শিক্ষামন্ত্রীর পদত্যাগ দাবিতে ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে ‘ককরোচ জনতা পার্টি’র মিছিল
পার্লামেন্ট অভিমুখে মিছিলের আগে দিল্লির যন্তর মন্তরে জাতীয় পতাকা হাতে বিক্ষোভকারীরা। ছবি: বিবিসি
বিবিসি
প্রকাশ: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:২০ | আপডেট: ২০ জুলাই ২০২৬ | ১১:২৩
ভারতের শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কারের দাবিতে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন থেকে গড়ে ওঠা ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)-এর ডাকে আজ ভারতের পার্লামেন্ট অভিমুখে বড় মিছিল হওয়ার কথা রয়েছে। এতে হাজারো শিক্ষার্থী, অভিভাবক, সমাজকর্মী ও বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন বলে আয়োজকদের দাবি।
মিছিলকে ঘিরে রাজধানী দিল্লির যন্তর মন্তর এলাকায় কড়া নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মোতায়েন করা হয়েছে শত শত পুলিশ ও আধাসামরিক বাহিনীর সদস্য। এলাকায় যাওয়ার বিভিন্ন সড়কে ব্যারিকেড বসানো হয়েছে এবং যানবাহন তল্লাশি চলছে।
তবে দিল্লি পুলিশ জানিয়েছে, এই মিছিলের অনুমতি দেওয়া হয়নি। যদিও সিজেপির এক মুখপাত্র বিবিসিকে বলেছেন, অনুমতি না থাকলেও নির্ধারিত কর্মসূচি অনুযায়ী তারা পার্লামেন্টের দিকে পদযাত্রা করবেন।
শনিবার আন্দোলনে নতুন করে উত্তেজনা সৃষ্টি হয়, যখন সিজেপির সমর্থনে টানা ২১ দিন ধরে অনশনরত শিক্ষাবিদ ও সমাজকর্মী সোনম ওয়াংচুককে পুলিশ জোর করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। তিনি সেখানেও অনশন চালিয়ে যাচ্ছেন। সোমবারের মিছিলে ওয়াংচুকের স্ত্রী গীতাঞ্জলি আংমো অংশ নিতে পারেন বলে জানা গেছে।
সিজেপির প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে বলেছেন, ওয়াংচুককে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দিয়ে মিছিলে যোগ দেওয়ার সুযোগ দিতে হবে। তিনি নিজেও অনশনে বসার ঘোষণা দিয়েছেন। যন্তর মন্তরের সমাবেশে হাতে ভারতের জাতীয় পতাকা ও সংবিধান তুলে ধরে তিনি উপস্থিত জনতাকে আন্দোলনের 'প্রথম বিজয়' বলে অভিহিত করেন।
ওয়াংচুক জানিয়েছেন, তিনটি শর্তের যেকোনো একটি পূরণ হলে তিনি অনশন ভাঙবেন-
- শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় সরকার আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকার করবে।
- তিনি ও সিজেপির নেতারা পার্লামেন্টে পৌঁছাতে পারবেন এবং সংসদ সদস্যরা বিষয়টি উত্থাপনের আশ্বাস দেবেন।
- অথবা সংসদ সদস্যরা হাসপাতালে গিয়ে একই ধরনের আশ্বাস দেবেন।
গত মে মাসে বিভিন্ন পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁস ও অনিয়মের প্রতিবাদে অনলাইনে ব্যঙ্গাত্মক আন্দোলন হিসেবে সিজেপির যাত্রা শুরু হয়। পরে এটি দেশজুড়ে একটি বড় আন্দোলনে পরিণত হয়। তাদের প্রধান দাবি হলো, শিক্ষা ব্যবস্থার সাম্প্রতিক ব্যর্থতার দায় নিয়ে ভারতের শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগ।
তবে ধর্মেন্দ্র প্রধান আন্দোলনকারীদের গুরুত্ব না দিয়ে তাদের 'বিশৃঙ্খলাকারী শক্তির বি-টিম' বলে মন্তব্য করেছেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সরকারও এখন পর্যন্ত আন্দোলনকারীদের সঙ্গে আনুষ্ঠানিক কোনো আলোচনায় বসেনি।
সিজেপির আন্দোলনের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পরীক্ষায় প্রশ্নফাঁসের অভিযোগ। মে মাসের শুরুতে প্রশ্নফাঁসের অভিযোগে ভারতের একটি গুরুত্বপূর্ণ মেডিকেল ভর্তি পরীক্ষা বাতিল করা হয়, যাতে প্রায় ২২ লাখ ৮০ হাজার পরীক্ষার্থী অংশ নিয়েছিলেন। পরে ২১ জুন পুনরায় পরীক্ষা নেওয়া হয়। আন্দোলনকারীদের দাবি, এ ঘটনার মানসিক চাপে ২০ জনের বেশি শিক্ষার্থী আত্মহত্যা করেছেন।
শনিবার ওয়াংচুককে হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার ঘটনার পর আন্দোলনের দাবি আরও জোরালো হয়েছে। অভিজিৎ দিপকে ঘোষণা দিয়েছেন, এখন তারা শুধু শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের নয়, প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগও দাবি করবেন।
- বিষয় :
- ভারত
- ককরোচ জনতা পার্টি
- পার্লামেন্ট