ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয় সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে

জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় স্থানীয়  সরকারের সক্ষমতা বাড়াতে হবে
×

-সাজ্জাদ নয়ন

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৩৭ | আপডেট: ০৫ নভেম্বর ২০২৫ | ০৬:৫০

| প্রিন্ট সংস্করণ

জলবায়ু পরিবর্তনজনিত ক্ষতি মোকাবিলায় স্থানীয় অভিজ্ঞতাকে কাজে লাগাতে হবে। এক্ষেত্রে বাড়াতে হবে স্থানীয় সরকার, বিশেষ করে ইউনিয়ন পরিষদের সক্ষমতা। কেন্দ্রীয়ভাবে সব সিদ্ধান্ত বাস্তবায়ন না করে স্থানীয় পর্যায়ে দায়িত্ব ছাড়তে হবে। এজন্য স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই।গত ২৪ সেপ্টেম্বর রাজধানীর তেজগাঁওয়ে সমকালের সভাকক্ষে ‘স্থানীয় জ্ঞান কাজে লাগিয়ে জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা ও টেকসই উপকূল বিনির্মাণে করণীয়’ শীর্ষক গোলটেবিল বৈঠকে এসব কথা বলেন বক্তারা। সেন্টার ফর ন্যাচারাল রিসোর্সেস স্টাডিজ (সিএনআরএস) ও সমকাল যৌথভাবে এর আয়োজন করে। সহযোগিতায় ছিল ‘ইনহ্যান্স ভয়েস ফর দ্য ইনক্লুশন অব দ্য ভালনারেবল অ্যান্ড দেয়ার এম্পাওয়ারমেন্ট (ইভলভ্)’ প্রকল্প। 

মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
জলবায়ু পরিবর্তন তহবিল পৃথিবীর বড় দেশগুলো দিচ্ছে। তবে এটি কোনোভাবেই পর্যাপ্ত নয়। এতে শুভঙ্করের ফাঁকি রয়েছে, অনেকটা বককে থালায় খাবার দেওয়ার মতো। জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা বাড়াতে হবে। 
টেকসই উন্নয়নের ‘টেকসই’ শব্দটি অনেক গুরুত্বপূর্ণ। কারণ আপনি এখন যে উন্নয়ন করেছেন, সেটি পরে কার্যকর থাকবে কিনা,  সেটি পরবর্তী উন্নয়ন কার্যক্রমকে বাধাগ্রস্ত করবে কিনা, সেই উন্নয়ন আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য উপযোগী কিনা? তা দেখতে হবে। কেননা উন্নয়ন টেকসই করা না গেলে লাভ হবে না। টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যের ১১ থেকে ১৫ নম্বর পয়েন্টে টেকসই শহর ও অর্থনীতির কথা বলা আছে। 

উৎপাদন ও ভোগের বিষয়ে দায়িত্বশীল হতে হবে। হাইব্রিড ফসলের পাশাপাশি স্থানীয় ফসলের বীজটাও সংরক্ষণ করতে হবে। এ ছাড়া উৎপাদনের পর কিছুটা নিজের জন্য রেখে বাকিটা বিক্রি করতে হবে। আমাদের একটা বড় সীমাবদ্ধতা হলো সঠিক তথ্য না থাকা। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে। কেননা এই তথ্য উন্নয়নে অনেক গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। 

আমি বাংলাদেশ মিউনিসিপ্যাল ডেভেলপমেন্ট ফান্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালকের দায়িত্বে আছি। দেশের ১৬৯টি মিউনিসিপ্যালটিতে ক্লাস্টারভিত্তিক ছোট ইন্ডাস্ট্রিজের বিষয়ে আমি অনেক দাতা সংস্থার সঙ্গে প্রোগ্রাম করেছি, দ্বিপক্ষীয় বৈঠক করেছি। আশা করছি, খুব দ্রুত এ ধরনের কিছু একটা শুরু করব; যার মাধ্যমে চীন, দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশগুলোর সীমিত একটা জায়গার মধ্যে ইন্ডাস্ট্রি ও কৃষি সব থাকবে। আবার পরিবেশেরও কোনো ক্ষতি না হয়। এ বিষয়গুলো মাথায় রেখে আমাদের যেটি করা দরকার, তা হলো ‘ল্যান্ড জোনিং’ করা। দেশে বার্ডের যে সমবায়ের ধারণা, তা এসেছে পাকিস্তান আমলে আখতার হামিদ খানের কাছ থেকে। চীন ও দক্ষিণ কোরিয়ার মতো দেশ এই ধারণা নিয়ে সমবায় করেছে। এ ধারণা থেকে তারা ২০টি ভবনের মধ্যে এক একটা শহর ঢুকিয়ে ফেলেছে। বাকি জায়গায় তারা ইন্ডাস্ট্রি করেছে। তাদের কৃষির উৎপাদন আমাদের থেকে দুই-তিন গুণ বেশি। তারা গ্রিন হাউস করে এভাবে উৎপাদন বাড়িয়েছে। আমাদেরও  অতিসত্বর পরিকল্পনা করতে হবে। 

বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলায় ইউনিয়ন পরিষদকে শক্তিশালী করা ছাড়া কোনো বিকল্প নেই। দেশের অধিকাংশ মানুষ ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে যুক্ত। তারা সেখান থেকে সরাসরি সেবা গ্রহণে অভ্যস্ত। তারা এই প্রতিষ্ঠান থেকে সেবা গ্রহণ করতে যতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন, উপজেলা-জেলায় গিয়ে তারা অতটা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না। উদাহরণ হিসেবে বলা যায়, উপকূলীয় অঞ্চলে তিন লাখ মৎস্যজীবী আছেন। মৎস্য প্রজনন মৌসুমে ৫৮ দিন সমুদ্রে মাছ ধরা বন্ধ থাকে। এই সময়টাতে তারা যেন মাছ ধরা থেকে বিরত থাকেন, সেজন্য ইউনিয়ন পরিষদের মাধ্যমে তাদের চিহ্নিত করে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা কিংবা প্রণোদনা দেওয়া যেতে পারে।  আমরা সেটি করতে পারছি না। ইউনিয়ন পরিষদের কাছে মৎস্যজীবীদের সব তথ্য থাকলে তাদের অবস্থার উন্নয়ন করা সম্ভব হতো। ইউনিয়নকে শক্তিশালী করার জন্য বাজেট বরাদ্দ করা প্রয়োজন। পরিষদগুলোতে জনবল বাড়াতে হবে। দক্ষ জনবল নিয়োগ দিতে হবে। 

 

মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন
আমরা ২০২৩ সালে উপকূল এলাকায় গবেষণা কার্যক্রম পরিচালনা করেছিলাম। গত ৩০ বছরের তথ্য বিশ্লেষণ করে এতে দেখা যায়, প্রতি বছর ৩ দশমিক ৮ থেকে ৫ দশমিক ৮ মিলিমিটার সমুদ্রের উচ্চতা বাড়ছে। এ কারণে উপকূলীয় এলাকার জনগোষ্ঠী ঝুঁকির মধ্যে আছে। জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা থেকে আমরা হিসাব করে দেখেছি, প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে প্রায় ১৯ দশমিক ৯ মিলিয়ন মানুষ ২০৫০ সালের মধ্যে বাস্তুচ্যুত হতে যাচ্ছে। বর্তমানে লবণাক্ততার শিকার হচ্ছে ২৬ মিলিয়ন মানুষ। কৃষি উৎপাদনের দিকে তাকালে দেখা যায়, ৫ দশমিক ৮ থেকে ৯ দশমিক ১ শতাংশ চাল উৎপাদন কমে যাচ্ছে। আমাদের মন্ত্রণালয় থেকে বেশ কিছু উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় বিভিন্ন ধরনের নীতিমালা ও পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে। ২০০৯-১০ অর্থবছরে এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নের জন্য একটা ট্রাস্ট ফান্ডও গঠন করা হয়েছে। ফান্ড গঠনের পর থেকে এখন পর্যন্ত সরকার প্রায় ৫০০ মিলিয়ন ডলার সমপরিমাণ অর্থ এই ফান্ডে বরাদ্দ দিয়েছে। প্রায় হাজারের ওপরে প্রকল্প বাস্তবায়ন হয়েছে এবং হচ্ছে। 

