ট্রাম্পের চীন সফরে কারা থাকছেন সঙ্গে?
ইলন মাস্ক, টিম কুক। ছবি: সংগৃহীত
বিবিসি
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ১১:১০
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প-এর এই সপ্তাহের চীন সফরে তাঁর সঙ্গে থাকছেন ব্যবসা ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষ পর্যায়ের একদল নির্বাহী। বেইজিং সফরে ট্রাম্পের সঙ্গে যাচ্ছেন টিম কুক, ইলন মাস্ক, ল্যারি ফিঙ্ক-সহ মেটা, ভিসা, জেপি মরগ্যান, বোয়িং ও কারগিলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নির্বাহী।
পরিকল্পনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বিবিসিকে জানিয়েছেন, মোট ১৭ জন মার্কিন নির্বাহী ট্রাম্পের সঙ্গে এই সফরে যোগ দিচ্ছেন।
এই সফরকে যুক্তরাষ্ট্রের জন্য গুরুত্বপূর্ণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। কারণ, দুই দেশের মধ্যে ক্রমবর্ধমান অর্থনৈতিক ও প্রযুক্তিগত উত্তেজনার মধ্যে চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিন পিং-এর সঙ্গে বৈঠকে বসবেন ট্রাম্প।
মাস্ক, কুক ও ফিঙ্ক ছাড়াও ট্রাম্পের সফরসঙ্গীদের তালিকায় রয়েছেন-
- ডিনা পাওয়েল ম্যাককরমিক, মেটার প্রেসিডেন্ট ও ভাইস চেয়ার
- কেলি অর্টবার্গ, বোয়িংয়ের প্রধান নির্বাহী
- রায়ান ম্যাকইনার্নি, ভিসার প্রধান নির্বাহী
- স্টিফেন শোয়ার্জম্যান, ব্ল্যাকস্টোনের প্রধান নির্বাহী
- ব্রায়ান সাইকস, কারগিলের চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী
- জেন ফ্রেজান, সিটির প্রধান নির্বাহী
- জিম অ্যান্ডারসন, কোহেরেন্টের প্রধান নির্বাহী
- হেনরি লরেন্স কাল্প, জিই অ্যারোস্পেসের প্রধান নির্বাহী
- ডেভিড সলোমন, গোল্ডম্যান স্যাকসের প্রধান নির্বাহী
- জ্যাকব থেইসেন, ইলুমিনার প্রধান নির্বাহী
- মাইকেল মিবাখ, মাস্টারকার্ডের প্রেসিডেন্ট
তালিকায় শুরুতে না থাকলেও এক চমকপ্রদ ঘটনায় বেইজিংগামী এয়ার ফোর্স ওয়ানে উঠতে দেখা গেছে জেনসেন হুয়াং-কে। তাঁর প্রতিষ্ঠান এনভিডিয়া যুক্তরাষ্ট্র-চীন চিপ ও কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) প্রতিযোগিতার কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে।
এনভিডিয়ার এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেন, “আমেরিকা ও প্রশাসনের লক্ষ্যকে সমর্থন করতেই প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের আমন্ত্রণে জেনসেন এই সম্মেলনে যোগ দিচ্ছেন।”
অন্যদিকে, সিসকোর চেয়ারম্যান ও প্রধান নির্বাহী চাক রবিনস-কে সফরে যোগ দেওয়ার আমন্ত্রণ জানানো হলেও আয়ের হিসাবসংক্রান্ত ব্যস্ততার কারণে তিনি যেতে পারছেন না বলে জানিয়েছে কোম্পানিটি।
প্রযুক্তি, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম, ভোক্তা পণ্য, চিপ শিল্প ও উৎপাদন খাত-মার্কিন ব্যবসার বিস্তৃত বিভিন্ন খাতের প্রতিনিধিত্ব করছেন এসব নির্বাহী।
ক্যালিফোর্নিয়াভিত্তিক বায়োটেক প্রতিষ্ঠান ইলুমিনার এক মুখপাত্র বলেছেন, “এই প্রতিনিধি দলের অংশ হতে পেরে থেইসেন সম্মানিত বোধ করছেন। আমরা আশা করছি, এই সফর সম্পর্ক জোরদার ও প্রিসিশন মেডিসিনের ভবিষ্যৎ গঠনে ভূমিকা রাখবে।”
অন্য কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিরা তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেননি।
ট্রাম্পের এই সফর প্রায় এক দশকের মধ্যে কোনো মার্কিন প্রেসিডেন্টের প্রথম চীন সফর। এর আগে দুই দেশের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্ক আরোপের ফলে বাণিজ্যযুদ্ধ শুরু হয়েছিল, যেখানে শুল্কের হার একসময় ১০০ শতাংশ ছাড়িয়ে যায়।
২০২৫ সালের অক্টোবরে দক্ষিণ কোরিয়ায় ট্রাম্প ও শি জিন পিংয়ের শেষ বৈঠকের পর সেই শুল্ক সাময়িকভাবে স্থগিত করা হয়।
আসন্ন বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরান যুদ্ধ বড় ইস্যু হয়ে উঠতে পারে। এই যুদ্ধের কারণেই ট্রাম্প ও সির বৈঠক পিছিয়ে গিয়েছিল।
ধারণা করা হচ্ছে, ইরানের কাছ থেকে সস্তা তেলের ওপর নির্ভরশীল চীনকে ব্যবহার করে তেহরান ও ওয়াশিংটনের মধ্যে যুদ্ধ অবসানের চুক্তি এগিয়ে নিতে চাইবেন ট্রাম্প।
চীনও এই সংঘাতের অবসান চায়। কারণ, যুদ্ধের কারণে তেলের সরবরাহ সীমিত হওয়ায় চীনা পণ্য আমদানিকারক দেশগুলোর ক্রয়ক্ষমতায় প্রভাব পড়ছে।
তবে বিশাল তেল মজুত ও বহুমুখী জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থার কারণে যুদ্ধের প্রভাব চীন এখন পর্যন্ত অনেক প্রতিবেশী দেশের তুলনায় ভালোভাবে সামাল দিতে পেরেছে।
- বিষয় :
- যুক্তরাষ্ট্র
- ডোনাল্ড ট্রাম্প
- চীন সফর
