ইরান যুদ্ধের ধোঁয়াশা কাটেনি, চুক্তি নিয়ে আশাবাদী ট্রাম্প
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ জুন ২০২৬ | ০৯:০০ | আপডেট: ১০ জুন ২০২৬ | ১০:২৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
লেবানন বা ইরানের ভূখণ্ডে আবার হামলা হলে ইসরায়েলে তীব্র আঘাত হানার হুঁশিয়ারি দিয়েছিল ইরান। সে সতর্কবার্তার পরও লেবাননের দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। শেষ খবর পাওয়া পর্যন্ত ইসরায়েলে পাল্টা আঘাত হানেনি তেহরান। তবে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আগেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে জানিয়ে দিয়েছেন, নতুন করে আবার ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্র তাদের পাশে থাকবে না।
চীনা সংবাদমাধ্যম শিনহুয়ার খবর বলছে, ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যে গত সোমবার হয়ে যাওয়া পাল্টাপাল্টি হামলায় ইরানি বিমানবাহিনীর দুই সদস্য নিহত হয়েছেন। গতকাল মঙ্গলবার এ তথ্য নিশ্চিত করেছে ইরানের সামরিক বাহিনী। এক বিবৃতিতে দেশটির সামরিক বাহিনী জানায়, মঙ্গলবার বিকেলে বাহমান হোসেইনি ও আলিরেজা আবিরির জানাজা অনুষ্ঠিত হবে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএ জানায়, গত সোমবার ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছে। সংবাদমাধ্যমটি আরও জানায়, পুরো দেশে ইসরায়েল ১২টি স্থানে আঘাত হেনেছে।
হরমুজ প্রণালিতে যুক্তরাষ্ট্রের হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত
এদিকে, হরমুজ প্রণালির কাছে গতকাল যুক্তরাষ্ট্রের একটি সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানান, ওই ঘটনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোনো সেনা নিহত হননি। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে হরমুজ প্রণালি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রেখেছে ইরান। পরে যুক্তরাষ্ট্রও অবরোধ দিয়েছে হরমুজ প্রণালিতে।
ঠিক কী কারণে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়েছে তা জানা যায়নি। ঘটনাটি সম্পর্কে প্রথম জানায় মার্কিন সংবাদমাধ্যম দ্য নিউইয়র্ক টাইমস। পরে জন এফ. কেনেডি বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার সময় ট্রাম্প জানান, হেলিকপ্টার বিধ্বস্তের ঘটনা সত্য। তিনি বলেন, ‘পাইলটরা ভালো আছেন। কেউ আহত হননি।’
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আলজাজিরা জানায়, ইরান হেলিকপ্টারটি ভূপাতিত করেছে বলে দাবি করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। তিনি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র অবশ্যই এর জবাব দেবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী সেন্ট্রাল কমান্ড এক বিবৃতিতে জানায়, সোমবার দিনগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে ওমান উপকূলীয় এলাকায় টহল দিতে গিয়ে বিধ্বস্ত হয় হেলিকপ্টারটি। দুই ঘণ্টার মধ্যে ক্রুদের উদ্ধার করা হয়েছে।
মে মাসে কংগ্রেসে জমা পড়া এক প্রতিবেদনের বরাতে জানা গেছে, ইরান যুদ্ধে এ পর্যন্ত অন্তত ৪২টি মার্কিন আকাশযান হয় হারিয়ে গেছে বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সবচেয়ে বেশি ক্ষতির মুখে পড়েছে রিপার ড্রোন। তবে যুক্তরাষ্ট্রকে অনুসন্ধান ও উদ্ধারের কাজে ব্যবহৃত হেলিকপ্টার, যুদ্ধবিমান ও তেলের জোগান দেওয়া বিমানও হারাতে হয়েছে যুদ্ধে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর মধ্য দিয়ে সূত্রপাত হয় এ যুদ্ধের। এর জেরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে ব্যাপক চাপ পড়ে। গোটা বিশ্বেই জ্বালানির দাম বৃদ্ধি পায়। অনেক স্থানেই খাবার থেকে শুরু করে বহু নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের দাম বেড়ে যায়। পরে এপ্রিলে যুদ্ধবিরতি হলেও এখন পর্যন্ত সেটিকে পূর্ণাঙ্গ ও চূড়ান্ত কিছুতে রূপ দিতে ব্যর্থ হয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। পুরো বিষয়টির ক্ষেত্রে বেশ কয়েকটি ইস্যু বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
চুক্তি অতি সন্নিকটে : ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েল ও ইরানের মধ্যে চুক্তি অতি সন্নিকটে এবং দুই পক্ষ একে অন্যকে লক্ষ্য করে অন্তত এক সপ্তাহ কোনো আঘাত হানবে না। তিনি গত সোমবার শেষভাগে সাংবাদিকদের বলেন, যুক্তরাষ্ট্র অত্যন্ত ভালো একটি চুক্তির চূড়ান্ত ধাপে রয়েছে। চুক্তি স্বাক্ষর হয়ে যাওয়ার পর তাৎক্ষণিকভাবে হরমুজ প্রণালি খুলে দেওয়া হবে।
ট্রাম্প সে সময় বলেন, ‘আমরা চাইলে খুব সহজেই বোমা ফেলতে পারি। আমরা যদি আরও দুই বা তিন সপ্তাহ ইরানে বোমাবর্ষণ করি, সেখানে কিছুই থাকবে না। সেক্ষেত্রে কয়েক মাস ধরে হরমুজ বন্ধ থাকবে।’ ট্রাম্প উল্লেখ করেন, ইরানকে চুক্তিতে রাজি করাতে বোমা ফেলার বদলে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ দেওয়া আরও বেশি কার্যকর হয়েছে।
এদিকে পাকিস্তান সরকারের সূত্র জানায়, ডোনাল্ড ট্রাম্প চুক্তির বিষয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করলেও আগামী দুই থেকে তিন দিনের মধ্যে কোনো ফলাফল আসার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। যুদ্ধের সময় থেকেই পাকিস্তান যুদ্ধবিরতির লক্ষ্যে মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করে আসছে।
নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত
একাধিক পশ্চিমা গণমাধ্যমের খবর বলছে, ট্রাম্প নেতানিয়াহুর ওপর বিরক্ত হয়ে উঠেছেন। যুক্তরাষ্ট্রের গণমাধ্যম অ্যাক্সিওসকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট জানান, যুদ্ধের পরিণতি সম্পর্কে ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীকে তিনি সতর্ক করেছেন। তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি– বিবি (নেতানিয়াহু) আপনি সতর্ক হন। নাহয় দ্রুত একা হয়ে পড়বেন।’
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স গত সোমবার ফক্স নিউজকে এক সাক্ষাৎকারে জানান, ইরানের সঙ্গে যে কোনো শান্তি চুক্তি মার্কিন জনসাধারণের জন্য সুফল বয়ে আনবে, ইসরায়েল সেটি পছন্দ করুক বা না-ই করুক।