তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিল বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি
সমকাল প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৬ | ২২:৪৮
প্রবীণ নাগরিকদের কর্মময় জীবনের অবদানকে স্বীকৃতি এবং সমাজে তাঁদের মর্যাদা ও শ্রদ্ধা প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে তিন বিশিষ্ট ব্যক্তিকে সংবর্ধনা দিয়েছে বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটি।
শনিবার সন্ধ্যায় রাজধানীর আগারগাঁওয়ে লায়ন্স ফাউন্ডেশন টাওয়ারে আয়োজিত অনুষ্ঠানে সংবর্ধনা দেওয়া হয় জাতীয় অধ্যাপক ও স্বনামধন্য চিকিৎসক ডা. এ কে আজাদ খান, বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ ও বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক গভর্নর ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ এবং প্রখ্যাত কৃষিবিদ ড. জহুরুল করিমকে (জেড. করিম)।
সংবর্ধনা পেয়ে নিজের অনুভূতি জানাতে গিয়ে ড. জহুরুল করিম বলেন, কৃষক পরিবারে তাঁর বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই বাবার সঙ্গে কৃষিকাজ করতেন তিনি। কৃষিকাজের কষ্ট কাছ থেকে দেখেই কৃষিশিক্ষার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয়। পরে ময়মনসিংহে কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। পড়াশোনা শেষে কর্মজীবনে প্রবেশ করেন।
ড. জহুরুল করিম বলেন, ১৯৮৮ সালে দেশে বন্যার সময় তিনি ২২ জন কৃষককে দুটি জাতের ধানের বীজ দিয়েছিলেন। সেসব বীজ থেকে ভালো ফলন হয়েছিল। এরপর থেকে এখনো গ্রামের বাড়ি ব্রাহ্মণবাড়িয়ার ছোট হরণ গ্রামে গেলে কৃষকেরা তাঁর কাছ থেকে বীজ নিতে ছুটে আসেন।
ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ বলেন, তাঁকে প্রবীণ বলা হলেও তিনি নিজেকে প্রবীণ মনে করেন না। বয়স কেবল একটি সংখ্যা। তবে বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে পরিবার ও সমাজের অনেকেই প্রবীণদের এড়িয়ে চলার চেষ্টা করেন। এমনকি তাঁদের চিকিৎসাসেবাও সন্তোষজনক নয়। এসব বিষয়ে সবার নজর দেওয়া প্রয়োজন।
নিজ নিজ ক্ষেত্রে দীর্ঘদিনের অবদান, বর্ণাঢ্য কর্মজীবন ও সমাজের প্রতি গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকার স্বীকৃতিস্বরূপ তিন গুণী ব্যক্তির হাতে ক্রেস্ট, মেডেল ও সনদপত্র তুলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে তাঁদের কর্মময় জীবনের সংক্ষিপ্ত পরিচিতি নিয়ে ‘অনুরক্তি’ নামে একটি স্মরণিকা প্রকাশ করা হয়।
সোসাইটির চেয়ারম্যান ও সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা ড. হোসেন জিল্লুর রহমান অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন। অনুষ্ঠান পরিচালনা করেন সোসাইটির মহাসচিব কাজী শফিকুল ইসলাম, ভাইস চেয়ারম্যান ও লায়ন্স ফাউন্ডেশনের চেয়ারম্যান একেএম রেজাউল হক এবং যুগ্ম সচিব ডা. শওকত হোসেন।
অনুষ্ঠানে বক্তারা বলেন, প্রবীণ নাগরিকেরা তাঁদের দীর্ঘ অভিজ্ঞতা, প্রজ্ঞা, কর্মনিষ্ঠা ও জীবনব্যাপী অবদানের মাধ্যমে দেশ ও সমাজকে সমৃদ্ধ করেছেন। তাঁদের সম্মাননা জানানো নিছক আনুষ্ঠানিকতা নয়; বরং নতুন প্রজন্মের কাছে তাঁদের কর্মময় জীবন, অর্জন ও মূল্যবোধ তুলে ধরার গুরুত্বপূর্ণ প্রয়াস।
বক্তারা আরও বলেন, প্রবীণদের যথাযথ সম্মান, নিরাপত্তা, সুস্থতা ও সামাজিক মর্যাদা নিশ্চিত করা মানবিক ও কল্যাণমুখী সমাজ গঠনের অন্যতম শর্ত। এ ধরনের আয়োজন প্রবীণদের প্রতি শ্রদ্ধাবোধ জাগ্রত করার পাশাপাশি তরুণ ও প্রবীণ প্রজন্মের মধ্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহযোগিতা ও সৌহার্দ্য বাড়াতে ভূমিকা রাখবে।
অনুষ্ঠানে বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, সুধীজন, গণমাধ্যমকর্মী এবং বাংলাদেশ সিনিয়র সিটিজেনস ওয়েলফেয়ার সোসাইটির নেতারা উপস্থিত ছিলেন।