উন্নয়ন সাধনে গবেষণা ও বাজারের সমন্বয় অপরিহার্য
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ০৭:৪০ | আপডেট: ১০ নভেম্বর ২০২৫ | ১১:৫৩
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ বিজ্ঞান ও শিল্প গবেষণা পরিষদ (বিসিএসআইআর)-এর সহায়তায় গত ৬ অক্টোবর রাজধানীর একটি হোটেলে ‘গবেষণা থেকে বাজার: শিক্ষাঙ্গন ও শিল্পের অংশীদারিত্বে বাংলাদেশের উদ্ভাবন পরিবেশ ব্যবস্থা শক্তিশালীকরণ’ শীর্ষক এক গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
অনুষ্ঠানে নীতিনির্ধারক, গবেষক, শিক্ষক, উদ্যোক্তা ও করপোরেট নেতৃবৃন্দ বাংলাদেশের গবেষণার সম্ভাবনা, প্রতিবন্ধকতা এবং গবেষণা ও শিল্প খাতের সহযোগিতার সুযোগ নিয়ে আলোচনা করেন। বৈঠকে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন অর্থ, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ। বিশেষ অতিথি ছিলেন বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. মাহবুবুর রহমান এবং সভায় সভাপতিত্ব করেন বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন।

ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ, উপদেষ্টা, অর্থ এবং বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
আমাদের গবেষণা ও উদ্ভাবন অবশ্যই দেশের জাতীয় উন্নয়ন অগ্রাধিকারের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। কারণ অদূর ভবিষ্যতে বৈজ্ঞানিক অগ্রগতি ও প্রযুক্তির প্রয়োগই আমাদের অর্থনৈতিক প্রতিযোগিতার ভিত্তি নির্ধারণ করবে। আমরা এমন এক যুগে প্রবেশ করছি, যেখানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিই হবে অর্থনৈতিক শক্তির মূল নির্ধারক।
গবেষণা ও উন্নয়নকে সহজে সঠিকভাবে বাজারে প্রবেশ করাতে ল্যাবরেটরি ও শিল্প খাতের মধ্যে একটি কার্যকর সেতুবন্ধন তৈরি করতে হবে। গবেষণায় সরকারের বিনিয়োগকৃত প্রতিটি টাকা উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও টেকসই উন্নয়নে অবদান রাখতে হবে।
গবেষণা-শিল্প সহযোগিতা জোরদারে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের নেওয়া উদ্যোগগুলো সময়োপযোগী। তবে এগুলো সফল করতে নীতিগত ও আর্থিক সহায়তা দুটোই জরুরি। গবেষণায় সরকারি বিনিয়োগের ফলাফল দৃশ্যমান হতে হবে, যা উৎপাদনশীলতা, কর্মসংস্থান ও টেকসই প্রবৃদ্ধিকে ত্বরান্বিত করবে। তাই গবেষণা, উদ্ভাবন ও শিল্প খাতের মধ্যে সংযোগ জোরদার করতে সমন্বিত পদক্ষেপ ও প্রণোদনা অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।
আমাদের প্রবাসী বিজ্ঞানীদের অনেকে ইতোমধ্যে দেশের উন্নয়নে অবদান রাখার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। তারা আর্থিক লাভের জন্য নয়, বরং সম্মান ও দায়িত্ববোধ থেকে মাতৃভূমির উন্নয়নে কাজ করতে চান।
সরকারের অধীনে বেশ কিছু গবেষণা প্রতিষ্ঠান থাকলেও অনেক প্রতিষ্ঠান এখনও কার্যকর ফলাফল দিতে পারেনি। দুর্ভাগ্যজনকভাবে, এসব প্রতিষ্ঠানের অনেক বিজ্ঞানী জ্ঞানকে সমাজকল্যাণে প্রয়োগ করার পরিবর্তে বিদেশে গবেষণাপত্র প্রকাশের দিকে বেশি মনোযোগ দেন। আমি এ ধরনের প্রবণতা নিরুৎসাহিত করার চেষ্টা করেছি, তবে পুরোপুরি সফল হইনি। গবেষণার ফল বাজারে পৌঁছাতে না পারার একটি বড় কারণ হলো শিল্প খাত থেকে পর্যাপ্ত প্রতিক্রিয়া না পাওয়া। আমরা চাই আমাদের গবেষণা ও উন্নয়ন কার্যক্রম বাণিজ্যিকভাবে কার্যকর হোক এবং প্রকৃত অর্থনৈতিক প্রভাব ফেলুক।
আমাদের কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতে স্থানীয় বিজ্ঞানীদের অবদান সত্যিই প্রশংসনীয়। তাদের নিরলস পরিশ্রমের ফলেই আজ আমরা ১৮ কোটিরও বেশি মানুষের খাদ্য জোগান দিতে পারছি, যেখানে একসময় ৭ কোটি মানুষের খাদ্য সরবরাহই কঠিন ছিল।
তবে অনেক সময় নীতিনির্ধারকরা গবেষণার ফল মাঠপর্যায়ে পৌঁছে দিতে ব্যর্থ হন; অধিকাংশ প্রতিবেদন বছরের পর বছর কেবল ডেস্কেই সীমাবদ্ধ থাকে। এ অবস্থার উন্নয়নে বিজ্ঞানী, নীতিনির্ধারক ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে আরও দৃঢ় সমন্বয় প্রয়োজন। গবেষকদের উচিত উদ্ভাবন ও প্রয়োগমূলক গবেষণায় বেশি মনোযোগ দেওয়া, যাতে তাদের কাজ সমাজে সরাসরি সুফল বয়ে আনে।
একসময় দক্ষিণ কোরিয়া ও ভিয়েতনামও বাংলাদেশের চেয়ে এগিয়ে ছিল না। কিন্তু তারা গবেষণা ও উন্নয়নে মনোযোগী হয়ে আজ অভূতপূর্ব অগ্রগতি অর্জন করেছে। একইভাবে, আমাদের উদ্যোক্তাদেরও জাতীয় স্বার্থে গবেষণা ও উন্নয়নে বিনিয়োগ করা উচিত– যদিও তাৎক্ষণিক আর্থিক মুনাফা নাও আসতে পারে।
সরকার উদ্ভাবনে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ বাড়াতে বদ্ধপরিকর। আমাদের লক্ষ্য হলো শিল্পোন্নয়নের ক্ষেত্রে বাংলাদেশকে তাইওয়ানের মতো একটি দেশ হিসেবে গড়ে তোলা; আমরা চীনের প্রতিরূপ হতে চাই না।
আমাদের দেশে পর্যাপ্ত মেডিকেল কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয় থাকা সত্ত্বেও কেন চিকিৎসার জন্য ব্যাংকক বা সিঙ্গাপুরে যেতে হবে? সঠিক সমন্বয়, উদ্ভাবন ও আন্তরিকতা থাকলে আমরা নিজেদের জন্য একটি আত্মনির্ভরশীল, উৎকর্ষমান স্বাস্থ্যসেবা ব্যবস্থা গড়ে তুলতে পারি।

