ঢাকা বুধবার, ২৪ জুন ২০২৬

নির্জনতার সঙ্গে দেখা

নিভৃতে যে ছায়া বেড়ে ওঠে

নিভৃতে যে ছায়া বেড়ে ওঠে
×

অনুভব আহমেদ

প্রকাশ: ০১ মে ২০২৬ | ০৭:২৮

| প্রিন্ট সংস্করণ

নিজের মুখোমুখি হবার, নিজেকে আরও কাছ থেকে দেখার যে যাত্রা, সেই যাত্রাকে কি নির্জনতা বলা যায়?
কিংবা যেখানে ভাষা সমস্ত আরোপিত শব্দকে পোশাকের মতো খুলে রেখে আরও ঘনিষ্ঠ হয় নিজের, তাকে?
মানুষ পৃথিবীতে জন্মায় কান্না নিয়ে, কারণ অস্তিত্বের প্রথম অভিজ্ঞতাই বিচ্ছিন্নতা।
জন্ম মানে এক নিরাপদ অন্ধকার থেকে ছিটকে পড়া এক অপরিচিত আলোতে; আর তারপর থেকে মানুষ সারাজীবন চেষ্টা করে সেই আদিম বিচ্ছিন্নতার ক্ষত ঢাকতে।
সম্পর্ক দিয়ে, শব্দ দিয়ে, প্রেম দিয়ে, বিশ্বাস দিয়ে, ধর্ম দিয়ে, সমাজ দিয়ে, ভিড় দিয়ে।
কিন্তু মানুষের সমস্ত কোলাহলের নিচে একটি গভীর, অবিনশ্বর সত্য নীরবে শুয়ে থাকে, মানুষ মূলত একা।
মানুষের জীবনে সবচেয়ে দীর্ঘ যাত্রাটি বাইরের নয়, না কোনো সমুদ্র পেরিয়ে, না কোনো পর্বত ডিঙিয়ে, না কোনো মানচিত্রে চিহ্নিত অজানা ভূখণ্ডে। মানুষের সবচেয়ে দীর্ঘ, সবচেয়ে বিপজ্জনক, এবং সবচেয়ে রূপান্তরময় যাত্রা হলো নিজের দিকে ফেরা। নিজের মুখোমুখি হওয়া। নিজের ভেতরে প্রবেশ করা। পৃথিবীর ইতিহাসে যত তীর্থযাত্রা, যত অভিযাত্রা, যত বিজয়–সবকিছুর চেয়েও কঠিন এই যাত্রা; কারণ পৃথিবীর অন্য সব পথের শেষে কোনো না কোনো দৃশ্যমান গন্তব্য থাকে। কিন্তু আত্মার দিকে যাত্রার শেষে মানুষ কেবল নিজেকেই খুঁজে পায়–আর সেই ‘নিজে’-কে চিনে ওঠার চেয়ে ভীতিকর অভিজ্ঞতা আর কিছু নেই।
সম্ভবত এ কারণেই অধিকাংশ মানুষ সারাজীবন ভিড়ের মধ্যে থাকে, কোলাহলের মধ্যে থাকে, সম্পর্কের ভেতর থাকে, কথার মধ্যে থাকে। শুধু নিজের সঙ্গে একা না হওয়ার জন্য।
বলা হয়, প্রজ্ঞা এবং নির্জনতা হাতে হাত রেখে চলে। গভীরভাবে ভাবতে পারা মানুষেরা নির্জনতাকে বেছে নেন।
প্রাজ্ঞ মানুষের কাছে নির্জনতা কোনো শান্ত বাগানের মতো, যেখানে আত্মা বিশ্রাম নেয়, যাপনের ক্ষয় সারিয়ে দেয় নির্জনতা। মনোবিদ কার্ল ইয়ুং এই নির্জনতাকে নাম দিয়েছিলেন ইন্ডিভিজুয়েশনস, নিজের প্রকৃত সত্তায় পরিণত হওয়ার যাত্রা। যেখানে মানুষ নিজেকে আলাদা করে অন্যের প্রত্যাশা, প্রক্ষেপণ ও আবেগিক দাবির বাইরে।
