ঢাকা শুক্রবার, ০৫ জুন ২০২৬

কাফফার মায়া ও বাস্তবতা

কাফকার ঘোর বিভ্রম

কাফকার ঘোর বিভ্রম
×

প্রচ্ছদ :: আনিসুজ্জামান সোহেল

ফয়জুল লতিফ চৌধুরী

প্রকাশ: ০৫ জুন ২০২৬ | ০৭:৪৫

| প্রিন্ট সংস্করণ

আমার লেখা একটি গল্পের নাম ‘লম্বা দাড়ি রাখার পাঁচটি কারণ’। তাতে উইলিয়াম ওয়ালেসের মৃত্যুর কিছু বর্ণনা আছে। স্কটল্যান্ড ছিল ইংরেজদের পদানত। তিনি স্কটল্যান্ডের স্বাধীনতার জন্য কিং এডওয়ার্ড ওয়ানের বিরুদ্ধে বিদ্রোহ করেন এবং ধরা পড়েন ১৩০৫ খ্রিষ্টাব্দের আগস্ট মাসে। বন্দি উইলিয়াম ওয়ালেসকে লন্ডনে নিয়ে আসা হয়। বিদ্রোহের অভিযোগে ওয়েস্টমিনস্টার হলে তাঁর বিচার করা হয়। ওয়ালেস বললেন: ‘আমি কী করে বিদ্রোহী হবো? আমি কখনোই তো কিং এডওয়ার্ডের প্রজা ছিলাম না।’ তাঁর শ্মশ্রুমণ্ডিত মুখাবয়বে সাহসের দীপ্তি, মুক্তির স্পন্দন। বিচারে তাঁকে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দেওয়া হলো। আদেশ ছিল যেন নির্যাতন করে করে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়। 
তাঁকে ওয়েস্টমিনস্টার হল থেকে টাওয়ার অব লন্ডনে নিয়ে যাওয়া হলো। টাওয়ার অব লন্ডনে তাঁর গা থেকে সব কাপড় খুলে নগ্ন করে ফেলা হলো। তারপর ঘোড়ার খুরের সঙ্গে বেঁধে শহরের মধ্য দিয়ে নিয়ে যাওয়া হলো স্মিথফিল্ডের কসাইখানায়। তাকে ফাঁসিকাষ্ঠে ঝোলানো হলো─তারপর পায়ে রশি বেঁধে নির্মমভাবে নিচের দিকে টানা হতে লাগল। এমন জোরে টানা হতে লাগল যেন শরীরটা ছিঁড়ে যায়। গলার ফাঁসে শরীর থেকে দম বেরিয়ে যায় যায়, এমন সময় ফাঁসিকাষ্ঠের দড়ি ছেড়ে দেওয়া হলো। তাঁর ক্ষত-বিক্ষত শরীরটি মেঝেতে আছড়ে পড়ল। তাঁর পুরুষাঙ্গ কেটে নেওয়া হলো। কেটে নেওয়া হলো তাঁর অণ্ডকোষ। এবার তাঁর পেট চিরে ফেলা হলো। কোনো একটি মানুষের হাত পেটের মধ্যে ঢুকে গিয়ে তার পাকস্থলী টেনে ছিঁড়ে বের করে আনল। তাতে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হলো। তরবারির আঘাতে শরীর থেকে মস্তকটা আলাদা করে ফেলা হলো, কুপিয়ে কুপিয়ে দেহটা চারখণ্ডে বিভক্ত করা হলো। তাঁর মস্তকটা আলকাতরায় চুবিয়ে লন্ডন ব্রিজে লোহার শিকের আগায় ঝুলিয়ে দেওয়া হলো। ফরাসি চিন্তাবিদ পল-মিশেল ফুকো (১৯২৫-১৯৮৪) বলছেন, আধুনিক জামানার অধিকাংশ মানুষ আর দৈহিক নির্যাতনের শিকার হয় না। কিন্তু কোটি কোটি মানুষ প্রতিদিন প্রতিমুহূর্তে মানসিক নির্যাতনে পিষ্ট হতে থাকে। ক্রমান্বয়ে আমরা এরকম একটি সিস্টেম বা সংশ্রয়ে ঢুকে পড়েছি, যা আমাদের অবিরত শাসন করে যায়। আমাদের আত্মা এই সিস্টেমের সঙ্গে মানিয়ে চলতে বাধ্য।
চেক লেখক ফ্রানৎস কাফকা’র (১৮৮৩-১৯২৪) ‘দ্য ট্রায়াল’ উপন্যাসে আমরা এরকম একটি পৃথিবীর কথা শুনি। নায়কের নাম জোসেফ কে.–মেটামোরফসিসের গ্রেগর সামসার মতোই তিনি প্রসিদ্ধ। কেউ লাগিয়ে থাকবে─যার ফলে একদিন, ত্রিশতম জন্মদিনের সকালে, তার বাসায় দুজন পুলিশ এসে হাজির হয়। তারা তাকে গ্রেপ্তার করে নিয়ে যায়। কেন? কী অভিযোগ তার বিরুদ্ধে? কী অন্যায় কাজ সে করেছে? 