মো. মাহবুবুর রহমান, সচিব, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
দেশের জন্য গবেষণা ও বাজারের সংযোগ এখন অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ, বিশেষ করে যখন আমরা এলডিসি থেকে উত্তরণের পথে। গবেষণায় পিছিয়ে থাকার কারণেই আমরা উদ্ভাবনেও পিছিয়ে আছি।
উত্তরণ-পরবর্তী সময়ে আমাদের ওষুধ শিল্পকে পেটেন্টসংক্রান্ত নানা চ্যালেঞ্জের মুখোমুখি হতে হবে। এ প্রেক্ষিতে আমাদের উদ্যোক্তারা এলডিসি উত্তরণে বিলম্ব ও ঔষধ শিল্পের জন্য ট্রিপস চুক্তির সুবিধার সময় বাড়ানোর দাবি জানাচ্ছেন। আমরা কৃষি ও পারমাণবিক চিকিৎসা গবেষণায় তুলনামূলকভাবে ভালো অবস্থানে আছি।
আমাদের অনেক শিক্ষার্থী ও ব্যক্তিগত গবেষক অসাধারণ গবেষণা ও আবিষ্কার করেছেন, কিন্তু পর্যাপ্ত মনোযোগ ও সহায়তার অভাবে তাদের গবেষণার ফল বাজারে পৌঁছাচ্ছে না। বিসিএসআইআর এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ল্যাবরেটরিতে গবেষণার সুযোগ বাড়াতে হবে, যাতে এসব উদ্ভাবন জাতীয় উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে।