২০২২ সালে আমরা জাতীয় অভিযোজন পরিকল্পনা তৈরি করেছিলাম। এটি ছিল ২৭ বছর মেয়াদি দীর্ঘ পরিকল্পনা। এতে ১১৩টি বাধা চিহ্নিত করা হয়েছে। বিশেষ করে উপকূলীয় অববাহিকা রক্ষায় আমরা বেশ কিছু বিষয় চিহ্নিত করেছি। এ ছাড়া ‘লোকাল এরিয়া অ্যাডাপ্টেশন ফ্রেমওয়ার্ক’ নিয়ে আমরা কাজ করছি এশিয়ান ডেভেলপমেন্ট ব্যাংকের সহায়তায়। এ নিয়ে রোডম্যাপ তৈরির কাজও প্রায় শেষের দিকে। ট্রাস্ট ফান্ড থেকে নিজস্ব উদ্যোগে একটা প্রকল্পও আমরা গ্রহণ করেছি। এর মাধ্যমে এ দেশের প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে উপকূলীয় এলাকায় কী পরিমাণ ক্ষয়ক্ষতি হচ্ছে, তা চিহ্নিত করা হবে; পাশাপাশি জলবায়ুর কারণে প্রতিবছর কত সংখ্যক মানুষ উপকূলীয় এলাকা থেকে বাস্তুচ্যুত হচ্ছে সেটিও জানা যাবে। 

মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান
শুনতে হবে তাদের কথা, যাদের কথা হয়নি শোনা। অর্থাৎ যাদের নিয়ে কাজ করা হবে, তাদের কাছ থেকে আমাদের আগে শুনতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগ মোকাবিলা কিংবা জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে সৃষ্ট সমস্যা সমাধানে বাজেট দরকার। এর জন্য রাজনৈতিক সদিচ্ছা দরকার। এই সমস্যাগুলো আমরা চিহ্নিত করতে পারব, কিন্তু সমাধানে রাজনৈতিক সদিচ্ছা না থাকলে কোনো লাভ হবে না। জাতীয় পরিকল্পনা বাস্তবায়নে স্থানীয় ক্ষেত্রে রাজনৈতিক সংযুক্তি প্রয়োজন। বাজেট প্রণয়নের ভিত্তিটাই আজ পর্যন্ত ঠিক হয়নি। বাজেট কিসের ভিত্তিতে প্রণয়ন হয়? প্রকল্প, জনপ্রতি নাকি এলাকাভিত্তিক–কোন ভিত্তিতে হচ্ছে? কোন জায়গায় কী পরিমাণ বাজেট দরকার, সেটি আগে থেকে হিসাব করা হয়? স্বাস্থ্য অর্থনীতি ইউনিট থেকে একটি হিসাব করে বের করা হয়েছে যে, জনপ্রতি ৫০ ডলার বরাদ্দ করা গেলে ন্যূনতম প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে। জলবায়ুর বিষয়ে এ ধরনের কোনো কিছু করা হয়েছে কিনা। উপকূল অঞ্চলের বিনির্মাণে স্থানীয় জ্ঞানের প্রয়োজন আছে। এই জ্ঞান কোন মেকানিজমের মাধ্যমে করতে হবে, তা ঠিক করতে হবে। আবার ঠিকও যে হয়নি, তা নয়। প্রকল্প বাস্তবায়ন হবে, সেখানকার বিভিন্ন জ্ঞান নিয়ে বিভিন্ন দরবারে কথা বলব–এটিই মেকানিজম। এভাবে করা গেলে হয়তো আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাতে পারব।

 

শাহরিয়ার মান্নান
রাজনৈতিক সদিচ্ছা ছাড়া জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলের বিষয়গুলো সমাধান করা সম্ভব নয়। আসলে রাজনৈতিক নেতাদের কমিটমেন্ট প্রয়োজন। আমরা যে পরিকল্পনা করব, সেটি যেন অন্তর্ভুক্তিমূলক হয়। কোন দলের কে প্রতিনিধিত্ব করছেন এবং কে কোন পেশার, সেটি দেখার বিষয় নয়। যে কোনো উন্নয়ন করতে হলে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ অবশ্যই জরুরি। এক্ষেত্রে মন্ত্রণালয়গুলোর মধ্যে যেমন সমন্বয় প্রয়োজন, বিভাগগুলোর মধ্যেও তেমন সমন্বয় প্রয়োজন। স্থানীয় পর্যায় থেকে শুরু করে জেলা পর্যায়ে কিংবা জাতীয় পর্যায়–সব পর্যায়ে বাজেট বিকেন্দ্রীকরণ আসলে কীভাবে হবে, সেটিও একটি প্রশ্ন থেকে যায়। 

