ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

এআই ব্যবহার করে টিকা তৈরির দাবি কেমব্রিজের গবেষকদের

এআই ব্যবহার করে টিকা তৈরির দাবি কেমব্রিজের গবেষকদের
×

টিকা তৈরির জন্য জিনগত কোড বিশ্লেষণে কাজে লাগানো হয়েছে এআই। প্রতীকী ছবি

বিবিসি

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ১৪:২১

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই ব্যবহার করে একটি নতুন ধরনের টিকা তৈরির দাবি করেছেন যুক্তরাজ্যের কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকরা। এই টিকা বিভিন্ন ধরনের ভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর এবং ভবিষ্যতে মহামারি প্রতিরোধে সহায়ক হতে পারে।

গবেষকরা বলছেন, টিকার মূল নকশাটি সম্পূর্ণভাবে এআইয়ের সাহায্য নিয়ে তৈরি করা হয়েছে। পরে সেটি মানুষের শরীরে পরীক্ষা করে দেখা হয়। এ ধরনের ঘটনা বিশ্বে এবারই প্রথম। তবে গবেষণাটি এখনও প্রাথমিক পর্যায়ে আছে।

টিকাটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছে, যাতে সেটি সব ধরনের করোনাভাইরাসের বিরুদ্ধে কার্যকর হতে পারে। ভবিষ্যতে মহামারির কারণ হতে পারে এমন ভাইরাসের বিরুদ্ধেও টিকাটি কাজ করবে। গবেষক দলটি ইতোমধ্যে ইনফ্লুয়েঞ্জা ও ইবোলা মোকাবিলায় আলাদা টিকা তৈরির কাজ শুরু করেছে।

টিকা সাধারণত মানুষের শরীরকে কোনো সংক্রমণ শনাক্ত করতে শেখায়। তবে কিছু ভাইরাস খুব দ্রুত নিজেদের বৈশিষ্ট্য বদলে ফেলতে পারে। এটিকে মিউটেশন বলা হয়। এ কারণে অনেক সময় টিকা দ্রুত কার্যকারিতা হারায় বা পুরোনো হয়ে যায়। এজন্য কোভিড-১৯ ও মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জার টিকা নিয়মিত হালনাগাদ করতে হয়।

কেমব্রিজ বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক জনাথন হিনি বলেন, ‘সাধারণত ভাইরাস ছড়ানোর পর টিকা নিয়ে কাজ হয়। কিন্তু আমরা এখন এমন কিছু করার চেষ্টা করছি, যাতে ভাইরাস ছড়ানোর আগেই প্রস্তুত থাকতে পারি।’

অধ্যাপক হিনি আরও বলেন, ‘আমাদের লক্ষ্য এগিয়ে থাকা। যাতে নতুন কোনো সংক্রমণের প্রাদুর্ভাব বা মহামারি শুরু হওয়ার আগেই সুরক্ষা নিশ্চিত করা যায়।’

কীভাবে কাজ করে?
সাধারণত কোনো ভাইরাসের বিদ্যমান বা প্রচলিত ধরনের ওপর ভিত্তি করে টিকা তৈরি করা হয়। কেমব্রিজের গবেষকেরা বিভিন্ন ধরনের করোনাভাইরাসের পরিচিত জিনগত কোড সংগ্রহ করেন। এরপর এআই কোডগুলো বিশ্লেষণ করে। সেই বিশ্লেষণের ভিত্তিতে এটি একটি ‘সুপার-অ্যান্টিজেন’ তৈরি করেছে। 

এই অ্যান্টিজেন করোনাভাইরাসের সব ধরনের বিরুদ্ধে সুরক্ষা গড়ে তোলার জন্য শরীরের রোগপ্রতিরোধ ব্যবস্থাকে প্রশিক্ষণ দেয়। এমনকি ভাইরাসের মিউটেশন ঘটলে বা প্রাণী থেকে মানুষের মধ্যে নতুন কোনো সংক্রমণ ছড়ালেও এই সুরক্ষা ব্যবস্থা কার্যকর থাকে।

অধ্যাপক জনাথন হিনি বলেন, এই প্রযুক্তি বিস্ময়কর। মহামারির জন্য আমরা যেভাবে প্রস্তুতি নিই, এই প্রযুক্তি সেই পদ্ধতিতে মৌলিক পরিবর্তন আনছে।

আরও পড়ুন

×