পুলিশেরা সে কথা বলতে পারে না। তাকে একটি ঘরে বন্দি রাখা হয়। পরদিন তাকে আদালতে তোলা হয়। সেখানেও বলা হয় না তার কী অপরাধ, কেন তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। বিচার ব্যবস্থার ত্রুটি নিয়ে গরম বক্তৃতা দেয় জোসেফ কে.।
এক বছর ধরে চলে বিচারের নামে প্রহসন। জোসেফ কে. স্বভাবতই আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করে। হয়তো একই নামের অন্য কেউ প্রকৃত অপরাধী: সর্বাগ্রে নাম-ঠিকানা যাচাই করা দরকার। অচিরেই সে বুঝতে পারে পুরো বিচার ব্যবস্থা কার্যত দেশের অনস্পষ্ট আইন, নির্বোধ পুলিশ, দুর্নীতিগ্রস্ত আইনজীবী, আদালতের নিরর্থক কর্মপদ্ধতি ও নির্মম আমলাতন্ত্রিক জটিলতার একটি দুরধিগম্য গোলকধাঁধা। এই বিচার ব্যবস্থা অমানবিক। সংবেদনবিহীন। কার্যত নিপীড়নমূলক। চিত্রশিল্পী টিটোরেল্লি জানায়: আদালত কখনোই তাকে নিঃশর্ত মুক্তি দেবেন না। ভাগ্য ভালো হলে হয়তো লোকদেখানো কিছু একটা করা হবে, কিংবা অনির্দিষ্টকালের জন্য আরোপিত শাস্তি স্থগিত রাখা হবে।
যতই সে আত্মপক্ষ সমর্থনের চেষ্টা করে ততই সে বিচার প্রক্রিয়ার গাড্ডায় ডুবে যেতে থাকে। সে হতাশ হয়ে পড়ে। তার আদালতে লড়াই করার শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায়। বছর গড়িয়ে যায়। একত্রিশতম জন্মদিন চলে আসে। সরকারের পেয়াদারা তাকে কুকুরের মতো হত্যা করে। জোসেফ কে. পৃথিবী থেকে নিকেশ হয়ে যায় এ কথা না-জেনেই কেন, কোন অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল–ছিল তার অপরাধ।
এই হচ্ছে কাফকার ভুবন, যাকে আমরা কাফকায়েস্ক (Kafkaesque) পৃথিবী বলে অভিহিত করে থাকি। আদালতটি এহেন এক পৃথিবীর প্রতীক। স্বেচ্ছাচারিতা, অসংগতিমূলক আচরণ আর বিদ্বেষী মনোভাব এই আদালতের চারিত্র্য। এখানে মনুষ্যত্ববোধ নেই। সহমর্মিতা নেই। কোনো সংবেদনা নেই। কেবল আছে আইনপ্রয়োগের অভিলাষ।
যেমন ফুকো অনুধাবন করেছেন, আধুনিক সমাজে আর প্রকাশ্য শারীরিক নির্যাতন নেই, বরং আছে শৃঙ্খলাবিধানের নিগড়। এ ব্যবস্থা বাতলে দেয় কী করতে হবে, কখন করতে হবে। তাই ফুকো তাঁর বইয়ের নাম রেখেছেন ‘ডিসিপ্লিন অ্যান্ড পানিশ’। আধুনিক সিস্টেম প্রকৃতপক্ষে ডগলাস ম্যাকগ্রেগর কথিত ‘হট স্টোভ সিস্টেম’: কাউকে দৈহিক নির্যাতন করা হবে না; কিন্তু মানুষকে নিয়ন্ত্রণ করা হবে নজরদারির মধ্য দিয়ে। নজরদারি বিকশিত হবে নানা মাত্রায়। অনেক অপারেশনস ম্যানুয়াল লেখা হবে, রচনা করা হবে অজস্র স্ট্যান্ডার্ড অপরেইটিং প্রসিযিওর। অনিবার্যভাবে মানুষের স্বাধীন সত্তার বলি হবে নিয়মানুবর্তিতার যূপকাষ্ঠে। আইন ও বিধান, কর্মপদ্ধতি ও প্রটোকল হয়ে উঠবে মানব অস্তিত্বের মানদণ্ড। লঘিষ্ঠ সাধারণ গুণিতক ‘অসহায়ত্ব’ হলেও দ্য ট্রায়ালের জোসেফ কে. আর মেটামরফোসিসের গ্রেগর সামসার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। গ্রেগর সামসা পরিবেশের চাপে মানুষের অন্তর্গত ভাঙনের প্রতি আমাদের দৃষ্টি আকর্ষণ করে। 