কার্ল ইয়ুং বলেছেন, বুদ্ধিমান মনের জন্য এই বিচ্ছিন্নতা বিশেষভাবে প্রযোজ্য। কারণ আপনি যত বেশি বুদ্ধিমান হবেন, সংবেদনশীল হবেন, তত বেশি বুঝতে পারবেন মানুষের অধিকাংশ মিথস্ক্রিয়া আসলে অভিনয়, প্রক্ষেপণ এবং অবচেতন চাহিদা পূরণের খেলা। সত্যিকারের সংযোগ নয়।
এই উপলব্ধি মানুষকে দুটি পথে দাঁড় করায়–
একদিকে সামাজিক খেলাগুলো খেলতে থাকা, যেগুলো দিন দিন আরও ফাঁপা লাগে। অন্যদিকে এক ধাপ পেছনে সরে দাঁড়ানো, নিজেকে আলাদা করা, এবং মানসিক বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় নীরবতা সৃষ্টি করা। 
অধিকাংশ মানুষ ভয়ের কারণে প্রথম পথ বেছে নেয়। বুদ্ধিমানরা প্রজ্ঞার কারণে দ্বিতীয়টি। এই দ্বিতীয় পথটিকে আপাতভাবে একাকিত্ব মনে হলেও এটিকে আসলে নির্জনতা বলা যায়।
যে নির্জনতায় নিজের ভেতরের উন্মত্ত, উন্মন প্রান্তরটির দেখা পাওয়া যায়। নিজেকেই আরও প্রখরভাবে উপলব্ধি করা যায়।
এই নির্জনতা মানুষকে এমন এক প্রখরতার দিকে নিয়ে যায়, যেখানে মানুষ কেবল তীক্ষ্ণতা দিয়ে নিজেকে নয়, চারপাশের পৃথিবীটাকেও উপলব্ধি করে নতুন করে।
ইয়ুং বলতেন, যে বাইরের দিকে তাকায়, সে স্বপ্ন দেখে; যে নিজের ভেতরে তাকায়, সে জেগে ওঠে।
মানুষের জীবন এক অদ্ভুত দ্বৈরথ। নিজেদের সম্পর্কে যতটা ভাবি, আমরা তার চেয়ে অনেক বেশি ধার করা সত্তা।
জন্মের পর থেকেই শুরু হয় এক অনন্ত মহড়া। আমরা যে ভাষায় কথা বলি, তা আমাদের শেখানো হয়, আমরা যে নীতিতে বিশ্বাস করি, তার অধিকাংশই উত্তরাধিকারে পাওয়া। আমরা যে স্বপ্ন দেখি, তার অনেকটাই সমাজের রোপণ করা, আমরা যে ভালোবাসা চাই, তা-ও বহুলাংশে স্বীকৃতির ক্ষুধা। আমাদের ‘আমি’–যাকে আমরা এত নিশ্চিতভাবে জানি বলে মনে করি, আসলে বহুস্তরবিশিষ্ট সামাজিক নির্মাণ। 
জন্মলগ্ন থেকেই মানুষকে শেখানো হয় সে কে। এই তোমার নাম, এই তোমার ধর্ম, এই তোমার পরিবার, এই তোমার জাতি, এই তোমার কর্তব্য, এই তোমার মর্যাদা। ধীরে ধীরে এইসব আরোপের মধ্য দিয়ে মানুষের নিজস্ব সত্তাটাই হারিয়ে যায়। মানুষ এত বেশি ‘দেওয়া’ পরিচয়ে নিজেকে সাজিয়ে ফেলে যে নিজের প্রকৃত সত্তাকে আর আলাদা করে চিনতেই পারে না।
