এক পরিবারের সাতজন আক্রান্ত, তিনজনের মৃত্যু
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ১৯ মার্চ ২০২০ | ০৯:৩৫
প্রতি রোববার চাঁদের হাট বসত গ্রেস ফুসকোর বাসায়। তিনি ১১ সন্তানের মা, নাতি-নাতনি ২৭ জন। রোববার তাকে ঘিরে গির্জায় প্রার্থনায় বসত পরিবারের সব সদস্য। খ্রিষ্টানদের পবিত্র এই দিনটিতে ফুসকোর বাসায় আয়োজন করা হতো নৈশভোজের। সেখানে সমবেত হতেন আরও অনেক আত্মীয়স্বজন।
যুক্তরাষ্ট্রের নিউজার্সির প্রাণকেন্দ্রের বাসিন্দা ফুসকোর এমন সুন্দর পরিবারটি হঠাৎ লণ্ডভণ্ড হয়ে গেছে। ৭৩ বছর বয়সী ফুসকো করোনাভাইরাসে (কভিড-১৯ রোগে) আক্রান্ত হয়ে বুধবার রাতে মারা যান। তার কয়েক ঘণ্টা আগে একই রোগে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন তার ছেলে। এর পাঁচদিন আগে মারা গেছেন ফুসকোর মেয়ে।
ফুসকোর আরও চার সন্তান করোনায় আক্রান্ত। এর মধ্যে তিনজনের অবস্থা সংকটাপন্ন। তারা সবাই হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। তাদের আত্মীয় রোজিয়ান পারাদিসো ফডেরা নিউইয়র্ক টাইমসকে এসব তথ্য জানান।
অবস্থা এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে মমতাময়ী ফুসকো বা তার সন্তানদের জন্য চোখের জল ফেলার মতো লোকও এই মুহূর্তে নেই। তার পরিবারের ২০ সদস্য হোম কোয়ারেন্টাইনে আছেন। ফলে একত্রিত হয়ে মৃতদের আত্মার জন্য প্রার্থনার সুযোগও নেই তাদের। ফুসকোর পরিবারটি ইতালীয় বংশোদ্ভূত।
গত শুক্রবার মারা যান ফুসকোর ৫৫ বছর বয়সী মেয়ে রিতা ফুসকো জ্যাকসন। মৃত্যুর পর জানা যায় রিতা করোনায় আক্রান্ত হয়েছিলেন। ফুসকোর বড় ছেলে কারমাইন ফুসকো মারা যান বুধবার। সেদিনই গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়েন তার মা ফুসকো। তিনি ভেন্টিলেটরের সাহায্যে শ্বাসপ্রশ্বাস নিচ্ছিলেন। ছেলে ও মেয়ের মৃত্যুর খবর তার কাছে গোপন রাখা হয়েছিল।
বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত নিউজার্সিতে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মারা গেছে ৫ জন। এ রাজ্যে আক্রান্ত হয়েছেন ৪২৭ জন। যুক্তরাষ্ট্রে দ্রুত বাড়ছে করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা। তবে পুরো একটি পরিবার এভাবে তছনছ হয়ে যাওয়ার ঘটনা বিরল। পারাদিসো ফডেরা বলেন, ফুসকোর সন্তানরা ছিলেন তরুণ। তারা অন্য রোগেও আক্রান্ত ছিলেন না।
ফুসকোর পরিবারটি ঘোড়দৌড় শিল্পে জড়িত ছিল। করোনায় আক্রান্ত হয়ে গত ১০ মার্চ নিউজার্সিতে প্রথম একজন মারা যান। তার সংস্পর্শে আসা এক ব্যক্তি ফুসকোদের একটি পারিবারিক অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলেন বলে জানান রাজ্যের একজন স্বাস্থ্য কর্মকর্তা।
ফুসকো মারা যান সেন্ট্রাস্টেট মেডিকেল সেন্টারে। ওই হাসপাতালের প্রধান মেডিকেল অফিসার ডা. জেমস ম্যাটেরা বলেন, এক পরিবারের এত মানুষের আক্রান্ত হওয়াটা অভিনব ব্যাপার। তিনি রাজ্য ও কেন্দ্রীয় স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের বিষয়টি অবহিত করেছেন।
- বিষয় :
- করোনার প্রাদুর্ভাব
- যুক্তরাষ্ট্র
- নিউ জার্সি
