এসব কিশোরীকে যৌনকর্মী হিসেবে বিক্রি করে দেওয়া হয়। তারা ইচ্ছা করে ঢোকেনি। ডকুমেন্টে লেখা থাকে, ‘আমার বয়স ১৮ বছর। আমার অন্য কোনো কিছু নেই বলে আমি ইচ্ছাকৃতভাবে এই পেশায় ঢুকেছি।’ এটা ভুয়া কথা। আমাদের যে আইন, তাতে এই বিষয়টি আইনসিদ্ধও না, আবার বেআইনিও না।
যৌনকর্মীদের প্রতি সবার দৃষ্টিভঙ্গি বদলাতে হবে। তাদের যদি পুনর্বাসন করতেই হয়, তাহলে অন্যভাবে করতে হবে। তাদের এমন কোনো স্থানে পুনর্বাসন করতে হবে, যেখানে তারা সম্মানের সঙ্গে বাঁচতে পারে। তারা বলেন, ‘ব্যবসা করি আর যা-ই করি, তা অন্য জায়গায় করব।’ তাদের অন্য স্থানে নিয়ে গেলে, তারা নিজেদের দায়িত্ব নিজেরা নিতে পারবেন।
তানিয়া হক
গবেষণা আমাদের বলছে যে, পিতৃতান্ত্রিকতা, দারিদ্র্য এবং নীতিমালার সংকট বা স্থবিরতা– এই তিনটি জিনিস প্রভাব ফেলায় যৌনকর্মীদের জীবন এত কষ্টের। তাদের সন্তানরাও তাদের পরিচয়ে পরিচিত হতে প্রস্তুত থাকে না। আমরা তাদের অধিকার ও সুযোগ-সুবিধা দেওয়ার বিষয়ে কথা বলছি।কিন্তু তাদের আইনি বৈধতা না দেওয়া পর্যন্ত তাদের সামাজিক বৈধতা প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব নয়। এটা হলো সর্বপ্রথম চ্যালেঞ্জ। যৌনকর্মীদের নিয়ে আমাদের কাছে কোনো সমন্বিত তথ্য নেই। তাদের নিয়ে গবেষণায় ‘ইন্টারসেকশনাল লেন্স’ ব্যবহার করতে হবে। তাদের প্রয়োজনগুলোকেও বিশ্লেষণ করতে হবে। এর দুটি অংশ। একটি হলো পেশা হিসেবে তারা তাদের প্রয়োজনগুলো পূরণ করতে পারছে কিনা। আরেকটি হলো যদি তাদের প্রয়োজনীয়তা পূরণ না হয়, সে ক্ষেত্রে কীভাবে তাদের পুনর্বাসন করব, এটা দেখতে হবে। এই সবকিছু বিশ্লেষণ করে নীতিনির্ধারণ করতে হবে।
সেলিমা সুলতানা
আমরা দীর্ঘদিন ধরে যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করছি। তবে যৌনপল্লির কর্মীদের নিয়ে নয়, আমরা কাজ করি হোটেলে ভাসমান যৌনকর্মীদের নিয়ে। ২০২২ সালে করা একটা জরিপে দেখা গেছে, দেশে প্রায় ১ লাখ ৯ হাজার যৌনকর্মী রয়েছে। তবে যৌনপল্লির সংখ্যাটা খুবই কম।তবে সেখানে সরকারের সামাজিক সুরক্ষার কোনো প্রোগ্রাম নেই। এসডিজির ৩ নম্বর লক্ষ্য হলো সুস্বাস্থ্য ও কল্যাণ নিশ্চিত করা। কিন্তু যৌনকর্মীরা সেভাবে স্বাস্থ্যসেবা পান না। যৌনকর্মীদের মানসিক স্বাস্থ্যও গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। সে ক্ষেত্রে এ বিষয়টি নিয়েও তাদের জন্য প্রোগ্রাম ডিজাইন করা যেতে পারে। দরকার হলে তাদের জন্য হেল্পলাইন চালানো যেতে পারে।
অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার
কেন নারীরা এই পেশায় আসছেন, সে বিষয় নিয়ে গবেষণা প্রয়োজন। মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। সরকারের অনেক প্রকল্প আছে। তবে মূল সমস্যা হলো দৃষ্টিভঙ্গি। এই দৃষ্টিভঙ্গি ঠিক করতে আমাদের সমষ্টিগতভাবে কাজ করা প্রয়োজন।
