ঢাকা শনিবার, ২০ জুন ২০২৬

কবিতাস্নানে পূর্ণ জীবন

কবিতাস্নানে পূর্ণ জীবন
×

নির্মলেন্দু গুণ [জন্ম ২১ জুন ১৯৪৫]

মারুফ রায়হান

প্রকাশ: ১৯ জুন ২০২৬ | ০৮:১৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

অগ্নিগর্ভ একাত্তর অকস্মাৎ আসেনি; নেপথ্যে ছিল ঊনসত্তরের আগুন-গৌরবের সংক্ষুব্ধ সংকল্প। আত্মদানে প্রস্তুত সময়ের সাহসী সন্তানের জননী-জন্মভূমি কি বুঝেছিল, সত্যিই একসাগর রক্তে ভিজে উঠবে তার উদার আঁচল? জন্মযন্ত্রণায় উদ্বেলিত মুক্তি-মন্দ্রিত স্বদেশের সংবেদনময় কবিমনও নতুন ধ্বনি ও ভাববৈভবে অভিষিক্ত হয়ে চলেছিল। রক্ত ছাড়া পরিস্রুত পরিশুদ্ধ হবে কী করে দেশমাতৃকা! কবিহৃদয় অমোঘ উচ্চারণে দশদিক কাঁপিয়ে উজ্জ্বল কবিতা-স্লোগানে চিৎকার করে উঠল– প্রেমাংশুর রক্ত চাই। নির্মল-প্রত্যাশী অলৌকিক আগুনের গূঢ় গরিমা থেকে কবিজন্ম হলো একজন নির্মলেন্দু গুণের। বাংলা কবিতার সে এক আশ্চর্য বাঁকবদল; স্বাধীনতার দিকে যাত্রা করা আন্তর-ধ্বনির অভিনব রূপবদল।     
ইতিহাস সাক্ষ্য দেবে, ষাটের দশকে ক’জন মেধাবী তরুণ নতুন বরমাল্য পরিয়েছিলেন বাংলা কবিতাকে। বাংলা কবিতা হয়ে উঠেছিল আরও নিবিড় দেশপ্রেমে সিক্ত, আধুনিকতায় ঋদ্ধ এবং সময়ের শাঁস ও শ্বাস গ্রহণে বৈচিত্র্যখচিত। ষাট বছর আগের সেই ষাটের দশক বাংলাদেশের কবিতায় এক অনপনেয় চিহ্ন রেখে গেছে, গোটা শতাব্দীতেই সেটি স্বাতন্ত্র্যশনাক্ত ও ভিন্ন তাৎপর্যবাহী। রফিক আজাদ, মোহাম্মদ রফিক, সিকদার আমিনুল হক, আবদুল মান্নান সৈয়দ, মুস্তাফা আনোয়ার, আবুল হাসান, হুমায়ুন আজাদ, নির্মলেন্দু গুণ ষাটের একেকটি কবি-নক্ষত্র। কবিতা দিয়েই চিনতে হয় কবিকে, এ কথা মানলেও আমরা ব্যক্তি-মানুষটির জীবন পাঠ না করলে তাঁর কবিতার রস পুরোপুরি আহরণ করে উঠতে পারি না। যেমন অসমর্থ থাকি কবির সময় ও স্বদেশের চারিত্র্যবৈশিষ্ট্য বোধগম্যতার সীমায় না রাখলে। 
একাত্তরের স্বাধীনতাকালীন কিংবা তার আগে-পরের বাংলাদেশের সঙ্গে আজকের বাংলাদেশকে সম্ভবত কোনো দিক দিয়েই আর সর্বতোভাবে মেলানো যাবে না। সময় সব বদলে দেয়, সময়েরই ধর্ম সেটা। তবু পরিবর্তনের হাওয়া সব উড়িয়ে নিতে পারে না। তবু মাটি হাওয়া জল যেন সেই আদি অকৃত্রিম বাংলার, ওপরে নুয়ে পড়া আকাশটাও এক; বাংলার সেই বৃক্ষরাজি আর পাখিকুলও যেন থাকে তেমনই একান্তভাবেই স্বদেশের; বাঙালির নিজস্ব বাসভূমিও থাকে তেমনই নিজস্বতা খচিত। 