এই নিরন্তর বাইরের জগতের কোলাহল এতটাই আচ্ছন্ন করে রাখে যে মানুষকে নিজের কাছ থেকেই দূরে সরিয়ে দেয়, তাকে একটা সংখ্যায় পরিণত করে। 
কিন্তু যখন মানুষ সমস্ত আরোপিত শব্দ, পরিচয় এবং সামাজিক মুখোশগুলোকে পোশাকের মতো খুলে রেখে নিজের আরও ঘনিষ্ঠ হয়, তখন সে এমন এক প্যাটার্ন দেখতে শুরু করে, যা অন্যেরা দেখে না।
মানুষ তখন মানুষের কথার পেছনের অবচেতন প্রেরণা বুঝতে পারে।
ভালোবাসার ছদ্মবেশে থাকা ভয়-চালিত আচরণ চিনতে পারে।
সামাজিক সম্পর্কের পেছনে কাজ করা মানসিক প্রয়োজনগুলো পড়তে পারে।
ভিড় মানুষকে নিজের কাছ থেকে দূরে সরিয়ে রাখে। 
নির্জনতায় মানুষ প্রথম সত্যিকার অর্থে মুখোমুখি হয়–নিজের ভয়, শূন্যতা, আকাঙ্ক্ষা, অপরাধবোধ এবং সম্ভাবনার।
আর এসবের জন্য প্রয়োজন হয় যাপনের ক্যাকিফোনি থেকে দূরে কোনো এক নির্জনতা, নিভৃতি। কিছুটা দূর থেকে নিজের জীবনকেই অবলোকন করা।
যেমনটা কবি রাইনার মারিয়া রিলকে তাঁর সলিচ্যুড কবিতায় বলেছেন–যখন ভিড় তোমাকে তার নিজের করে নিতে চাইবে
ফিরে যেও সেইসব স্থানে, যেখানে তোমার একাকিত্ব বাস করে।
কবি নাজিম হিকমত জেলের চার দেয়ালে বন্দি হয়ে লিখেছিলেন–
নির্জনতা মানে দেওয়াল দিয়ে ঘেরা ঘর নয়,
নির্জনতা হলো নিজের ভেতরে বিশাল এক সমুদ্র বয়ে বেড়ানো–
যেখানে কোনো ঢেউ নেই, শুধু আছে ধ্রুব নক্ষত্রের অপেক্ষা।
একইভাবে, এই সময়ের সবচেয়ে প্রভাবশালী ইতিহাসবিদ, লেখক ইউভাল নোয়া হারারি আধুনিক প্রেক্ষাপটে এই নির্জনতাকে ব্যাখ্যা করেছেন এক বৈপ্লবিক দৃষ্টিকোণ থেকে। হারারি বলছেন–
বর্তমান যুগে তথ্যের বন্যায় আমরা নিজেদের হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের প্রতিটি চিন্তা, প্রতিটি আবেগ এখন অ্যালগরিদম দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হতে পারে। এই ডিজিটাল কোলাহল থেকে বাঁচতে এবং নিজের ওপর নিজের নিয়ন্ত্রণ ফিরে পেতে ‘নির্জনতা’ অবশম্ভাবী। বিচ্ছিন্নতা এখন আর কোনো বিলাসিতা নয়, এটি মানুষের টিকে থাকার জন্য এক অপরিহার্য প্রতিরোধ।
হারারির মতে, আমরা যদি নিয়মিত বিরতিতে নীরবতায় না ফিরি, তবে আমরা কেবল ডেটা প্রসেসিং মেশিনে পরিণত হব। নির্জনতাই আমাদের মনে করাতে পারে যে আমরা কোনো জৈবিক কোড নই, বরং এক সচেতন সত্তা।