বাজেট বরাদ্দের ক্ষেত্রে জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে যে ইউনিয়নগুলো আছে, তাদের জন্য একটি বিশেষ বরাদ্দ রাখা যেতে পারে। কারণ দুর্যোগ ঝুঁকি মোকাবিলার ক্ষেত্রে দুর্যোগের পরে বাজেট দেওয়া হয়। প্রাকৃতিক দুর্যোগ ছাড়াও সারা বছর এসব ইউনিয়নের মানুষ ঝুঁকির মধ্যে দিয়ে যায়। এর জন্য বিশেষ বাজেট বরাদ্দ প্রয়োজন। শুধু অবকাঠামোর জন্য নয়, ইউনিয়ন পর্যায়ে বাজেটের ক্ষেত্রে স্থানীয় জনগণের চাহিদাও বিবেচনায় রাখতে হবে।

মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান
আমাদের প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অভিযোজন ও প্রশমনের একটি ম্যাপিং করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকার বা অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব খরচও ম্যাপিং করা প্রয়োজন। সাধারণ মানুষের বাজেটকেও স্বীকৃতি দিতে হবে। ঝড় এলে কারও বাড়ি ভেঙে গেলে সংসারের অন্য কাজের জন্য জমানো টাকা বাড়ি ঠিক করতে ব্যবহার করা হয়। এভাবে প্রতিবছর তিনবার করে ঝড়ে তাঁর ঘর ভেঙে গেলে সংসারের অন্য খাতের টাকা ব্যবহার করতে হয়। সেই টাকা ব্যয়ের একটি ম্যাপিং করা দরকার। ২০২৪ সালে আগস্টের পরে যখন বন্যা হয়, বাংলাদেশের একটা প্যারাডাইম চেঞ্জ হয়ে গেল। তখন একটা দাতব্য সংস্থা একাই এক সপ্তাহে ১০০ কোটি টাকা উত্তোলন করেছিল। বাংলাদেশের মানুষের কাছে টাকা আছে। সাধারণ মানুষের যে টাকাটা, তা বাজেটে স্বীকৃতি দেওয়া হোক। কোনো এলাকার উন্নয়ন করতে গেলে সেই এলাকা জলবায়ুর পরিবর্তনকেও বুঝতে হবে। সেক্ষেত্রে স্থানীয় রাজনৈতিক নেতাদের সম্পৃক্ততা গুরুত্বপূর্ণ। 

 

এ. কে. এম আজাদ রহমান
ইউনিয়ন পরিষদের ওপর সব ধরনের কাজের দায়িত্ব দেওয়া হয়। জলবায়ু, পরিবেশ ও প্রাকৃতিক দুর্যোগের যাবতীয় কাজকর্ম এ প্রতিষ্ঠানের ওপর চাপিয়ে দেওয়া হয়। সেই প্রতিষ্ঠানটির এত ভার বহনের সক্ষমতা আছে কিনা, তা আমাদের ভাবতে হবে। কীভাবে এই প্রতিষ্ঠানটিকে পুনর্গঠন করা অথবা স্থানীয় সরকারের সেবাগুলো বিকেন্দ্রীকরণ করা যায়, সেটি দেখতে হবে। এমনও করা যায়, অন্যান্য প্রতিষ্ঠান সেবা দেবে আর ইউনিয়ন পরিষদ শুধু নজরদারি করবে। কেননা অনেক সময় দেখা যায়, সেবা দেওয়ার বিষয়টি নজরদারির কেউ থাকে না। 

উপজেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদকে যুক্ত করে স্থানীয় অবকাঠামোগত কাজ করা যেতে পারে। এর বাইরেও অনেক কাজে এসব প্রতিষ্ঠানকে যুক্ত করা যায়। সুনামগঞ্জে আমরা বজ্রপাত থেকে বাঁচতে একটি শেল্টার করেছি। এই এলাকায় বজ্রপাতে অনেক মৃত্যু হয়। এই শেল্টার স্থাপনের পর আমরা দেখেছি, যেসব স্থানে এই শেল্টার করা হয়েছে, সেখানে মৃত্যুহারও কমেছে। অর্থাৎ স্থানীয়ভাবে সমস্যাগুলো সমাধান করা গেলে ক্ষতির পরিমাণ কমানো সম্ভব। 