মো. মজিবুর রহমান, চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ পরমাণু শক্তি কমিশন
আমাদের দেশে ব্যক্তিগত অর্জনের প্রতি অতিরিক্ত গুরুত্ব দেওয়া হয়, কিন্তু দলগতভাবে কাজ করার প্রবণতা কম। জাতীয় অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য শিক্ষাঙ্গন, শিল্পখাত ও সরকারের মধ্যে গবেষণাভিত্তিক সহযোগিতা গড়ে তুলতে হবে। গবেষণার অর্থায়ন শুধু সরকারের ওপর নির্ভরশীল হওয়া উচিত নয়। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অনেক শিল্পপ্রতিষ্ঠান নিজেরাই গবেষণার অর্থায়ন করে থাকে।

ড. সামিনা আহমেদ, চেয়ারম্যান, বিসিএসআইআর
গবেষণার মাধ্যমে জ্ঞান অর্জন এবং সেই জ্ঞান বাজারে পৌঁছে দেওয়া দেশের উন্নয়নের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। আমরা বেসরকারি খাতের সঙ্গে সহযোগিতায় কাজ করতে আগ্রহী, যাতে জাতীয় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধিতে আরও বেশি অবদান রাখতে পারি।

অধ্যাপক এম. জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী, কোষাধ্যক্ষ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়
শিক্ষা মন্ত্রণালয় আমাদের ব্যয় কমাতে বা আয় বাড়াতে বলছে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ের আয় বাড়ানোর সুযোগ নেই। গত ৩০ বছর ধরে আমরা শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে একই ফি নিচ্ছি; এক টাকাও বাড়ালে ছাত্র সংগঠনগুলোর প্রতিবাদে অস্থিতিশীলতা তৈরি হতে পারে।
আমাদের প্রায় ৩০ শতাংশ শিক্ষার্থী দরিদ্র পরিবারের, এবং প্রায় ১০ শতাংশ অতিদরিদ্র পরিবার থেকে আসে। অনেকে প্রতিদিন না খেয়ে ক্লাসে আসে, কিন্তু তাদের জন্য কোনো সুরক্ষা ব্যবস্থা নেই। অথচ এই শিক্ষার্থীদের মধ্যে এমন সম্ভাবনা রয়েছে যে, তারা হার্ভার্ড বা এমআইটির মতো প্রতিষ্ঠানে পড়তে পারত—যদি প্রয়োজনীয় সহায়তা পেত। সরকারের উচিত গবেষণার জন্য অন্তত ১,০০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া, যা বড় কোনো চ্যালেঞ্জ নয়। কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা আগামী পাঁচ বছরের মধ্যে বিশ্বকে আমূল পরিবর্তন করবে, কিন্তু আমরা এখনো প্রস্তুত নই। চীন ইতোমধ্যেই এই ক্ষেত্রে নেতৃত্বের অবস্থানে রয়েছে।