 যেমন আছেন নির্মলেন্দু গুণ, বাংলাদেশের কবি-আইকন। 
নির্দিষ্ট কোনো সৃষ্টিশীল অঙ্গনে স্বপ্রতিভাবলে নির্দিষ্ট কোনো ব্যক্তির, প্রতীক বা প্রতিমূর্তি যাই বলি না কেন, এই যে আইকন হয়ে ওঠা, সেটি অনন্য অর্জনের বিষয়। প্রধান কবি হিসেবে সমাজে পরিচিতি অর্জন করেছিলেন শামসুর রাহমান। তা প্রধানত কবিতার বিচার। অবশ্য অনেকে বলতে পারেন প্রধান কবি আরও আছেন। তা আছেন, তবু শামসুর রাহমান একক ও ব্যতিক্রম। একইভাবে জনপ্রিয়তার নিরিখে একক ও ব্যতিক্রম নির্মলেন্দু গুণও। তিনি অপ্রধান কবি নন বটে, কিন্তু এ দেশে সর্বাংশে সর্বতোভাবে কবি-রূপ জনমানসপটে ভেসে ওঠার বেলায় তাঁকেই আমরা দেখতে পাই। এভাবে আইকন হয়ে ওঠা একদিনে বা এক দশকে নয়, ঘটনাচক্রে কিংবা কোনো একটি নির্দিষ্ট কারণেও নয়। সার্বিক ও সামগ্রিক বিবেচনায় প্রায় ষাট বছর ধরে একটি নির্দিষ্ট ভূখণ্ডে নির্মলেন্দু গুণ আশ্চর্যজনকভাবে হয়ে উঠেছেন জাতীয় কবি-প্রতিনিধি যেন, বলা সংগত সর্বাংশে সার্বক্ষণিক কবির প্রতিকৃতি। সম্ভবত অদ্বিতীয়ই। 
সব মানুষ কবিতা পড়েন না। দেশে শিক্ষিত বা শিক্ষাবঞ্চিত উভয় শ্রেণির ভেতর উল্লেখযোগ্য সংখ্যক মানুষ কবিতা পড়েন না। কবিতা না পড়লেও বাঙালিমাত্রেরই রয়েছে সহজাত কবিতাকাতর মন এবং কবি-ব্যক্তির প্রতি মমতা ও আকর্ষণ। মানুষের ভালোবাসা সবচেয়ে মূল্যবান। সেই ভালোবাসা না পেলে নির্মলেন্দু গুণ হয়ে উঠতে পারতেন না কবি-আইকন। যুক্তির কথা বললে মানতে হবে গ্রহণযোগ্যতার বিষয়টিও। সমাজমানসের কাছে গৃহীত হওয়া কেবল ভাগ্যের ব্যাপার নয়, এর জন্য প্রয়োজন অকুণ্ঠ নিবেদন, সুগভীর আত্মনিবেদন।   
কবিতা দিয়েই নিশ্চয় চেনা যাবে কবিকে। তাই বলে কেন শনাক্ত করা যাবে না প্রতিষ্ঠিত কবি-অবয়ব দিয়ে? নিস্তরঙ্গ চমকহীন সমাজবাস্তবতায় চমক জাগানোর জাদুকরী মেধা ছিল তাঁর সূচনাকালেই। তাঁর প্রথম গ্রন্থ প্রকাশের ভেতর দিয়ে ষাটের দশকের কবিতারুচি প্রবল ঝাঁকুনিও খেলো। দেশবাসী তৈরি হচ্ছে স্বাধীনতার লড়াইয়ের জন্য। নেতা শেখ মুজিবের প্রতি আস্থা বাড়ছে। ঠিক সেই সময়ে তাঁর ‘হুলিয়া’ কবিতায় সচেতন নাগরিক প্রশ্ন তুললেন: ‘শেখ মুজিব কি ভুল করছেন।’ অবিসংবাদী নেতার প্রতি সন্দেহ নয়, নেতার কোনো পদক্ষেপই যেন ভুলের গর্তে না পড়ে ভালোবাসামিশ্রিত সতর্ক জিজ্ঞাসাই ছিল সেটি। যা লক্ষ হৃদয় ছুঁয়ে যাওয়ার মতোই। কবিতায় সহজ করে এই গল্প বলার প্রবণতাটি ঠিক অনুমোদন পায়নি নির্মলেন্দু গুণের উদ্বাস্তু উন্মূল জীবনের সখা আবুল হাসানের। তাঁর কাব্যরুচি ‘হুলিয়া’-কে কবিতা হিসেবে গ্রহণ করেনি। তিনি কবিতাটিকে অভিধা দিলেন গল্প বলে। কিন্তু ওই সহজিয়া কবিত্বশক্তিই, বা বলা ভালো আন্তরিক আবেগ, মুক্তির ভাবনা এবং সমকালীন স্বদেশের গূঢ় অভীপ্সাই কবিতাটিতে প্রাণ পেয়েছিল। বিপুলভাবে গৃহীত হলো কবির প্রথম কবিতাগ্রন্থ।
জীবনানন্দ দাশ বলছেন ‘কবিতা ও জীবন একই জিনিসেরই দুই রকম উৎসারণ’। নির্মলেন্দু গুণে এসে একদিকে এর গূঢ় সত্য বুঝে উঠতে পারি। অন্যদিকে মনে হয় তাঁর অস্তিত্বে এ দুটি বিষয় একাকার, সমান্তরাল এবং ‘একই জিনিস’ হয়ে উঠেছে। পুরো জীবন তিনি কবিতায় বিনিয়োগ করেছেন। সার্বক্ষণিক কবিজীবনের যে ঝুঁকি, অর্থকষ্ট ও অমর্যাদা প্রাপ্তির শঙ্কা, তাঁর মতো আর কেউ এসবের মুখোমুখি হতে সাহস করেননি। অল্পসংখ্যক মানুষ ছাড়া এ দেশের সবাই স্বাধীনতার সপক্ষেই। তিনি স্বাধীনতার পক্ষে বারবার কবিতাকে শানিত করেছেন। স্বাধীনতার অল্প ক’বছরের মধ্যে স্বাধীনতার স্থপতিকে হত্যা করা হয়। তিনি ভয়ে কুঁকড়ে নিজ আদর্শবিচ্যুত হননি, বরং প্রতিবাদী কবিতা লিখেছেন। এটি শুধু অসীম সাহসের প্রশ্ন নয়, নিজ কবিসত্তাকে সততা ও নীতিনিষ্ঠ রাখারই সহজাত দৃষ্টান্ত। বলা দরকার, স্বদেশপ্রেম ও খোলামেলা যৌনতার প্রকাশ, উভয় কারণেই তাঁকে নানাভাবে বিব্রত, বিপন্ন এবং কখনোবা অসম্মানিতও হতে হয়েছে। এসবে তিনি বিন্দুমাত্র বিচলিত নন বলেই ধারণা করি। প্রকৃত কবিজীবন তো অনেকটা সমুদ্রেরই মতো, তার অশেষ জলপ্রবাহে কেউ ফেলে বর্জ্য, কেউ নিবেদন করে পূজার ফুল।   
নির্মলেন্দু গুণের কবিতায় ব্যক্তিত্বযোজনা বৈশিষ্ট্যপূর্ণ, কবিতায় নায়ক বা বক্তা তিনিই। সহজবোধ্যতা, বার্তার স্পষ্টতা এবং নিজস্ব কাব্যরসায়ন– এই তিনের সম্পৃক্তি ব্যাপকসংখ্যক কবিতা-পাঠকের কাছে তাঁর কবিতাকে প্রিয়তা দান করেছে। স্বাধীনতা অর্জনের পর প্রকাশিত হয় তাঁর দ্বিতীয় কাব্য না প্রেমিক না বিপ্লবী। তিনি প্রেমিক ও বিপ্লবী, তাতে সন্দেহ রাখি না। বারবার তিনি শোষিতবঞ্চিতের পক্ষে সরব হয়েছেন। তার আগে চাই সমাজতন্ত্র, চাষাভুষার