বাংলাদেশ যেহেতু স্বল্পোন্নত দেশ থেকে মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হচ্ছে, ফলে এ দেশে জলবায়ু অর্থায়ন অনেক কমে গেছে, ডোনার কমে গেছে। আমাদের সঠিক উপায়ে ঋণ নিতে হবে; যাতে করে সেই ঋণ ব্যবহার করে আয় বাড়ানোর মাধ্যমে জিডিপি বাড়ানো যায়। অন্যদিকে, যেহেতু আমাদের অর্থায়ন কমে যাচ্ছে, সেহেতু মিশ্র পদ্ধতিতে যেতেই হবে। গত বছর ফেনীতে যে বন্যা হয়েছে, গত ৩০ বছরে তা হয়নি। এটা একটা ‘ওয়েক আপ কল’। অর্থাৎ আগামীতেও এমন কিছু হওয়ার আশঙ্কা আছে। এর মানে হলো এই ক্ষেত্রে আমাদের অর্থায়ন করতে হবে। 
ভবিষ্যতের কৃষক ও ফসল আমাদের বাঁচাতে হবে। সুতরাং ডোনারদের আশায় বসে থাকলে চলবে না। আমাদের দেখতে হবে, ভবিষ্যতে আমাদের কতটা ক্ষতি হতে পারে, অন্য কোথাও থেকে অর্থায়ন এনে সেই ক্ষতি কমানো যায় কিনা। অর্থায়ন এনে সঠিকভাবে ব্যবহার করে জিডিপিতে অবদান রাখা যায় কিনা, তা আমাদের দেখতে হবে।

এস এম এমরান আলী
ইউনিয়ন পরিষদের তিন কোটির কিছুটা বেশি বাজেট দেখানো হয়। এটি সঠিক নয়। আমরা ইউনিয়ন পরিষদে সরাসরি পাই মাত্র আট লাখ থেকে ১০ লাখ টাকা। এই টাকা দিয়ে অবকাঠামো উন্নয়ন, সামাজিক নিরাপত্তা বেষ্টনী, শিক্ষা, স্বাস্থ্য–কী সেবা দেওয়া যেতে পারে? এটি হচ্ছে বাস্তবতা। ওপর থেকে ওইভাবে মুখস্থ কিছু প্রকল্প দেওয়া, তা বাস্তবায়ন হয়ে যায়। কতটুকু বাস্তবায়ন হলো, কী বাস্তবায়ন হলো–সেটি ইউনিয়ন পরিষদ কিছু জানে, কিছু জানে না। প্রতিটি ইউনিয়নের বাস্তব চিত্র এমন। এটি নিয়ে কাজ করতে হবে।

 

 

 

শিবানী সরদার
উপকূলীয় লবণাক্ত ও নদীভাঙন এলাকায় কিশোরী মেয়ে ও মায়েরা পানিবাহিত রোগে আক্রান্ত হয়। কমিউনিটি ক্লিনিকে তিন থেকে চার হাজার সেবা গ্রহণকারী থাকেন। ক্লিনিকগুলোর ডাক্তারদের অধিকাংশই পুরুষ। ফলে ওই মেয়েরা ও মায়েরা নিজেদের সমস্যার কথাগুলো সরাসরি তাদের বলতে পারে না। কমিউনিটি ক্লিনিকে একজন করে হলেও নারী ভলান্টিয়ার দেওয়া উচিত।

লবণাক্ত এলাকায় চাষাবাদে মিঠাপানির প্রয়োজন। মিঠাপানির অভাবে অনেক পরিবার কৃষিকাজ ছেড়ে দিয়ে শহরগামী হচ্ছে। এই সমস্যা দূর করতে খাল খনন করতে হবে। লবণাক্ত এলাকায় এমনও পরিবার আছে যাদের বৃষ্টির পানি ধরে রাখার পাত্র নেই। কোনো পরিবার ছয় মাসের পানি ধরে রাখতে পারে, তাহলে তারা ওই পানি খেয়ে বেঁচে থাকতে পারবে। তারা পানিবাহিত রোগ থেকে মুক্ত থাকতে পারবে। এতে করে তারা অর্থনৈতিক দিক দিয়ে স্বাবলম্বী হতে পারবে। এ বিষয় নিয়ে ইউনিয়ন পরিষদে জানিয়েছি। সেখানে তো বাজেট কম। এজন্য এই সমস্যা সমাধানে সরকারসহ সংশ্লিষ্টদের প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে হবে। 

 

মো. রবিউল ইসলাম
আমাদের প্রাণের দাবি–আমাদের এলাকায় টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে। বাঁধের পাশে বৃক্ষরোপণ করতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলে প্লাস্টিকদূষণ রোধ করা অতীব জরুরি। পর্যাপ্ত আধার তৈরির মাধ্যমে সুপেয় পানিকে সহজলভ্য করতে হবে। লবণাক্ততার কারণে নারীদের নানা ধরনের রোগ প্রতিরোধে স্থানীয় স্বাস্থ্য সংশ্লিষ্ট দপ্তরের নজরদারি বাড়াতে হবে। উপকূলীয় অঞ্চলের জলবায়ু পরিবর্তনের ভয়াবহতা বিবেচনায় এনে গতানুগতিক নীতিমালা সংস্কার করা অতীব জরুরি।  