মো. আনোয়ার হোসেন, সচিব, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়
আমাদের লক্ষ্য হলো শিল্প খাত, একাডেমিয়া ও গবেষণার মধ্যে একটি সেতুবন্ধন তৈরি করা, যাতে গবেষণার ফল বাজারে পৌঁছাতে পারে। যেসব দেশ এই “ট্রিপল হেলিক্স” মডেল গ্রহণ করেছে, তারা এটিকে তাদের উন্নয়নের চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহার করেছে।
তবে গবেষণা ও উন্নয়নে আমাদের বরাদ্দ এখনও বৈশ্বিক গড়ের চেয়ে অনেক কম– এমনকি বহু আফ্রিকান দেশের চেয়েও নিচে। পাশাপাশি, বেসরকারি খাতও এই ক্ষেত্রে যথেষ্ট আগ্রহ দেখায়নি এবং বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর সঙ্গে যৌথ গবেষণার কোনো উল্লেখযোগ্য সহযোগিতা গড়ে ওঠেনি।
আমাদের মন্ত্রণালয় এখন শুধু বিজ্ঞানভিত্তিক নীতি নির্ধারণেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি এখন ব্যবসায়িক প্রতিযোগিতা, রপ্তানি বৈচিত্র্যকরণ এবং উদ্ভাবননির্ভর প্রবৃদ্ধির অনুঘটক হিসেবে কাজ করছে। আমাদের লক্ষ্য গবেষণাকে অর্থনৈতিক শক্তিতে রূপান্তর করা এবং উদ্ভাবনকে দৈনন্দিন জীবনের অংশ করে তোলা।
সম্প্রতি মন্ত্রণালয় বেশ কয়েকটি পদক্ষেপ নিয়েছে– এর মধ্যে রয়েছে সরকারি ল্যাবরেটরি ও যন্ত্রপাতি বেসরকারি গবেষকদের জন্য উন্মুক্ত করা, বেসরকারি খাতের সঙ্গে যৌথ গবেষণা ও ফেলোশিপ কর্মসূচি চালু করা, এবং স্থানীয় উদ্ভাবকদের উৎসাহিত করতে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে ‘ইনোভেশন ফেয়ার’ আয়োজনের পরিকল্পনা।
এসব উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা প্রবাসী বিজ্ঞানীদের সঙ্গে বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলতে এবং উদীয়মান প্রযুক্তি নিয়ে কাজ করার জন্য একটি “ফ্রন্টিয়ার ইন্ডাস্ট্রি সেল” গঠন করতে চাই।

ড. এম. মাসরুর রিয়াজ,চেয়ারম্যান, পলিসি এক্সচেঞ্জ বাংলাদেশ
বাংলাদেশ বর্তমানে স্বল্পোন্নত দেশ (এলডিসি) থেকে উত্তরণের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই পরিবর্তনের সফলতা নিশ্চিত করতে হলে গবেষণার সক্ষমতা বাড়াতে হবে, যাতে দেশের প্রতিযোগিতামূলক অবস্থান আরও শক্তিশালী হয়। উদ্ভাবন হবে বাংলাদেশের উন্নয়নের প্রধান চালিকাশক্তি—যা তরুণ কর্মশক্তির জন্য উন্নত কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে এবং জনমিতিক সুফলকে কার্যকরভাবে কাজে লাগাবে।
বাংলাদেশের অর্থনীতি মূলত বেসরকারি উদ্যোগনির্ভর হওয়ায়, এই পথে বেসরকারি খাতকেই নেতৃত্ব দিতে হবে। এলডিসি উত্তরণ-পরবর্তী চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় উদ্ভাবনের মাধ্যমেই প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো জরুরি।
বিভিন্ন সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, বিনিয়োগ, বাণিজ্য, উদ্ভাবন ও উদ্ভাবনী অংশীদারত্বের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ এখনো উল্লেখযোগ্যভাবে পিছিয়ে। এই পরিস্থিতি কাটিয়ে উঠতে শিল্পখাতের ঘনিষ্ঠ সহযোগিতায় গবেষণার মাধ্যমে সমন্বিত উদ্ভাবন প্রয়োজন। এমন উদ্যোগ বেসরকারি খাতে আরও কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি করবে।
গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য বাংলাদেশের বাজেট এখনো অধিকাংশ দেশের তুলনায় কম। প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়ানো এখন অপরিহার্য, আর গবেষণা ও উন্নয়নে বরাদ্দ না বাড়ালে তা সম্ভব নয়। উদ্ভাবন সক্ষমতা এখন অগ্রগতির অন্যতম প্রধান শর্তে পরিণত হয়েছে। এ চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতের মধ্যে যৌথ গবেষণা ও সহযোগিতা জোরদার করতে হবে।
জ্ঞান ও প্রযুক্তি বিনিময়, এবং যৌথ ল্যাবরেটরি সুবিধা সৃষ্টি এই প্রচেষ্টার অপরিহার্য অংশ। পাশাপাশি, উদ্ভাবনী ক্লাস্টার গঠনে যৌথ অর্থায়ন ও সম্পদ ভাগাভাগি প্রয়োজন, যা নতুন উদ্যোক্তা তৈরিতে সহায়ক হবে। একটি গবেষণায় দেখা গেছে, ওইসিডি দেশগুলোতে প্রায় ৫০ শতাংশ উদ্ভাবন বিশ্ববিদ্যালয় বা গবেষণা কেন্দ্রের ৩০ কিলোমিটারের মধ্যে গড়ে ওঠে।
চীনে ‘মেড ইন চায়না’ নীতির অধীনে বিশ্ববিদ্যালয় ও গবেষণা কেন্দ্রগুলোকে নানা ধরনের সহায়তা দেওয়া হয়। এর ফলে তাদের উদ্ভাবনী পেটেন্টের বাণিজ্যিকীকরণ ২০২০ সালের ৪৪ শতাংশ থেকে ২০২৪ সালে ৫৪ শতাংশে উন্নীত হয়েছে।