কাব্য, দূর হ দুঃশাসন, কাব্যগ্রন্থের এমন প্রত্যক্ষ নাম এবং সেইসঙ্গে আশির দশকের স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনকালে জাতীয় কবিতা পরিষদ গঠন ও কবিতা উৎসব আয়োজনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখায় সমাজসচেতন কবি হিসেবে তাঁর গ্রহণযোগ্যতা বাড়িয়েছে। 
সপ্রাণতা ও স্বতঃস্ফূর্ততা, নির্মলেন্দু গুণের কবিতার দুটি সাধারণ বৈশিষ্ট্যই অসাধারণ। কোনো কবির কবিতায় মননশীলতার প্রকাশ থাকে বেশি, কারোর হৃদয়ঘটিত আবেগ-ভাবাবেগ ও অনুরাগের বিষয়ই উচ্চকিত। হৃদয়কে স্পর্শ করে না এমন লেখার মূল্য কম। নির্মলেন্দু গুণ সব সময়েই তাঁর কবিতায় হৃদয়কে উচ্চমূল্য দিয়েছেন। সেইসঙ্গে সহজগম্য হওয়ার সুবাদে আবৃত্তিশিল্পীদের মাঝেও তাঁর কবিতার কদর তুলনামূলকভাবে বেশি। একান্তে কবিতাপাঠ এবং মঞ্চে ও ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় আবৃত্তি– দুটির প্রসার ও অভিক্ষেপ দু’রকম। বাচিকশিল্পীদের মাধ্যমে তাঁর কবিতা ব্যাপক মানুষের কাছে পৌঁছেছে। অধিকাংশ শ্রোতার কাছে সেসব কবিতা গৃহীত হয়েছে। সারাদেশে নানা সাহিত্য আয়োজনে যুক্ত হওয়ার কারণে জনসংযোগের দিক দিয়েও তিনি ছিলেন অগ্রসর। সবগুলো দিক বিবেচনায় নিলে আমরা বুঝব পঠন, শ্রবণ, বিপণন এবং কবির স্বয়ং উপস্থিতি ও জনসম্পৃক্তি মিলিয়ে সতীর্থ ও সিনিয়র কবিদের চাইতে তিনি অনেক বেশি সফলতা পেয়েছেন। সব সময়েই তিনি প্রযুক্তিবান্ধব লেখকের পরিচয় রেখে এসেছেন। সেলফোন বা মোবাইল ফোনে (যেটির নামকরণ করেছেন তিনি মুঠোফোন) কবিতাচর্চার মতো অভিনবত্বের সাক্ষী তাঁর পাঠক। ফেসবুকের মতো শক্তিশালী সামাজিক মাধ্যমের চল শুরু হলে সেটি থেকেও পূর্ণ সুবিধা আদায় করেছেন। নতুন প্রজন্মের কবি ও কবিতাপাঠকের সঙ্গে এভাবে সংযুক্ত থেকেছেন তিনি। ফলে সময়ের সঙ্গে পা ফেলে চলা এবং সচেতনতা ও সক্রিয়তায় প্রাগ্রসর কবি হিসেবে তিনি হয়ে উঠেছেন আনপ্যারালাল। ঝাউবীথিসম শ্মশ্রুসৌন্দর্য (অনেকটা রবীন্দ্রনাথের মতোই), কাঁধে ঝোলা বহন ও পায়জামা-পাঞ্জাবি ছাড়া আর কোনো পোশাক পরিধান না করায় স্বতন্ত্র অবয়ব লাভ করেছেন, অন্যদিকে প্রযুক্তিবান্ধব হওয়া বিশেষ সুবিধাও মিলেছে। দেশীয় কবিতাঙ্গনে বহুল উচ্চারিত নামটি হয়েছে তাঁরই। নেত্রকোনার কাশবন গ্রামের রতন হয়ে উঠেছেন সমগ্র দেশের কবিরত্ন।