 

 

 

শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান
ভৌগোলিক অবস্থানের কারণে জলবায়ু পরিবর্তনজনিত নানা ঝুঁকির মধ্যে আমরা রয়েছি। বাংলাদেশ স্বাধীন হওয়ার পরে মোট কৃষিজমির পরিমাণ ছিল ৬৭ দশমিক ৮৯ ভাগ। ২০১৮ সালে এটি হয়েছে ৫৯ দশমিক ৭ শতাংশ। বাংলাদেশে এখন বনাঞ্চলের পরিমাণ মোট আয়তনের ১২ ভাগ। ২০ ভাগ জলাশয়। বর্তমানে আমাদের জনসংখ্যা সাড়ে ১৭ কোটি। ২০৫০ সাল নাগাদ আমাদের জনসংখ্যা সাড়ে ২১ কোটিতে রূপান্তরিত হবে। অর্থাৎ এই সময়ের মধ্যে আরও চার কোটি মানুষ যোগ হবে। আমাদের যে কৃষিজমি সেটি তো বাড়ছে না। যেই জমি আছে, তা কমানো যাবে না। কারণ এই অতিরিক্ত চার কোটি মানুষের খাদ্যের জোগান দিতে হবে। 

এ ক্ষেত্রে সঠিক পরিকল্পনা প্রণয়ন ও বাস্তবায়ন করতে হবে। একই সঙ্গে এই পরিকল্পনার সঙ্গে জলবায়ু পরিবর্তনের বিষয়টি সমন্বয় করতে হবে। 

অন্যদিকে, আমাদের বনভূমি এমনিতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী কম। যা আছে, এর থেকেও কমে গেলে পরিবেশের ভারসাম্য নষ্ট হবে। পাশাপাশি জলাশয়গুলোও সংরক্ষণ করতে হবে। জাতীয় পর্যায়ের অনেক কাজ আছে, স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলো শক্তিশালী করার মাধ্যমে সেই কাজগুলো সহজে বাস্তবায়ন করা সম্ভব। এক্ষেত্রে জাতীয় ও স্থানীয় পর্যায়ের কাজের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে হবে। কেননা পুরোপুরি কেন্দ্রীয়করণ বা বিকেন্দ্রীকরণ হলে সুফল আসবে না। জলবায়ু রক্ষায় পরিকল্পনাগুলোর সফল বাস্তবায়ন ও টেকসই করার ক্ষেত্রে এটি গুরুত্বপূর্ণ।
সরকারের যতগুলো সামাজিক নিরাপত্তাবিষয়ক কর্মসূচি আছে, সেগুলো মূলত বাস্তবায়ন করছে স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠান। বিশেষ করে, ইউনিয়ন পরিষদকে বাদ দিয়ে কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করা একেবারেই অসম্ভব। তবে এ বিষয়ে সিদ্ধান্ত গ্রহণে ইউনিয়ন পরিষদের কোনো ভূমিকা নেই। পরিষদ কেবল এই কর্মসূচিগুলো বাস্তবায়ন করে। অথচ কোনো ধরনের প্রাকৃতিক বিপর্যয় হলে ইউনিয়ন পরিষদই আগে সাড়া দেয়। ইউনিয়ন পরিষদসহ স্থানীয় সরকারের প্রতিষ্ঠানগুলোকে ঢেলে সাজানো প্রয়োজন। 

দেবাশীষ কুমার ঘোষ
উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ে অনেক গণশুনানির আয়োজন করা হয়েছে। যার ফলে সেবাদাতা ও গ্রহীতাদের মধ্যে মুখোমুখি আলোচনার পরিবেশ তৈরি হয়েছে। পাশাপাশি সেবার মান উন্নয়নে যৌথ পরিকল্পনা করা হয়েছে। আমরা সোশ্যাল অ্যাকাউন্টেবিলিটির একটি টুল ব্যবহার করেছি; যেটি আমরা সিএসওদের শিখিয়েও দিয়েছি। সেটিকে আমরা বলি ‘কমিউনিটি স্কোর কার্ড’। এই কমিউনিটি স্কোর কার্ড ব্যবহার করে সেবাদাতা এবং সেবাগ্রহীতাকে একসঙ্গে বসিয়ে সেবার মান উন্নয়নের যৌথ কর্মপরিকল্পনা করা হয়েছে। এই কাজটাও আমাদের প্রকল্পের মাধ্যমে হয়েছে। সিএসওরা এখন চাইলে যে কোনো দপ্তর বা ইউনিয়ন পরিষদের সঙ্গে কমিউনিটি স্কোর কার্ড করে সেবার মান উন্নয়নে কাজ করতে পারেন।