রাজনৈতিক প্রেক্ষাপট পরিবর্তনের পরে ভাসমান যৌনকর্মীরা নানাভাবে আক্রান্ত হয়েছেন। এ নিয়ে যদিও নানা সংগঠন প্রতিবাদ করেছে। সামাজিকভাবে যে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন, এ বিষয়ে উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন। কোনো যৌনকর্মী যদি যৌন সহিংসতার শিকার হন, একজন নারী হিসেবে তিনি সুরক্ষা পাওয়ার অধিকার রাখেন। এ ক্ষেত্রে আইনগত প্রক্রিয়ার সঙ্গে যারা জড়িত, তাদের দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা দরকার।
জাহানারা খাতুন
সব যৌনপল্লি কোনো না কোনো ব্যস্ত এলাকায় অবস্থিত। এই জায়গাগুলোর বাজারমূল্য অনেক। মূলত জায়গাটা দখলের জন্য যৌনপল্লি উচ্ছেদ করা হয়। দেশের যৌনপল্লিগুলোতে লক্ষাধিক যৌনকর্মীর হিসাব পাওয়া গেলেও ভাসমান কর্মীদের হিসাব আমাদের কাছে নেই।তাদের সংখ্যা অনেক। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানের পরে তারা রাস্তায় যেতে পারেননি। সংহতির পক্ষ থেকে সমাজকল্যাণ উপদেষ্টার সঙ্গে আমরা দেখা করি। আমরা ২ হাজার ৯৪ জনের একটি তালিকা তাঁকে দিই। তিনি তাদের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে দুই কোটি টাকার বেশি বরাদ্দ দিয়েছেন। এই টাকা দিয়ে সেই যৌনকর্মীরা নিজেদের নামে ব্যাংক অ্যাকাউন্টও খুলেছেন। এই নারীদের স্বীকৃতি দিতে হবে। এটা করা হলে তারা তাদের অধিকার দাবি করার সুযোগ পাবেন। পেশাটাকে অপরাধমুক্ত করতে হবে।
ওসমান গনি
স্বীকৃতি না হলে যৌনকর্মীদের জীবনমান উন্নয়ন সম্ভব নয়। স্বীকৃতি পেলে তারা সামাজিক, স্বাস্থ্য ও আইনগত সেবা পাবেন। কেননা তৃতীয় লিঙ্গের জনগোষ্ঠী স্বীকৃতি পাওয়ার আগে অনেক সেবা থেকে বঞ্চিত ছিলেন। সংবিধানের ৪০ নম্বর অনুচ্ছেদে পেশা ও বৃত্তির কথা বলা আছে।যৌন পেশাকে একটা শৃঙ্খলার মধ্যে আনতে হবে। কেউ যদি স্বেচ্ছায় এই পেশায় আসতে চান, তাকে বৈধভাবে আসতে হবে। তাদের লাইসেন্স দেওয়া হবে। এ ক্ষেত্রে তাদের জন্মনিবন্ধনের বিষয়টি নিশ্চিত করতে হবে। যাতে করে কম বয়সের মেয়েদের এফিডেভিট করে ১৮ বছরের বেশি না দেখানো যায়। তারা মারা গেলে কেউ কবর দিতে চায় না। এ বিষয়ে উদ্যোগ নিতে হবে।
মো. মজিবুর রহমান খান
যৌনপল্লিগুলোতে এসটিআই (সেক্সুয়ালি ট্রান্সমিটেড ইনফেকশন), সহিংসতাসহ খারাপ সবকিছুই আছে, ভালো কিছুই নেই। এই অনুষ্ঠানে উত্থাপিত গবেষণাপত্রে বলা হয়েছে, জামালপুরের যৌনপল্লির ৮০ শতাংশ নারী গত এক বছরে কোনো ধরনের স্বাস্থ্যসেবা পাননি।এটা উদ্বেগের বিষয়। যৌনকর্মীদের নিয়ে সরকারি একটি প্রকল্প ছিল, সেটিও বন্ধ। এই সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য যৌনকর্মীদের নিয়ে কাজ করা সংগঠনগুলোকে এক প্ল্যাটফর্মে আসতে হবে। সবাইকে একত্রভাবে সরকারের কাছে এসব নারীর সমস্যার কথা তুলে ধরতে হবে।
মো. কামরুজ্জামান