আনোয়ার-উল-আলম চৌধুরী (পারভেজ), সভাপতি, বাংলাদেশ চেম্বার অব ইন্ডাস্ট্রিজ (বিসিআই)
জাতীয় বা সরকার-অর্থায়িত গবেষণা ও উদ্ভাবন প্রায়শই বাণিজ্যিকীকরণে পৌঁছায় না। বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ও শিক্ষার্থীদের গবেষণাকে বাজারজাত পণ্যে রূপান্তর করতে বেসরকারি খাতের অংশগ্রহণ অত্যন্ত জরুরি। তবে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের চার বছর দায়িত্বে থাকার পরও আমি বিশ্ববিদ্যালয় ও
শিল্পখাতের মধ্যে দৃঢ় সম্পর্ক স্থাপন করতে ব্যর্থ হয়েছি।
বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা অত্যন্ত মেধাবী এবং সুযোগ পেলে নতুন কিছু করার আগ্রহ রাখে। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের অনীহার কারণে তারা অনেক সময় সেই সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়। একাডেমিয়া ও শিল্পখাতের মধ্যে শক্তিশালী সংযোগ তৈরি করা গেলে নতুন উদ্ভাবনের জন্য একটি টেকসই প্ল্যাটফর্ম গড়ে তোলা সম্ভব হবে। বর্তমানে উদ্ভাবনই টেকসই উন্নয়ন ও প্রতিযোগিতা সক্ষমতার মূল চাবিকাঠি।
অনেকে মনে করেন, ব্যবসায়ীরা উদ্ভাবনে বিনিয়োগে আগ্রহী নন। কিন্তু আমি নিশ্চিত, আমাদের ব্যবসায়ীরা এই খাতে অর্থায়নের জন্য প্রস্তুত। কারণ, বিশ্বের বেশিরভাগ বড় উদ্ভাবনই এসেছে বেসরকারি খাতের বিনিয়োগের মাধ্যমে—এটাই বাস্তবতা।

