হিংসা থেকে মুক্তি আমাদের সকলের অধিকার, যাদবপুরে হামলার প্রতিবাদে অমর্ত্য সেন
ফাইল ছবি
কলকাতা প্রতিনিধি
প্রকাশ: ৩০ অক্টোবর ২০২৬ | ২০:৩২
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ও সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটে (এসআরএফটিআই) হামলার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন নোবেলজয়ী অর্থনীতিবিদ অমর্ত্য সেন। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনৈতিক ও সাম্প্রদায়িক হিংসার বিরুদ্ধে সরব হয়ে তিনি বলেছেন, ‘হিংসা থেকে মুক্তি আমাদের সকলের অধিকার।’ যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ে সাম্প্রতিক হামলার পেছনে সাম্প্রদায়িক অভিসন্ধিরও নিন্দা জানিয়েছেন তিনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের পঠনপাঠনের স্বাধীনতা ও স্বায়ত্তশাসন রক্ষার দাবিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে অমর্ত্য সেনের লিখিত বক্তব্য পড়ে শোনানো হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক শিক্ষার্থী ও শিক্ষকদের উদ্যোগে আয়োজিত এ সংবাদ সম্মেলনে তার বার্তা পাঠ করেন সাবেক শিক্ষার্থী শিবাজী দে।
গ্লোবাল যাদবপুর ইউনিভার্সিটি অ্যালামনি ফাউন্ডেশনের অন্যতম প্রতিষ্ঠাতা শুভেন্দু ভদ্রকে পাঠানো এক ই-মেইল বার্তায় অমর্ত্য সেন শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতি প্রকাশ করেন। তিনি লেখেন, ‘যাদবপুরে ভয়াবহ হামলায় আমি স্তম্ভিত। রাজনৈতিক হিংসা থেকে জনসাধারণকে রক্ষার দায় এত তীব্র কখনো ছিল না। বিশেষত বিভিন্ন ক্যাম্পাসের শিক্ষার্থীদের সমর্থন দরকার।’
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে নিজের দীর্ঘদিনের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করে অমর্ত্য সেন বলেন, ৭০ বছর আগে এ বিশ্ববিদ্যালয়ের অর্থনীতি বিভাগের প্রতিষ্ঠাতা প্রধান হিসেবে তিনি শিক্ষকতা শুরু করেছিলেন। ফলে প্রতিষ্ঠানটির সঙ্গে তার গভীর সম্পর্ক রয়েছে। তবে নিরাপত্তা ও হিংসা থেকে মুক্ত থাকার অধিকার সবার জন্য সমান। যাদবপুরে সংঘটিত হিংসার পেছনে সাম্প্রদায়িক অভিসন্ধিকে দ্ব্যর্থহীনভাবে ধিক্কার জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, গত ১৯ আগস্ট গভীর রাতে এবং ২০ আগস্ট বিকেলে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাসের ভেতরে ও বাইরে একদল বহিরাগত তাণ্ডব চালায় বলে অভিযোগ রয়েছে। এর পর গত ২৭ সেপ্টেম্বর সত্যজিৎ রায় ফিল্ম অ্যান্ড টেলিভিশন ইনস্টিটিউটেও একটি সংগঠনের হামলার ঘটনা ঘটে। এসব ঘটনার পর শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে নিরাপত্তা, স্বাধীন পরিবেশ ও প্রশাসনিক ভূমিকা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
স্বায়ত্তশাসন রক্ষায় আচার্যের হস্তক্ষেপ দাবি
সংবাদ সম্মেলনে যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয় ছাড়াও এসআরএফটিআই, জওহরলাল নেহরু বিশ্ববিদ্যালয় (জেএনইউ) ও জামিয়া মিলিয়া ইসলামিয়ার মতো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সংঘের ঘনিষ্ঠ সংগঠনগুলোর দখলদারির রাজনীতি এবং নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার অপচেষ্টা নিয়ে আলোচনা হয়। বিশ্ববিদ্যালয়ের বর্তমান পরিস্থিতি সামাল দিতে আচার্যের হস্তক্ষেপ দাবি করেন প্রাক্তনী ও শিক্ষকেরা।
এ সময় ‘আইএসআই বিল ২০২৬’-এর মাধ্যমে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের স্বায়ত্তশাসন খর্ব করার চেষ্টারও সমালোচনা করেন তারা।
গত ২৭ আগস্ট কয়েকজন প্রাক্তনী ও সাবেক শিক্ষক উপাচার্যের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তাদের উদ্যোগ ও দাবির সঙ্গে দলমত-নির্বিশেষে অন্তত ৯ হাজার মানুষ যুক্ত হয়েছেন বলে জানানো হয়।
যাদবপুর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাক্তনী ও সাবেক শিক্ষক তরুণকান্তি নস্কর বলেন, ভয়ের পরিবেশে বিশ্ববিদ্যালয়ে জ্ঞানচর্চা ব্যাহত হচ্ছে। শিক্ষা ও গবেষণার জন্য প্রয়োজনীয় অর্থ বরাদ্দ না করে সরকার শুধু নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে। এ পরিস্থিতিতে শিগগিরই শিক্ষক ও শিক্ষাবিদদের নিয়ে সম্মেলন আয়োজন করা হবে।
- বিষয় :
- নোবেল
- অমর্ত্য সেন
- মুক্তি
- হামলা
- উদ্বেগ