পরিকল্পনা বদলালেন ককরোচপ্রধান
ছবি: সংগৃহীত
সমকাল ডেস্ক
প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ২৩:১২
পরিকল্পনা বদলেছেন ভারতের বহুল আলোচিত ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দীপকে। শনিবার তাঁর আসার কথা ছিল দিল্লি বিমানবন্দরে। এর আগে সমর্থকদের অনুরোধ জানিয়েছিলেন, তারা যেন তাঁকে নিতে বিমানবন্দরে আসে। সেখান থেকে তারা পার্ক স্ট্রিট থানায় যাবেন, যাতে নয়াদিল্লির যন্তর মন্তরে প্রতিবাদ কর্মসূচির অনুমতি পাওয়া যায়। তবে গত বৃহস্পতিবার পরিকল্পনা পাল্টে দীপকে জানান, শনিবার নয়, শুক্রবার আসবেন তিনি। কেউ যাতে বিমানবন্দরে না আসেন।
কারণ হিসেবে তিনি জানান, তাদের কর্মসূচিতে এত মানুষ সাড়া দিয়েছেন, সবাই বিমানবন্দরে এলে সেখানকার কাজে বিঘ্ন হবে। এর বদলে তিনি দেশে ফিরে একাই অনুমতি আনতে যাবেন পার্লামেন্ট স্ট্রিট থানায়, সবাই শুধু যন্তর মন্তরের বিক্ষোভে হাজির হলেই হবে। শুক্রবার সামাজিক মাধ্যমে অভিজিৎ দীপকের শেষ পোস্ট ছিল, ‘ভারতের পথে আছি ... আমার ভাগ্যকে সংবিধানের হাতে ছেড়ে দিলাম।’ ৩০ বছর বয়সী দীপকে যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টন ইউনিভার্সিটিতে পড়ালেখা করেন।
মূলত ভারতের কেন্দ্রীয় শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের দাবিতে বিক্ষোভ কর্মসূচির ঘোষণা দিয়েছে সিজেপি। সাম্প্রতিক সময়ে প্রশ্ন ফাঁস ও মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা নিট-ইউজি বাতিল এবং দেশটির দ্বাদশ শ্রেণির শিক্ষার্থীদের পরীক্ষার মূল্যায়ন প্রক্রিয়া নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়েছেন শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধান। সিজেপি মূলত আত্মপ্রকাশ করেছিল ব্যঙ্গাত্মক মিম পেজ হিসেবে। নিজেদের এখন প্রেশার গ্রুপ হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে তারা। সম্প্রতি সিজেপির তিন মুখপাত্রও সামনে এসেছেন।
এর আগে গত সোমবার সামাজিক মাধ্যম এক্সে পোস্ট করা এক ভিডিও বার্তায় অভিজিৎ দীপকে বলেন, প্রশ্নপত্র ফাঁস হওয়ার কারণে বহু শিক্ষার্থী আত্মহত্যার পথ বেছে নিয়েছেন। শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগের দাবিতে স্বাক্ষর করেছেন আট লাখ তেলাপোকা।
প্রসঙ্গত, সিজেপি প্রতিষ্ঠিত হওয়ার আগে ভারতের সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত দেশের তরুণ সমাজের একাংশের প্রতি কটাক্ষ করে বলেন, ‘এক শ্রেণির তরুণ রয়েছেন, যারা কোথাও কিছুই করতে পারেননি। কোনো পেশায় জায়গা করে নিতে পারেননি। কোনো কাজ জোগাড় করতে পারেননি। তাদের কেউ সাংবাদিক হয়েছেন, কেউ সামাজিক মাধ্যমে ঢুকে গেছেন, কেউ আইন পেশায়, কেউবা তথ্য জানার অধিকার আন্দোলনের কর্মী।’ এই তরুণদের ‘তেলাপোকা’ হিসেবে অভিহিত করেন তিনি। ওই মন্তব্যের পরপরই সামাজিক মাধ্যমে ককরোচ জনতা পার্টি শুরু করেন অভিজিৎ দীপকে। ভারতের ক্ষুব্ধ তরুণরা অনলাইনে একাট্টা হন।
অল্প সময়ের মধ্যেই ইনস্টাগ্রামে সিজেপির অনুসারীর সংখ্যা গিয়ে ঠেকে দুই কোটির ঘরে। আর তাদের এক্স অ্যাকাউন্টে সদস্য সংখ্যা দুই লাখ ছাড়িয়ে যায়। ইনস্টাগ্রামে ভারতের ক্ষমতাসীন বিজেপি ও বিরোধী দল কংগ্রেসের যত অনুসারী রয়েছে, তার চেয়েও বেশি পেয়েছে সিজেপি। ভারত সামাজিক মাধ্যমের কনটেন্ট অত্যন্ত দৃঢ়ভাবে নিয়ন্ত্রণ করে। সিজেপির বেশ কয়েকটি অ্যাকাউন্ট দেশে ব্লক করে দেওয়া হয়েছে, তবে ইনস্টাগ্রাম অ্যাকাউন্টটি ভারত থেকেই দেখা যাচ্ছে। খবর এএফপি, রয়টার্সের।
- বিষয় :
- ভারত
- ককরোচ জনতা পার্টি