আব্দুল মুকতাদির, সভাপতি, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব ফার্মাসিউটিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ (বাপি)
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিকে জাতীয় প্রাসঙ্গিকতার কারণে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের শৈশবে বিজ্ঞান শিক্ষাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হতো, কিন্তু বর্তমানে বাংলাদেশে বিজ্ঞান শিক্ষা অবহেলিত হচ্ছে। দেশের উন্নয়নের স্বার্থে বিজ্ঞান শিক্ষার প্রতি জাতীয় দৃষ্টিভঙ্গি পরিবর্তন করা জরুরি।
ব্যবসা সততা ও অঙ্গীকারের ভিত্তিতে চলে, কিন্তু আমরা এখনো সে জায়গায় পিছিয়ে আছি। প্রায়ই অঙ্গীকার এড়িয়ে যাওয়ার নানা যুক্তি দেখানো হয়, অথচ তা পালন করা একটি কঠোর দায়িত্ব।
বাংলাদেশে কৃষি গবেষণা ভালোভাবে এগিয়ে যাচ্ছে। কৃষি মন্ত্রণালয় চাইলে গবেষকদের এমন জাতের খেজুর গাছ উদ্ভাবনে উৎসাহিত করতে পারে, যা বেশি রস উৎপাদন করে। এতে বছরে প্রায় ২৫ লাখ টন চিনি আমদানির বিকল্প তৈরি হতে পারে।
এশিয়ান মান নিয়ন্ত্রণ এখনো নিম্নমানের এবং তা উন্নয়নের প্রয়োজন। এ জন্য মেট্রোলজি বা পরিমাপ-মান উন্নয়নকে বৈশ্বিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। সরকারি গবেষণা ও বিশ্লেষণমূলক প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মানসিকতারও পরিবর্তন দরকার। অনেক সময় তারা বেসরকারি খাতের সঙ্গে কাজ করতে অনীহা দেখান, যা অগ্রগতিকে ব্যাহত করে।
সরকার চাইলে ফার্মাসিউটিক্যাল কোম্পানিগুলোর সহযোগিতায় গবেষণারত শিক্ষার্থীদের জন্য ইন্টার্নশিপ ও ফেলোশিপ প্রোগ্রাম চালু করতে পারে, যা ধারাবাহিকতা ও দীর্ঘমেয়াদি প্রভাব নিশ্চিত করবে।
যদি সরকারি গবেষণা প্রতিষ্ঠানগুলো শিক্ষার্থীদের ওষুধ শিল্পে প্রয়োজনীয় ১৪টি পরীক্ষার সুযোগ দিত, তবে বেসরকারি খাতও আগ্রহের সঙ্গে সহায়তা দিত।
স্থানীয় ওষুধ কোম্পানিগুলো গবেষণা ও উদ্ভাবনে সক্রিয়ভাবে কাজ করছে, যার ফলে ক্যান্সার ও কিডনি রোগের মতো জটিল রোগের ভ্যাকসিন ও সাশ্রয়ী ওষুধ উৎপাদন সম্ভব হয়েছে। তবে তারা সরকারি প্রতিষ্ঠানের পর্যাপ্ত সহায়তা পাচ্ছে না।
বাংলাদেশের সক্রিয় ফার্মাসিউটিক্যাল উপাদান (এপিআই) উন্নয়নে ব্যাপক গবেষণা সম্ভাবনা রয়েছে। সরকারি সহায়তা পেলে আমরা কীটনাশক ও পোশাক শিল্পের জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিকও দেশে উৎপাদন করতে পারব, যা বিপুল বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয় করবে।

অধ্যাপক জেড. এন. তাহমিদা বেগম, সাবেক চেয়ারম্যান, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (পিএসসি)
গবেষণা হওয়া উচিত বহুমাত্রিক ও আন্তঃবিষয়ক। কিন্তু বাংলাদেশে দেখা যায়, অধিকাংশ গবেষণা শুধুমাত্র জার্নালে প্রকাশ বা পদোন্নতির জন্য করা হয়—যা খুব কম ক্ষেত্রেই জাতীয় প্রয়োজন মেটায়। গবেষণা ও উদ্ভাবনকে জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে। পাশাপাশি গবেষণার ফল দুই-তিনটি জাতীয় দৈনিকে প্রকাশের মাধ্যমে সাধারণ মানুষের কাছে পৌঁছে দেওয়া উচিত, যাতে সচেতনতা বৃদ্ধি পায়।
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয় যে অনার্স পর্যায়ের শিক্ষার্থীদের গবেষণার জন্য অনুদান দেয়, তার যথাযথ অনুসরণ ও মূল্যায়ন নেই। সরকার চাইলে গবেষণা ও উদ্ভাবনের জন্য একটি ঋণ সুবিধা চালু করতে পারে, যা বেশি প্রয়োগযোগ্য ও প্রভাবশালী গবেষণাকে উৎসাহিত করবে।
গবেষণার ফল ও উদ্ভাবন যেন বাজারে প্রবেশাধিকার পায়, সে জন্য সরকার একটি জাতীয় উদ্ভাবন পরিষদ গঠনের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে, যা বিশ্ববিদ্যালয় ও শিল্পখাতকে এক ছাতার নিচে আনবে।