কবির কম সমালোচনা আমিও করিনি। সবই তাঁর কবিতা বিষয়ে। কখনোবা কবিতায় প্রকাশিত ‘প্রকৃতিবিরুদ্ধ যৌনতা’ নিয়ে। পরে মনে হয়েছে, আমার কাছে যেটা প্রকৃতিসম্মত নয় বলে বিবেচিত হচ্ছে, আরেকজনের কাছে সেটি যদি প্রকৃতির স্বাভাবিকতা হয়ে ওঠে, তবে আমি কে তাতে বাধা দেওয়ার?
এতটা প্রকাশ্যে এবং সর্বজনবোধ্য শব্দ ও ভাষা ব্যবহার করে কবিতায় যৌনকামনা ও যৌনসুখের বিষয়টি ব্যাপকভাবে তুলে ধরার ক্ষেত্রে বাংলাদেশে তাঁর মতো আর কেউ নেই। ‘কামকানন’ গ্রন্থের মুখবন্ধে কবি বলছেন: ‘প্রাণের উৎস যেখানে কাম, সেখানে কীভাবে আমি তাকে দুষ্টপ্রবৃত্তি বলি? আমার আনন্দযৌবনলগ্ন শুরুর মুহূর্ত থেকে এই প্রশ্ন আমাকে আন্দোলিত করেছে; আমার প্রাণ, আমার ধ্যান ধাবিত হয়েছে তার পানে। আমি কামের আনন্দ উপলব্ধি করেছি, মনে হয়েছে, হয়তো এই কথাটা সানন্দে জানান দেবার জন্যই আমি কবি। অন্যথায় রবিকরোজ্জ্বল বাংলা-কবিতায় আমার মৌলিকত্ব আর কোথায়?’
প্রসঙ্গক্রমে লন্ডনে কবিতা উৎসবে যোগ দেওয়ার সময়কার একটি ঘটনা বলি। টেমস নদীর তীরে রোদঝলসিত এক দুপুরে আমরা ঘুরে বেড়াচ্ছিলাম। সেখানে কয়েকটি নান্দনিক ভাস্কর্য স্থাপিত। হঠাৎ দেখি কবি নির্মলেন্দু গুণ এক নারী-ভাস্কর্যের স্তন মুঠোয় নিয়ে চুম্বন করছেন। ঋষিতুল্য এক বৃদ্ধপ্রতিমের আবেগ দেখে বিলেতি ক’জন নারী হো হো হেসে উঠলেন। তাতে কী, বুঝলাম কবি তাঁর অনুভূতি আড়াল করেননি। কে কী ভাবল তা নিয়ে মোটেই ভাবিত নন তিনি। এখানেই তাঁর কবিসত্তার সারল্য ও স্বাভাবিকতা।
দু’দিন পরেই কবি নির্মলেন্দু গুণের জন্মদিন। দিনটিকে তাৎপর্যপূর্ণ উৎসবের উপলক্ষ করার সুযোগ নিশ্চয়ই বাংলার কবি ও কবিতাপ্রেমীরা হারাতে চাইবেন না। রবীন্দ্রনাথের গান ও কবিতার পঙ্‌ক্তি এবং রবীন্দ্রছন্দ বা বাকভঙ্গিকে নিজের ধরনে বহুবার ব্যবহার করেছেন রবীন্দ্রানুসারী কবি নির্মলেন্দু গুণ। একাত্তরের স্বাধীনতাযুদ্ধে রবীন্দ্রনাথের গানকে স্টেনগান হিসেবে আখ্যায়িত করেছিলেন তিনি। রবীন্দ্রনাথ আয়ু পেয়েছিলেন আশি বছর। সেই আয়ুকে ইতিমধ্যে অতিক্রমকারী কবি নির্মলেন্দু গুণ সুস্থ দেহমনে আনন্দিতচিত্তে শতবর্ষের দিকে এগিয়ে যাবেন, অনুজ কবির এটিই প্রার্থনা। 

আরও পড়ুন

×