নাগরিকত্ব বিলের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ত্রিপুরা, মোবাইল-ইন্টারনেট বন্ধ
টায়ারে দেওয়া বিক্ষোভকারদের আগুন নেভাচ্ছেন সেনা সদস্যরা- এনডিটিভি
অনলাইন ডেস্ক
প্রকাশ: ১০ ডিসেম্বর ২০১৯ | ১১:১৪
লোকসভায় নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাসের প্রতিবাদে উত্তপ্ত ভারতের ত্রিপুরা রাজ্য।
মঙ্গলবার দেশের উত্তর-পূর্বের এই রাজ্যে উদ্ভূত পরিস্থিতিতে কর্তৃপক্ষ ১২ ঘণ্টার জন্য মোবাইল-ইন্টারনেট এবং এসএমএস সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
সকাল থেকেই উত্তর-পূর্বের প্রভাবশালী ছাত্র সংগঠনের ডাকা ১১ ঘণ্টার বনধকে কেন্দ্র করে উত্তপ্ত হয়ে ওঠে ত্রিপুরা। কেন্দ্রের আনা বিলটি নিয়ে তাদের অভিযোগ, এই বিল জাতিগত পরিচয় হরণ করবে।
আগরতলায় কেন্দ্রীয় সরকারের বিরুদ্ধে স্লোগান দিতে থাকেন বিক্ষোভকারীরা, তারপরই যোগাযোগ ব্যবস্থা বন্ধ করে দেওয়া হয়।
সরকারের এক কর্মকর্তাকে উদ্ধৃত করে সংবাদসংস্থা এএনআই জানিয়েছে, সোশ্যাল মিডিয়ায় কিছু গুজব ছড়িয়ে অশান্তি পাকানোর চেষ্টার খবর পুলিশ পাওয়ার পরই, পরিষেবা বন্ধ করা হয়।
এর আগে রাজ্যের ধালাই জেলায় একটি বাজারে আগুন ধরিয়ে দেন বিক্ষোভকারীরা।
এনডিটিভি জানায়, মঙ্গলবার অসামের গুয়াহাটিসহ উত্তর-পূর্বের বিভিন্ন জায়গার জনজীবন থমকে যায়। মূল রাস্তায় টায়ার জ্বালিয়ে প্রতিবাদে সামিল হন বিক্ষোভকারীরা। সন্ধ্যা ৫টার দিকে বনধ প্রত্যাহার করা হয়।
উত্তর-পূর্ব ফ্রন্টিয়ার রেলের পক্ষ থেকে দেওয়া বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অবরোধ করার কারণে বহু ট্রেন বাতিল করা হয়েছে।
২০১৫ সালের আগে বাংলাদেশ, পাকিস্তান এবং আফগানিস্তান থেকে যাওয়া অমুসলিম নাগরিকদের নাগরিকত্ব দেওয়ার কথা বলা হয়েছে পাস হওয়া নাগরিকত্ব বিলে।
দেশের সুশীল সমাজ, আন্দোলনকারী এবং বিরোধী রাজনৈতিক নেতানেত্রীরা দ্রুত বিলটিকে প্রত্যাহারের দাবি তুলেছেন।
বিলটি পাস হওয়াকে 'মারাত্মক' পদক্ষেপ বলে মন্তব্য করেছেন আসামের সাবেক মুখ্যমন্ত্রী তরুণ গগৈ। তার দাবি এর ফলে বাংলাদেশ থেকে প্রচুর মানুষ সে রাজ্যে ঢুকে পড়বে।
সোমবার ৭ ঘন্টা উত্তপ্ত বিতর্কের পর লোকসভায় বিলটি পাস হয়। বিলের পক্ষে পড়ে ৩১১টি ভোট এবং বিপক্ষে পড়ে ৮০টি।
- বিষয় :
- ত্রিপুরা