অধ্যাপক ড. আব্দুল হাসিব চৌধুরী, উপ-উপাচার্য, বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয় (বুয়েট)
সরকারের এখনই একটি লক্ষ্য নির্ধারণ করা উচিত–২০৪০ সালের মধ্যে নিজস্ব স্যাটেলাইট উৎক্ষেপণ করা। এই লক্ষ্য অর্জনে বিভিন্ন খাতে সক্ষমতা তৈরি করতে হবে, যা আমাদের গবেষণা ও উদ্ভাবনের ক্ষেত্রকে আরও প্রসারিত করবে। পাশাপাশি আরেকটি জাতীয় লক্ষ্য হতে পারে—‘মেড ইন বাংলাদেশ ২০৩৫।’
এসটিইএম (বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গণিত) শিক্ষার প্রসারে সরকারকে আরও গুরুত্ব দিতে হবে। আমাদের জাতীয় মান আন্তর্জাতিক মানের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে হবে, এবং বিটিএসআই’কে দেশের বাস্তব পরিস্থিতি বিবেচনায় রেখে এ মান নির্ধারণ করতে হবে।
বর্তমানে শিক্ষাখাতে জিডিপির মাত্র ১ শতাংশ বরাদ্দ রয়েছে; এটি বাড়িয়ে অন্তত ৫ শতাংশে উন্নীত করতে হবে। অন্যথায় উদ্ভাবন কেবল আলোচনার টেবিলেই সীমাবদ্ধ থাকবে, এবং বাস্তব অগ্রগতির চালিকাশক্তিতে পরিণত হবে না।

অধ্যাপক ড. সাইফুল ইসলাম, উপাচার্য, আমেরিকান ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি বাংলাদেশ
সরকারের একটি ডাটাবেস তৈরি করা উচিত, যাতে জানা যায় কার কী ধরনের সক্ষমতা রয়েছে। তা না হলে দেশের জ্ঞান ও দক্ষতা যথাযথভাবে কাজে লাগানো সম্ভব হবে না। আমাদের গবেষণা জাতীয় অগ্রাধিকার ও প্রয়োজনের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ হতে হবে। সরকারুঅর্থায়িত গবেষণার ফলাফল নিয়মিত পর্যালোচনা করা এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়গুলোকে তার বাস্তবায়ন ও প্রভাবের বিষয়ে অনুসরণ করতে হবে।

প্রকৌশলী রবিউল আলম, চেয়ারম্যান, এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিমিটেড
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উচিত, কোন পণ্যগুলো আমদানি হচ্ছে তা নির্ধারণে দিকনির্দেশনা দেওয়া, যাতে দেশীয় শিল্প উদ্যোক্তারা সেই খাতে বিনিয়োগের সুযোগ খুঁজে নিতে পারেন। এসব শিল্প প্রতিষ্ঠান একাডেমিয়ার সঙ্গে যৌথভাবে সেই পণ্য উৎপাদনে কাজ করতে পারে, যা ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ধারণাকে এগিয়ে নেবে।
এই লক্ষ্য অর্জনে বিটিএসআই-কে আরও সক্রিয় ভূমিকা নিতে হবে, কারণ মান নির্ধারণের দায়িত্বপ্রাপ্ত সরকারি সংস্থা এটি। তবে তাদের জাতীয় কমিটি বছরে মাত্র একবার বৈঠক করে—যা হতাশাজনক। আমাদের অধিকাংশ ল্যাবরেটরিরই এখনো স্বীকৃতি নেই। এ বিষয়ে বাংলাদেশ অ্যাক্রেডিটেশন বোর্ডের আরও সক্রিয় ভূমিকা নেওয়া জরুরি।
বিটিএসআই-এর লোগো ও মার্ক ব্যবহারের বর্তমান নীতিও শিল্পোন্নয়নে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে, কারণ এতে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মোট বিক্রির ১-২ শতাংশ পর্যন্ত ফি দিতে হয়। অথচ ভারতে রপ্তানির ক্ষেত্রে ইন্ডিয়ান স্ট্যান্ডার্ডস ব্যুরো কেবল টিএ/ডিএ ও পরীক্ষাগার খরচই গ্রহণ করে।
বাংলাদেশে আমার নিজস্ব ল্যাবের যন্ত্রপাতি দিয়ে পরীক্ষা করলেও বিটিএসআই মোট বিক্রির ওপর ফি ধার্য করে—যা অযৌক্তিক। মান নির্ধারণ কমিটি ও জাতীয় কমিটিতে আরও বেশি বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষকের অন্তর্ভুক্তি প্রয়োজন। সরকারের উচিত একাডেমিক বিশেষজ্ঞদের মতামত গ্রহণ করা, যাতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ” স্বপ্ন বাস্তবায়ন সম্ভব হয়।