আমাদের প্রকল্পের উদ্দেশ্য ছিল সিভিল সোসাইটি অর্গানাইজেশন ও তাদের যে নেটওয়ার্কগুলো আছে, তাদের সক্ষমতা বাড়িয়ে জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত ও সুবিধাবঞ্চিতদের ক্ষমতায়ন করা। এটি ছিল আমাদের প্রথম উদ্দেশ্য। দ্বিতীয় উদ্দেশ্য ছিল, বিশেষ করে নারীদের অধিকার আদায়ে সোচ্চার করে তোলা এবং সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়ায় যাতে নারীরা কার্যকর অংশগ্রহণ করতে পারে, সে বিষয়টি নিশ্চিত করা। সর্বশেষ উদ্দেশ্য ছিল, জলবায়ু সংবেদনশীল ও জেন্ডারবান্ধব নীতি বাস্তবায়নে সরকারের কাজে সহযোগিতা করা। এই তিন উদ্দেশ্যকে কেন্দ্র করেই আমাদের প্রকল্পটি গত সাড়ে তিন বছর ধরে মাঠ পর্যায়ে দুটি জেলাতে বাস্তবায়নের চেষ্টা করেছি। 

মাহিউল কাদির
বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম জলবায়ু ঝুঁকিপূর্ণ দেশ। নদীভাঙন, লবণাক্ততা ও প্রাকৃতিক দুর্যোগে প্রতি বছর লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে শহরমুখী হচ্ছে। এই পরিবর্তন শুধু জীবিকা নয়, মানুষের সংস্কৃতি ও সামাজিক বন্ধনকেও ক্ষতিগ্রস্ত করছে। স্থানীয় সরকারব্যবস্থার মূল স্তর হিসেবে ইউনিয়ন পরিষদ গ্রামীণ জনগণের কাছে সরকারি নীতি ও সম্পদ পৌঁছে দেওয়ার গুরুত্বপূর্ণ মাধ্যম। তাই জলবায়ু অভিযোজন পরিকল্পনায় ইউনিয়ন পরিষদগুলোর আর্থিক ও প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাড়ানো অপরিহার্য। বাজেট ও পরিকল্পনায় নারী ও প্রান্তিক জনগোষ্ঠীর অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে হবে; যাতে স্থানীয় বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ সমাধান তৈরি হয়। ইউনিয়ন পরিষদগুলো যদি শক্তিশালী ও সম্পদসক্ষম হয়, তবে মানুষ গ্রামেই টেকসই জীবিকা গড়ে তুলতে পারবে। ফলে শহরমুখী অভিবাসন কমে যাবে এবং দেশ আরও জলবায়ু সহনশীল ভবিষ্যতের পথে এগিয়ে যাবে।

 

 

শাহেদ মুহাম্মদ আলী 
পুরো আলোচনার সারমর্ম করলে বলা যায়, আমাদের অর্থবছরের বাজেট ইউনিয়ন পর্যায় থেকে হওয়া উচিত। বাজেটটা ইউনিয়ন থেকে হলে অনেক কাজ করা যাবে। কারণ, এতে অপচয় কমে যাবে। আমাদের সামাজিক সুরক্ষায় যে ব্যয় হয়, তার চাহিদা ইউনিয়ন পর্যায় থেকে আসবে। তাতে সঠিক সংখ্যাটা জানা যাবে। ফলে বরাদ্দের জটিলতা কমবে, স্বচ্ছতা বাড়বে।

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো–স্থানীয় পর্যায়ে নাগরিক সংগঠন (সিএসও) এবং কমিউনিটিবেজড অর্গানাইজেশন (সিবিও) নানা ধরনের ঝুঁকির মধ্যে পড়তে হয়। 

