বইয়ের ভুবন
বিন্দুতে বিশ্ব দেখা
লীনা দিলরুবা
প্রকাশ: ৩১ অক্টোবর ২০২৫ | ০৬:৩৫
| প্রিন্ট সংস্করণ
সাতচল্লিশটি গল্প নিয়ে ইকরাম কবীরের নতুন গ্রন্থ ‘খুদে গল্পের বই’। গল্পগুলো এই সময়ের মানুষের জীবন, ভাবনা, অস্তিত্ব আর সংকট নিয়ে লেখা। প্রথমেই প্রশান্তিট্যাব এম ২০০ গল্পটার কথা বলা যাক। ‘আনন্দ হবে অনন্ত, চিরস্থায়ী। এমন সু-চিন্তা থেকেই অনেক ভাবনার পর সুখ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়।’
দুঃখ কে চায়? সুখ নিয়েই মানুষ কাটাতে চায় সারাজীবন। গল্পে আমরা দেখি লেখক এক অভিনব বিষয় হাজির করেছেন। দেশে একটা সুখ মন্ত্রণালয় প্রতিষ্ঠিত হয়েছে, এরা মানুষের বাড়িতে বাড়িতে গিয়ে মেজাজ ভালো করার ওষুধ বিক্রি করে। তাদের উদ্দেশ্য হলো সব মানুষকে সুখী হতে হবে। সেই সঙ্গে কোনোভাবেই তাদের দুঃখী হওয়া চলবে না। এ নিয়ে আইনও করা হলো। স্বভাবতই এলো প্রতিরোধ। বিদ্রোহীর নাম জামাল আহমেদ। বিদ্রোহের ঢেউ ছড়িয়ে পড়ে। এগিয়ে আসে চূড়ান্ত পরিণতি।
ইকরাম কবীরের আরেকটি ভিন্ন ধাঁচের গল্প, ‘কষ্ট বিক্রেতা’। গল্পের নায়ক ইমতিয়াজের ফাইনাল পরীক্ষা শেষ হলে তার শিক্ষক তাকে পরামর্শ দেয় কষ্ট বিক্রি করার পেশায় ঢুকে যেতে। ইমতিয়াজ ঘুরে ঘুরে মানুষের কষ্টের কথা শোনে এবং সেগুলো কিনে নিয়ে অন্যদের কাছে বিক্রি করা শুরু করে। একদিন কষ্ট বিক্রেতা হিসেবে ইমতিয়াজের নাম সারাদেশে ছড়িয়ে যায়। এরপর আন্তর্জাতিক এক কষ্ট বিক্রয় প্রতিষ্ঠান এ দেশে তাদের শাখা খোলার জন্য ইমতিয়াজকে নিয়োগ করে। ‘তারপর ইমতিয়াজকে আর পিছে ফিরে তাকাতে হয়নি।’ কিন্তু ইমতিয়াজের মন কী বলছে?
কিছু কিছু গল্পের বাস্তবতা অসহনীয়। জীবনের কোনো কোনো বাস্তবতা যখন বহন করা দুর্বহ হয়ে ওঠে তখন বোধকরি জীবনের গল্প নিয়ে লেখা আখ্যানও দুঃসহ মনে হয়।
‘শিখা’ গল্পটির কথা বলা যায়। কলাপাড়া গ্রামের সুলতান মিঞার গোয়ালঘরে চারটি গরু আর তাদের দুটো বাছুর ছিল, যা দিয়ে তার সংসার কোনোমতে চলে যেত। একদিন অতর্কিতে তার বাড়িতে আগুন লেগে তার সমস্ত সম্পদ পুড়ে যায়। আগুনের লেলিহান শিখা বাঁচাতে পারেনি তার গরু আর বাছুরগুলোকে। এমনকি ঘরটাও অঙ্গার হয়ে যায় আগুনের নিচে। সুলতান মিঞা এরপর তার উঠোনে একটা চিতা তৈরি করে। মৃত গরু ও বাছুরগুলোকে আরও পোড়াবে। কিছু খেয়ে তো বাঁচতে হবে!
ইকরাম কবীর গল্পের দৈর্ঘ্য কমিয়ে মূল কথাটি অল্প কথায় বলার চেষ্টা করেছেন। কিছু গল্পে রয়েছে জাদুবাস্তবতার ছোঁয়া।
গল্পে দৈর্ঘ্য বিষয়ে তাঁর ভাবনা তিনি ভূমিকায় উল্লেখ করেছেন। ছোট আকারের গল্পকে এ দেশে অনুগল্প বলা হয়। তাঁর এগুলোকে খুদে গল্প বলতে ভালো লাগে। ইংরেজিতে যা ফ্ল্যাশ ফিকশন। নিমেষেই যে গল্প পড়ে ফেলা যায়, সেটাই ফ্ল্যাশ বা নিমেষ। পড়ুয়ারা এখন চট করে কোনো কিছু পড়ে ফেলতে চান, কোথাও যেতে যেতে পড়ে ফেলতে চান। মনোযোগের স্থিতাবস্থা কমে গেছে। বর্তমান বিবেচনায় লেখকের এ প্রয়াস।
- বিষয় :
- বইয়ের কথা
