ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

চারশ প্রতিনিধি নিয়ে ভারত সফর করতে পারেন শি জিনপিং

চারশ প্রতিনিধি নিয়ে ভারত সফর করতে পারেন শি জিনপিং
×

ছবি- সংগৃহীত

সমকাল ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ০২:৩৯

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং আগামী মাসে দিল্লিতে অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ব্রিকস সম্মেলনে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তার একটি প্রতিনিধি দল নিয়ে যোগ দিতে পারেন। বিষয়টির সঙ্গে সরাসরি সংশ্লিষ্ট তিনটি সূত্র রয়টার্সকে এ তথ্য জানিয়েছে। সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে কয়েক বছর ধরে চলা উত্তেজনার পর ভারত ও চীনের সম্পর্কের উন্নতির সম্ভাব্য ইঙ্গিত হিসেবে এটিকে দেখা হচ্ছে। তাঁর এই সফর নিশ্চিত হলে, এটি হবে সাত বছর পর শির প্রথম ভারত সফর।

ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ইন্ডিয়া টুডের খবর বলছে, ভারত আগামী ১২ ও ১৩ সেপ্টেম্বর ব্রিকস সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে। সে সম্মেলনে শির সম্ভাব্য উপস্থিতি দুই দেশের সম্পর্ক স্থিতিশীল করার প্রচেষ্টার দিকে আলোকপাত করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে। ২০২০ সালের গালওয়ান উপত্যকার সংঘর্ষের পর থেকেই দুই দেশের মধ্যে কূটনৈতিক টানাপোড়েন চলে আসছে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে সেসব নিরসনে নানা উদ্যোগও নিতে দেখা গেছে।

বিষয়টি সম্পর্কে সরাসরি অবগত এক ভারতীয় কর্মকর্তা জানান, শির সম্ভাব্য সফর সামনে রেখে চীনা কর্মকর্তারা এরই মধ্যে হোটেল বুকিং এবং নিরাপত্তাব্যবস্থা নিয়ে কাজ করছেন। আরও দুই ভারতীয় সূত্র জানিয়েছে, শির সঙ্গে প্রায় ৪০০ কর্মকর্তা আসতে পারেন। যদি তা-ই হয়, তাহলে এটি হবে তাঁর আগেরবারের সফরের প্রতিনিধি দলের দ্বিগুণ। ২০১৯ সালে সর্বশেষ ভারত সফরে ২০০ জনেরও কম কর্মকর্তা শি জিনপিংয়ের সঙ্গে গিয়েছিলেন।

এমন একটি সময় এ খবর সামনে এলো, যখন ভারতের জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা অজিত দোভাল বেইজিংয়ে রয়েছেন। সীমান্ত ইস্যুতে চীনের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ওয়াং ইয়ের সঙ্গে আলোচনার জন্য তিনি দেশটিতে গত সোমবার সফরে গেছেন। 

মূলত শির সম্ভাব্য ভারত সফর এবং দোভালের চলমান আলোচনা এমন একসময়ে হচ্ছে, যখন দুই দেশ সীমান্ত ও আঞ্চলিক নিরাপত্তা নিয়ে মতপার্থক্য বজায় রেখেও দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক স্থিতিশীল করার চেষ্টা করছে।

তবে শির সফরের চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সম্ভাব্য দ্বিপক্ষীয় বৈঠকের আলোচ্যসূচি এখনও নির্ধারণ করা হয়নি বলে সূত্রগুলো জানিয়েছে।

চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, বেইজিং ব্রিকসকে অত্যন্ত গুরুত্ব দেয় এবং চলতি বছরের সম্মেলন সফলভাবে আয়োজনের ক্ষেত্রে বর্তমান সভাপতি ভারতকে সমর্থন করে। তবে শির সম্ভাব্য ভারত সফর সম্পর্কে তাদের কাছে বর্তমানে কোনো তথ্য নেই। 

প্রসঙ্গত, গত বছর ব্রাজিলে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে শি অংশ নেননি। তবে ২০২৩ সালে দক্ষিণ আফ্রিকার জোহানেসবার্গে অনুষ্ঠিত ব্রিকস সম্মেলনে তিনি অংশ নিয়েছিলেন। শির সম্ভাব্য সফর নিয়ে ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও কোনো মন্তব্য করেনি। 

এদিকে, চীন দীর্ঘদিন ধরে অরুণাচল প্রদেশকে নিজেদের ভূখণ্ডের অংশ বলে দাবি করে আসছে। অন্যদিকে ভারত বারবার জানিয়েছে, অরুণাচল প্রদেশ ভারতের অবিচ্ছেদ্য অংশ। সম্প্রতি ভারত তাদের সরকারি মানচিত্রে ২৭টি স্থান চিহ্নিত করেছে। এই পরিস্থিতিতে দোভালের বেইজিং বৈঠকে সীমান্ত সমস্যা এবং সীমান্তে স্থিতিশীলতা বজায় রাখার বিষয়াদি নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।

এ কারণে শির সম্ভাব্য ভারত সফর শুধু ব্রিকসের আনুষ্ঠানিক আলোচনার মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকবে না বলেও ধারণা করা হচ্ছে। দীর্ঘদিনের কৌশলগত মতপার্থক্য সামলে ভারত ও চীন যখন নতুন করে দ্বিপক্ষীয় যোগাযোগ বাড়ানোর চেষ্টা করছে, তখন এই সফর দুই দেশের সম্পর্কের ক্ষেত্রে বিশেষ তাৎপর্য বহন করতে পারে।

আরও পড়ুন

×