যোগসূত্রে বলা হয়, ‘চিত্ত-বৃত্তি-নিরোধ’; যার অর্থ দাঁড়ায়–তরঙ্গ যখন স্তব্ধ হয়, তখনই প্রকৃত আত্মদর্শন ঘটে। অর্থাৎ মনের অস্থির তরঙ্গগুলোকে স্তব্ধ করা। আমাদের মন সব সময় বাইরের বিষয়ের দিকে ধাবিত হয়। এই নিরন্তর ছুটে চলা যখন থামে, তখনই প্রকৃত আত্মদর্শন ঘটে।
এই স্তব্ধতা, এই নীরবতা কেবল তখনই সম্ভব, যখন আমরা বাহ্যিক সম্পর্ক ও শব্দের জগৎ থেকে অন্তরে প্রত্যাবর্তন করি।
ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, জগতের শ্রেষ্ঠ সত্যগুলো আবিষ্কৃত হয়েছে নির্জনতায়। 
স্টয়িক দার্শনিক সেনেকা তাঁর ভাবনাগুলোকে তখনই লিখতে পেরেছেন যখন তিনি রোমের রাজনীতির কেন্দ্রবিন্দু থেকে নিজেকে দূরে সরিয়ে নিয়েছেন। নিজের জন্য নির্জনতা নির্বাচন করেছেন। নির্জনতা দিয়ে তিনি অর্জন করেছিলেন এই বোধ– একজন মানুষ তখনই অপরাজেয়, যখন সে তার সুখের জন্য বাইরের কোনো কিছুর ওপর নির্ভর করে না।
সুফিবাদের ইতিহাসে ফরিদউদ্দীন আত্তারের ‘দ্য কনফারেন্স অব বার্ড’ বা ‘পাখিদের সভা’ নির্জনতার এক শ্রেষ্ঠ রূপক। যেখানে কবিতাচ্ছলে এক গল্প বলা হচ্ছে। গল্পটা এমন–
একসময় পৃথিবীর সমস্ত পাখিরা একত্রিত হয়ে সিদ্ধান্ত নিল, তাদেরও একজন রাজা থাকা প্রয়োজন। কারণ রাজা ছাড়া কোনো জাতি সুশৃঙ্খলভাবে চলতে পারে না। কিন্তু তারা জানত না তাদের রাজা কে বা কোথায় তাকে পাওয়া যাবে।
ঠিক সেই সময় জ্ঞানী ও বুদ্ধিমান হুদহুদ পাখি এগিয়ে এল। সে জানাল, পাখিদের প্রকৃত রাজা হলো রহস্যময় ‘সিমুর্গ’। সে এক অতিপ্রাকৃত পাখি, যে কাফ নামের এক পর্বতের চূড়ায় বাস করে। কিন্তু সেই রাজপ্রাসাদে পৌঁছানোর পথ অত্যন্ত কঠিন এবং বিপজ্জনক।
হুদহুদ পাখিদের উৎসাহিত করে বলল, তোমরা যদি তোমাদের রাজাকে পেতে চাও, তবে এই দীর্ঘ যাত্রা শুরু করতেই হবে।
যাত্রার শুরুতেই অনেক পাখি ভয় পেয়ে পিছিয়ে যেতে চাইল। তারা একে একে হুদহুদকে অজুহাত দিতে শুরু করল:
বুলবুলি বলল, আমি গোলাপের প্রেমে মগ্ন, আমি এই উদ্যান ছেড়ে কোথাও যেতে পারব না।
তোতাপাখি বলল, আমি খাঁচায় বন্দি থাকতেই ভালোবাসি, মুক্তির পথ বড় অনিশ্চিত।
হাঁস বলল, আমি পানি ছাড়া বাঁচতে পারব না।
বাজপাখি বলল, আমি এখানে শিকারি হয়ে থাকতেই বেশি স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করি।