আলোচনায় উত্থাপিত গবেষণায় দেখা গেছে, অংশগ্রহণকারী ২০০ যৌনকর্মীর মধ্যে ১০২ জন এসটিআই পরীক্ষা করাননি। এইডসসহ অন্যান্য রোগ ছড়ানোর বড় একটি ক্ষেত্র এটি। আমাদের প্রতিষ্ঠানের পক্ষ থেকে আমরা যৌনকর্মীদের এসটিআই পরীক্ষা করে থাকি। এই পরীক্ষার সংখ্যা বাড়ালে এসব নারী বিভিন্ন রোগের ঝুঁকি থেকে মুক্ত থাকবেন।
জুলফিকার আলী
সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়, স্থানীয় সরকার এবং স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়– এই চারটি মন্ত্রণালয়ের যৌথ প্রয়াস যদি না থাকে, তাহলে আমরা যতই চেষ্টা করি না কেন, যৌনকর্মীদের সমস্যার সমাধান সম্ভব হবে না। সেই সঙ্গে এনজিওগুলোর কাজও সমন্বিত হতে হবে।কেননা একটি এনজিও হয়তো একটি জায়গায় অল্প কিছু যৌনকর্মী মায়ের সুরক্ষায় কাজ করতে পারবে। কিন্তু সারাদেশের লক্ষাধিক যৌনকর্মীর সুরক্ষা দিতে পারবে না। এ জন্য সরকারকে এগিয়ে আসতে হবে। আমরা হয়তো সহযোগিতা করতে পারব। যৌনকর্মীরা তদের সন্তানদের অনেক কষ্ট করে প্রতিষ্ঠিত করে। কিন্তু প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর এই মায়েদের পরিচয় সন্তানেরা গোপন করে। সুরক্ষা দেওয়ার জন্য তারা মায়েদের পাশে থাকে না। এ বিষয়েও সচেতনতা তৈরি জরুরি।
জয়া সিকদার
যৌন পেশা নিয়ে অনেকে অনেক কথা বলেন। কিন্তু এই পেশা কি আমরা তৈরি করেছি?
সমাজে আমাদের জায়গা নেই, সমস্ত দায় আমাদের? আমাদের কাছে যারা আসেন, তারা কেন আসেন? তারা আসেন, কারণ এটা তাদের প্রয়োজন। কিন্তু এটা নিয়ে কি কোনো গবেষণা আছে? যৌনকর্মীদের পুনর্বাসন করা বা অন্যান্য সুবিধা দিয়ে এই পেশা বন্ধ করা যাবে না। যৌনকর্মীদের সামাজিক মর্যাদা দিতে হবে। আত্মসম্মান নিয়ে বাঁচার সুযোগ দিতে হবে।
মো. মফিজ
যৌনপল্লির নারীদের নানা সমস্যার বিষয় আমি দেখি।
কেউ অসুস্থ হলে, মারা গেলে বা বিভিন্ন বিষয় আমি দেখি। কিন্তু আগে কিছু স্বাস্থ্যসেবা পেলেও এখন তা কমে গেছে। এই নারীদের প্রয়োজনীয় ওষুধ ও স্বাস্থ্যসেবা দিতে হবে। এ ছাড়া যাদের বয়স বেড়ে গেছে, তাদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করতে হবে।
মিস ফাতেমা
জামালপুরের যৌনপল্লিতে ১৮ বছরের নিচে কোনো মেয়ে ঢুকতে পারে না।
আমরা কম বয়সী মেয়েদের আসতে দিই না। কারণ আমার মতো অন্য কারও সন্তান যেন এই পথে পা না বাড়ায়। অপরাজেয় বাংলাদেশের পক্ষ থেকে আমাদের যৌনপল্লির নারীদের জাতীয় পরিচয়পত্র, ব্যাংক অ্যাকাউন্ট, শিশুদের জন্মনিবন্ধন ও ট্রেনিংয়ের ব্যবস্থা করছে। ট্রেনিংয়ের পর কিছু কিছু মাকে টাকা দিয়ে ব্যবসারও ব্যবস্থা করে দিয়েছে। আমিও ব্যবসা করছি।
আনিশা আক্তার নিতু
যৌনকর্মীদের সন্তানরা পাচারের শিকার হচ্ছে।
এ ক্ষেত্রে যৌনকর্মীদের নিজেদেরই সংগঠিত হতে হবে। আমাদের নিজেদের দাঁড়ানোর জায়গা করতে হবে। এটা করা গেলে নিজেদের দাবি জানানো সহজ হবে, বিকল্প কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করা যাবে। দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা নিয়ে এগোতে হবে।