স্থানীয় রাজনীতিবিদরা তাদের প্রতিদ্বন্দ্বী বলে মনে করেন। এই সমস্যার সমাধান করা প্রয়োজন। সবার আগে আমাদের যেটি করতে হবে, সেটি হলো রাজনৈতিক নেতাদের কীভাবে এই বিষয়ে সংবেদনশীল করে তোলা যায়, তার পথ বের করা। 
এই আলোচনায় আরেকটি বিষয় গুরুত্ব পেয়েছে তা হলো–উন্নয়নের প্রতিটি বিষয়ে জলবায়ুকে যুক্ত করা, অর্থাৎ আমাদের উন্নয়ন নীতিমালাকে জলবায়ুর সঙ্গে যুক্ত করা উচিত। কীভাবে সব অবকাঠামো উন্নয়নকে জলবায়ুবান্ধব করতে পারি, তা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে। জলবায়ুর বিষয়টি উপকূল থেকে বের করে নিয়ে আসতে হবে। উত্তরবঙ্গে যে খরা হচ্ছে, তা জলবায়ু পরিবর্তনের বাইরে নয়। সুতরাং উপকূল থেকে বেরিয়ে এসে জলবায়ুকে সর্বজনীন করতে হবে। তা হলেই এর জন্য সঠিক পরিকল্পনা করা সম্ভব হবে।

সুপারিশ

ইউনিয়ন পরিষদ, উপজেলা পরিষদসহ স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানগুলোকে শক্তিশালী করতে হবে। প্রয়োজনে পুনর্গঠন করতে হবে।
স্থানীয় পর্যায়ে বাজেট বাড়াতে হবে। উন্নয়ন বাজেটের বিকেন্দ্রীকরণ হতে হবে।
প্রাকৃতিক দুর্যোগকবলিত অঞ্চলগুলোর জন্য বিশেষ বরাদ্দ রাখতে হবে।  
প্রতিটি ইউনিয়নের জন্য অভিযোজন এবং প্রশমনের ম্যাপিং করতে হবে। প্রাকৃতিক দুর্যোগে সরকার বা অন্যান্য সংস্থার পাশাপাশি মানুষের নিজস্ব খরচও ম্যাপিং করা প্রয়োজন।
জলবায়ুবিষয়ক বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে রাজনৈতিক  নেতাদের সংযুক্ত করতে হবে।
জলবায়ু সংকট মোকাবিলায় শুধু অনুদানের ওপর নির্ভর না করে সঠিকভাবে অর্থায়নও করতে হবে, যাতে জিডিপিতে এর ইতিবাচক প্রভাব পড়ে।

 

আলোচক

মোহাম্মদ খলিলুর রহমান
যুগ্ম সচিব, স্থানীয় সরকার বিভাগ

বরুণ চন্দ্র বিশ্বাস
উপপরিচালক, মৎস্য অধিদপ্তর 

মোহাম্মদ মাহমুদ হোসেন
উপপরিচালক, পরিবেশ অধিদপ্তর 

মোহাম্মদ যোবায়ের হাসান
উপনির্বাহী পরিচালক, ডর্‌প 

শাহরিয়ার মান্নান
প্রোগ্রাম হেড (ভয়েস, ইনক্লুসন অ্যান্ড কোহেসন) হেলভেটাস বাংলাদেশ

মোহাম্মদ মাহমুদুল হাসান
প্রোগ্রাম হেড (ওয়াটার, ফুড অ্যান্ড ক্লাইমেট)
 হেলভেটাস বাংলাদেশ

এ. কে. এম আজাদ রহমান
প্রজেক্ট কোঅর্ডিনেটর, ইউএনডিপি 

এস এম এমরান আলী
সচিব, পানখালী ইউনিয়ন পরিষদ, দাকোপ, খুলনা 

শিবানী সরদার
সদস্য, সিএসও নেটওয়ার্ক, দাকোপ, খুলনা

মো. রবিউল ইসলাম
সদস্য, সিএসও নেটওয়ার্ক, মোংলা, খুলনা

মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন

শেখ মুহম্মদ মেহেদী আহসান
উপদেষ্টা, সিএনআরএস 

প্রকল্প উপস্থাপন

দেবাশীষ কুমার ঘোষ
প্রকল্প সমন্বয়ক, ইভলভ্, সিএনআরএস

সঞ্চালনা

মাহিউল কাদির
 হেড অব বিজনেস ডেভেলপমেন্ট, সিএনআরএস

সভাপতি

শাহেদ মুহাম্মদ আলী
সম্পাদক, সমকাল 

অনুলিখন

মাজহারুল ইসলাম রবিন
স্টাফ রিপোর্টার, সমকাল

সমন্বয়

হাসান জাকির 
হেড অব ইভেন্টস, সমকাল

আরও পড়ুন

×