মইনুল ইসলাম,সভাপতি, বাংলাদেশ সিরামিক ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যান্ড এক্সপোর্টার্স অ্যাসোসিয়েশনের (বিসিএমইএ)
আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়গুলো এখনো শিক্ষার্থীদের শিল্প পরিদর্শনের সুযোগ দেয় না—এখনই এ পরিস্থিতি পরিবর্তন করা দরকার। দেশের উন্নয়ন লক্ষ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার প্রয়োজন।

সাইফুর রহমান, চেয়ারম্যান, এসকেবি স্টেইনলেস স্টিল মিল লিমিটেড
আমাদের দেশে অসংখ্য উদ্ভাবনের সম্ভাবনা রয়েছে। যদি সরকার ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ধারণা বাস্তবায়নে চীনের মডেল অনুসরণ করে, তাহলে এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগানো অনেক সহজ হবে। চীনের অনেক ‘সানসেট ইন্ডাস্ট্রি’ বাংলাদেশে স্থানান্তরিত হতে পারে এবং সেগুলো আরও উন্নত করতে পারে।
এমনকি বৈদ্যুতিক যানবাহন প্রযুক্তিতেও বাংলাদেশের ভালো করার সুযোগ রয়েছে, যদি সরকার বেসরকারি খাতের সহযোগিতায় উদ্যোগ নেয়। চীনে অনেক শিল্প এমন যৌথ সহযোগিতায় গড়ে উঠেছে, যা থেকে সরকার রয়্যালটি ও মুনাফা ভাগাভাগির মাধ্যমে বিপুল রাজস্ব আয় করছে।
অন্যদের মধ্যে বক্তৃতা করেন—অধ্যাপক ড. মো. আবুল কাশেম মিয়া, উপাচার্য, ইউনাইটেড ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি (ইউআইইউ); অধ্যাপক এম. রফিকুল ইসলাম, উপাচার্য, ইসলামিক ইউনিভার্সিটি অব টেকনোলজি (আইইউটি); ড. খন্দকার মো. নাহিন মামুন, চেয়ারপারসন, মার্কেটিং অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল বিজনেস বিভাগ, নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয় (এনএসইউ); মোহাম্মদ হাসান আরিফ, ভাইস চেয়ারম্যান, রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরো (ইপিবি) এবং কর্নেল সৈয়দ রাশেদুল হক, বিভাগীয় প্রধান, ইন্ডাস্ট্রিয়াল অ্যান্ড প্রোডাকশন ইঞ্জিনিয়ারিং (আইপিই), মিলিটারি ইনস্টিটিউট অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি (এমআইএসটি)।
মিডিয়া পার্টনার দৈনিক সমকাল ও দি ফাইন্যান্সিয়াল এক্সপ্রেস
সুপারিশমালা
গবেষণা, শিল্প ও শিক্ষাঙ্গনের মধ্যে সংযোগ জোরদার করা
গবেষণার বাণিজ্যিকীকরণ ও উদ্ভাবন তহবিল গঠন
গবেষণার ফলাফল সমন্বয় ও প্রয়োগ
বৃদ্ধি করা
গবেষণা ও উন্নয়নে অর্থায়ন বৃদ্ধি এবং জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা
‘মেড ইন বাংলাদেশ’ দৃষ্টিভঙ্গিকে
সহায়তা করা
জাতীয় উদ্ভাবন কাউন্সিল গঠন
গবেষণায় বেসরকারি খাতের বিনিয়োগে প্রণোদনা প্রদান
বিশ্ববিদ্যালয়কেন্দ্রিক উদ্ভাবন ক্লাস্টার
গড়ে তোলা
বিএসটিআই সংস্কার এবং মান অবকাঠামো শক্তিশালী করা
বিজ্ঞান, প্রযুক্তি ও গণিত শিক্ষা এবং মানবসম্পদ উন্নয়নকে উৎসাহিত করা
প্রবাসী বাংলাদেশি বিজ্ঞানীদের বৈজ্ঞানিক জ্ঞান স্থানান্তরে সম্পৃক্ত করা
- বিষয় :
- গোলটেবিল