সুপারিশ
যৌনকর্মীদের নীতিনির্ধারণে অংশগ্রহণ, আইনি সহায়তা ও মানবাধিকার সুরক্ষা নিশ্চিত করা।
নিরাপদ কর্মপরিবেশ, স্বাস্থ্যসেবা ও শিক্ষা সুবিধা নিশ্চিত করা।
আইনি ও সামাজিক স্বীকৃতি দেওয়া। সামাজিক সুরক্ষা, ভাতা প্রদান ও পুনর্বাসন করা।
বয়স্কদের জন্য বৃদ্ধাশ্রম সুবিধা। আশ্রয়ের পর বিকল্প জীবিকায় যুক্ত করা। প্রয়োজনে অর্থ সহায়তা ও ক্ষুদ্র ব্যবসার সুযোগ করে দেওয়া।
দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তনে সচেতনতা কার্যক্রম বৃদ্ধি।
স্বাস্থ্য ও সামাজিক সেবা সহজলভ্য করা।
সম্মানজনক দাফনের নিশ্চয়তা।
শিশুদের জন্য শিক্ষা ও কাউন্সেলিংয়ের ব্যবস্থার পাশাপাশি জাতীয় পরিচয়পত্র ও জন্মনিবন্ধন সহজ করা।
গবেষণা, কর্মসূচি ও নীতিতে যৌনকর্মীদের সম্পৃক্ততা।
সভাপতি
ওয়াহিদা বানু
প্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক
অপরাজেয় বাংলাদেশ
আলোচক
ড. হালিদা হানুম আখতার
সদস্য, নারীবিষয়ক সংস্কার কমিশন
মো. মাহমুদুল হাসান
মহাপরিচালক, পরিকল্পনা, পরিবীক্ষণ, মূল্যায়ন ও পরিদর্শন অনুবিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ
মো. মাহবুবুল হক
উপসচিব, মহিলা ও শিশুবিষয়ক মন্ত্রণালয়
ডা. মো. সুলতান আহম্মদ
পরিচালক (এমসিএইচ-সার্ভিসেস ইউনিট)
পরিবার পরিকল্পনা অধিদপ্তর
অধ্যাপক ইশরাত শামীম
প্রেসিডেন্ট, সেন্টার ফর উইমেন অ্যান্ড চিলড্রেন স্টাডিজ (সিডব্লিউসিএস)
তানিয়া হক
অধ্যাপক, জেন্ডার অ্যান্ড উইমেন স্টাডিজ বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
ফওজিয়া খোন্দকার
নির্বাহী পরিচালক, প্রাগ্রসর
খোদেজা খানম
উপপরিদর্শক
ভিকটিম সাপোর্ট সেন্টার, বাংলাদেশ পুলিশ
অ্যাডভোকেট দীপ্তি শিকদার
পরিচালক, বাংলাদেশ মহিলা পরিষদ
সেলিমা সুলতানা
সিনিয়র প্রজেক্ট ম্যানেজার, সেভ দ্য চিলড্রেন
জাহানারা খাতুন
সদস্য, নারীপক্ষ
ওসমান গনি
আইনজীবী, মেট্রোপলিটন বার অ্যাসোসিয়েশন
মো. মজিবুর রহমান খান
প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, পাইঅ্যাক্ট বাংলাদেশ
মো. কামরুজ্জামান
প্রোগ্রাম ম্যানেজার, ঢাকা আহ্ছানিয়া মিশন (ড্যাম)
জুলফিকার আলী
প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, অপরাজেয় বাংলাদেশ
জয়া সিকদার
প্রেসিডেন্ট, সর্বজয়া
মো. মফিজ
কমিউনিটি লিডার, জামালপুর যৌনপল্লি
আনিশা আক্তার নিতু
সদস্য, সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্ক
মিস ফাতেমা
সদস্য, সেক্স ওয়ার্কার নেটওয়ার্ক
গবেষণা প্রবন্ধ উপস্থাপন
ফারজানা বাশার
প্রজেক্ট কো-অর্ডিনেটর, অপরাজেয় বাংলাদেশ
সঞ্চালনা
শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, সমকাল
সমন্বয়
হাসান জাকির
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল
- বিষয় :
- গোলটেবিল
