চীনের খাদ্য ও সার মজুত বন্ধ করা উচিত: বিশ্বব্যাংকের সাবেক প্রধান
সাবেক বিশ্বব্যাংক প্রধান ডেভিড রবার্ট ম্যালপাস। ছবি: সংগৃহীত
বিবিসি
প্রকাশ: ১২ মে ২০২৬ | ১০:৩০ | আপডেট: ১২ মে ২০২৬ | ১০:৪৩
সাবেক বিশ্বব্যাংক প্রধান ডেভিড রবার্ট ম্যালপাস বলেছেন, বৈশ্বিক খাদ্য ও সার সংকট কমাতে চীনের অতিরিক্ত মজুত নীতি বন্ধ করা উচিত। ইরান যুদ্ধের কারণে সৃষ্ট সরবরাহ সংকটের মধ্যেই তিনি এ মন্তব্য করেন।
বিবিসির বিশ্ব বাণিজ্যবিষয়ক অনুষ্ঠানে দেওয়া সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, “চীনের কাছে বিশ্বের সবচেয়ে বড় খাদ্য ও সার মজুত রয়েছে। তারা চাইলে এই মজুত বৃদ্ধি বন্ধ করতে পারে।”
বর্তমানে বিশ্বের বিভিন্ন দেশ চাষাবাদের মৌসুমের আগে সার সরবরাহ নিশ্চিত করতে ব্যস্ত। এদিকে হরমুজ প্রণালির অচলাবস্থার কারণে সার পরিবহন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়েছে।
চীন মার্চ মাস থেকেই সার রপ্তানি বন্ধ রেখেছে। দেশটির দাবি, অভ্যন্তরীণ বাজারে সরবরাহ নিশ্চিত করতেই এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
দুই হাজার উনিশ থেকে দুই হাজার তেইশ সাল পর্যন্ত বিশ্বব্যাংকের নেতৃত্ব দেওয়া ম্যালপাস আরও বলেন, চীনের নিজেদের “উন্নয়নশীল দেশ” হিসেবে উপস্থাপন করা এখন আর গ্রহণযোগ্য নয়।
তার ভাষায়, “চীন বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম অর্থনীতি। অনেক দিক থেকেই তারা ধনী দেশ। তারপরও তারা বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থা ও বিশ্বব্যাংকে নিজেদের উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে তুলে ধরে যাচ্ছে।”
তবে ওয়াশিংটনে চীনা দূতাবাসের মুখপাত্র লিউ পেংইউ এসব অভিযোগ প্রত্যাখ্যান করেছেন। তিনি বলেন, “চীন বৈশ্বিক খাদ্য ও সার বাজারের স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।”
তিনি আরও দাবি করেন, বর্তমান সংকটের প্রকৃত কারণ অন্যত্র এবং এর দায় চীনের ওপর চাপানো ঠিক নয়।
চীনের উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা প্রসঙ্গে লিউ পেংইউ বলেন, “চীন বিশ্বের সবচেয়ে বড় উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে স্বীকৃত এবং এই অবস্থান বজায় রাখা তাদের বৈধ অধিকার।”
ইরান যুদ্ধ ও হরমুজ প্রণালির পরিস্থিতি নিয়ে ম্যালপাস বলেন, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের উচিত যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে এক হয়ে সমাধানের দাবি তোলা।
তিনি বলেন, “কোনো উচ্ছৃঙ্খল রাষ্ট্রের হাতে প্লুটোনিয়াম থাকতে পারে না এবং হরমুজ প্রণালি অবরুদ্ধ করাও গ্রহণযোগ্য নয়।”
ম্যালপাস আশা প্রকাশ করেন, চীনও এই সংকট নিরসনে ভূমিকা রাখবে। কারণ উন্মুক্ত সমুদ্রপথ চীনের অর্থনৈতিক স্বার্থের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, “চীন বিশ্ব বাণিজ্য থেকে ব্যাপক লাভবান হয়। তাই ইরান যদি হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করে, তাহলে সবচেয়ে বড় ক্ষতিগ্রস্তদের একটি হবে চীন।”
এদিকে যুক্তরাষ্ট্রের মূল্যস্ফীতি পরিস্থিতি নিয়েও মন্তব্য করেন ম্যালপাস। তিনি বলেন, “অনেক পণ্যের দাম আরও বাড়বে বলে আমি মনে করি।” তবে শক্তিশালী কর্মসংস্থান পরিস্থিতির কারণে মার্কিন অর্থনীতি এখনও স্থিতিশীল রয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
- বিষয় :
- বিশ্বব্যাংক
- চীন
- ইরান
