ঢাকা শুক্রবার, ০৩ জুলাই ২০২৬

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে হত্যার পর জ্বালিয়ে দেওয়া হলো বিমান

ইন্দোনেশিয়ায় মার্কিন পাইলটকে হত্যার পর জ্বালিয়ে দেওয়া হলো বিমান
×

পাহাড়ঘেরা এই অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে বিচ্ছিন্নতাবাদী সহিংসতার কেন্দ্রস্থল। ছবি- গেটি ইমেজ

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫০ | আপডেট: ০৩ জুলাই ২০২৬ | ০৮:৫৮

ইন্দোনেশিয়ার পাপুয়া প্রদেশে এক মার্কিন পাইলটকে গুলি করে হত্যার পর তার বিমানে আগুনে জ্বালিয়ে দিয়েছে বিচ্ছিন্নতাবাদীরা। ওয়েস্ট পাপুয়া ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিপিএনপিবি) দাবি করছে, বৃহস্পতিবার হাইল্যান্ড পাপুয়া প্রদেশে অবতরণের পর তারা মার্কিন পাইলট নিকোলাস এফ গোসেলিনকে গুলি করে হত্যা করে এবং বিমানটিতে আগুন ধরিয়ে দেয়। তাদের অভিযোগ, বেসামরিক বিমানগুলো ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য ও সামরিক সরঞ্জাম পরিবহন করা হচ্ছিল। গসেলিনকে হত্যার মাধ্যমে তারা একটি বার্তা দিতে চেয়েছে বলেও দাবি করেছে সংগঠনটি।

এদিকে ইন্দোনেশিয়ার কর্মকর্তারা জানিয়েছে, ইয়াহুকিমো অঞ্চলের একটি বিমানবন্দরে মার্কিন পাইলট পরিচালিত একটি বিমান আগুনে পুড়ে যাওয়ার ঘটনা নিশ্চিত হওয়া গেছে। তবে পাইলট ও বিমানে থাকা সাত যাত্রীর কী ঘটেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ জানায়, বিমানটি অবতরণের আগে কোনো নিরাপত্তা ঝুঁকির তথ্য পাওয়া যায়নি। তবে অবতরণের পরপরই বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী পাইলট নিহত হয়েছেন। তবে ঘটনার প্রকৃত কারণ সম্পর্কে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের তদন্ত শেষ না হওয়া পর্যন্ত নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।

ইন্দোনেশিয়ার যৌথ পুলিশ-সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র ইউসুফ সুতেজো বলেন, বিমানটি বিদ্রোহীদের হামলার শিকার হয়েছিল কি না বা বিমানে থাকা অন্যদের কী হয়েছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

অন্যদিকে টিপিএনপিবির মুখপাত্র সেবি সামবম এক বিবৃতিতে জানান, বেসামরিক বিমান ব্যবহার করে ইন্দোনেশিয়ার সামরিক কার্যক্রম পরিচালনার অভিযোগে তারা পাপুয়া অঞ্চলে সব ধরনের ফ্লাইট নিষিদ্ধ ঘোষণা করেছিল।

তিনি বলেন, টিপিএনপিবির আল্টিমেটাম অমান্য করায় আমরা বিমানটিতে গুলি চালাই এবং আগুন ধরিয়ে দিই। ইন্দোনেশিয়ার সেনাবাহিনীর সদস্য বা সামরিক সরঞ্জাম পরিবহনে সহায়তা করলে পাপুয়া অঞ্চলে যেকোনো বেসামরিক বিমানকে লক্ষ্য করে হামলা চালানো হবে।

সামবম আরও বলেন, নিহত পাইলটের মরদেহ নিতে চাইলে ইন্দোনেশিয়ার কর্তৃপক্ষকে কোনো সামরিক বা পুলিশ সদস্য ছাড়া ঘটনাস্থলে আসতে হবে। পাশাপাশি তিনি পাপুয়া সংকট নিরসনে ইন্দোনেশিয়া সরকারের সঙ্গে আলোচনার আহ্বান জানান।

উল্লেখ্য, ১৯৬৯ সালে পাপুয়া ইন্দোনেশিয়ার অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকেই স্বাধীনতার দাবিতে সেখানে বিচ্ছিন্নতাবাদী আন্দোলন চলছে। বিদ্রোহীদের দাবি, এই সংঘাতে বহু বেসামরিক মানুষ নিহত এবং বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

এর আগে ২০২৪ সালে একই বিদ্রোহী গোষ্ঠীর হাতে ১৯ মাস আটক থাকার পর এক নিউজিল্যান্ডের পাইলটকে দীর্ঘ আলোচনার মাধ্যমে মুক্ত করা হয়। একই বছরের এক মাস আগে ওই গোষ্ঠীর হামলায় আরেক নিউজিল্যান্ডের হেলিকপ্টার পাইলট গ্লেন ম্যালকম কনিং নিহত হন।

সূত্র: বিবিসি 

আরও পড়ুন

×