হুদহুদ অত্যন্ত ধৈর্যের সঙ্গে প্রত্যেককে বোঝাল, পার্থিব মায়া এবং ভয় ত্যাগ না করলে সত্যের দেখা পাওয়া অসম্ভব। শেষ পর্যন্ত একদল সাহসী পাখি সত্যের সন্ধানে দীর্ঘ যাত্রায় পা বাড়াল।
সিমুর্গের দরবারে পৌঁছাতে হলে পাখিদের সাতটি দুর্গম উপত্যকা পার হতে হয়, যা মানুষের আধ্যাত্মিক উত্তরণেরও প্রতীক।
প্রথম উপত্যকাটি অনুসন্ধানের উপত্যকা। যেখানে সমস্ত জাগতিক কামনা ত্যাগ করতে হয়। দ্বিতীয়টি প্রেমের উপত্যকা, যেখানে যুক্তি নয়, হৃদয় দিয়ে পথ চলতে হয়।
এরপর আসে জ্ঞানের উপত্যকা। যেখানে সত্যের আলো উদ্ভাসিত হয়।
একে একে আসে বিরাগের উপত্যকা, একত্বের উপত্যকা, বিস্ময়ের উপত্যকা এবং বিলীন হওয়ার উপত্যকা।
হাজার হাজার পাখির মধ্যে এই দীর্ঘ ও ক্লান্তিকর যাত্রায় মাত্র ৩০টি পাখি টিকে থাকল। বাকিরা তৃষ্ণা, ক্লান্তি বা পথভ্রষ্ট হয়ে মারা গেল। যখন এই কঙ্কালসার ও বিধ্বস্ত ৩০টি পাখি কাফ পর্বতে–সিমুর্গের প্রাসাদের সামনে পৌঁছাল, তারা সেখানে কোনো রাজা বা বিশাল পাখিকে দেখতে পেল না।
প্রাসাদের শান্ত দরবারে তারা যখন নিজেদের প্রতিচ্ছবি দেখল, এক বিস্ময়কর সত্য তাদের সামনে ধরা দিল। ফারসি ভাষায় ‘সি’ মানে ৩০, আর ‘মুর্গ’ মানে পাখি। অর্থাৎ ‘সিমুর্গ’ হলো এই ৩০টি পাখিরই সম্মিলিত রূপ।
পাখিরা বুঝতে পারল, তারা যাকে বাইরে খুঁজছিল, সেই সত্য আসলে তাদের নিজেদের ভেতরেই বিরাজমান। যখন তারা নিজেদের সঙ্গে জুড়ে থাকা কোলাহল বিসর্জন দিয়ে আধ্যাত্মিক যাত্রা পূর্ণ করেছে, তখনই তারা সেই পরম সত্তার সঙ্গে একীভূত হয়ে গেছে।
বৌদ্ধ দর্শনে বলা হয়, দুঃখ থেকে মুক্তির প্রথম ধাপ হলো দুঃখকে দেখা। গৌতম বুদ্ধ বোধিবৃক্ষের নিচে বসে কেবল আলোকপ্রাপ্ত হননি; তার আগে তিনি নিজের সমগ্র চিত্তপ্রবাহকে নিরাবরণ দেখেছিলেন। 
আধুনিক পৃথিবীতে এই নির্জনতা আরও জরুরি হয়ে উঠেছে। আজকের মানুষ কখনও প্রকৃত অর্থে একা নয়। সে সব সময় সংযুক্ত, সব সময় স্ক্রিনের মধ্যে, তথ্যের আঘাতে, অন্যের চিন্তার ভিড়ে।
এই ডিজিটাল কোলাহলে মানুষ ক্রমেই তার সত্য ও আত্মোপলব্ধি থেকে দূরে সরে যাচ্ছে। সত্য কখনও কোলাহলের মধ্যে কথা বলে না। সত্য ফিসফাস করে। তা শোনা যায় কেবল নীরবতায়, যাপনের অন্তর্বর্তী নির্জনতায়। 

আরও পড়ুন

×