সামাজিক ও পারিবারিক দমনের কারণে মানুষ তার অস্তিত্বের প্রাসঙ্গিকতা ও মূল্য হারায়। মানুষে মানুষে যে সম্বন্ধ তার মধ্যে অনুপ্রবিষ্ট হয়ে যায় নিপীড়ন ও নির্যাতন। উপযোগিতা ছাড়া মানুষের সামাজিক মূল্য শূন্য হয়ে পড়ে। সে অনাবশ্যক লজ্জা ও অপরাধবোধে আক্রান্ত হয়। 
জোসেফ কে. দৃষ্টি আকর্ষণ করে সিস্টেমের অসংগত উপস্থিতির দিকে। যে বিচারব্যবস্থা জোসেফ কে.র মৃত্যু অবধারিত করে তোলে, তা অদৃশ্য এক বিচারব্যবস্থা। ফুকো বলছেন, আধুনিক রাষ্ট্রে ক্ষমতা এখন অদৃশ্য কিন্তু আসলে উপস্থিতি সার্বত্রিক। আইন আর কানুনের জাল ক্রমশ বিস্তৃত হচ্ছে। নিয়মানুবর্তিতার সুড়ঙ্গে আটকে পড়া মানুষ পা পিছলে পিছলে অপরাধবোধের স্তূপে পরিণত হচ্ছে। 
কাফকার উপন্যাস স্পষ্ট করে তোলে বহিঃরস্থ দমন কীভাবে ক্রমশ মানুষের অন্তরঙ্গে প্রবিষ্ট হয়। প্রায় সমান্তরালভাবে ফুকো ব্যাখ্যা করেন দমনের আধুনিক তথা প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর উদ্ভব ও বিকাশ। আধুনিক অ্যালগরিদমিক ব্যবস্থাগুলো সাধারণত চালিত হয় অত্যন্ত যুক্তিনির্ভর দক্ষতা, মুনাফা সর্বাধিক করার প্রবণতা এবং ঝুঁকি এড়ানোর মানসিকতা দ্বারা–যদিও শেষ পর্যন্ত এর ফলাফল ব্যক্তির কাছে সমানভাবে বিচ্ছিন্নতামূলক বলে মনে হতে পারে।

২.
প্রতিটি সৎ উপন্যাস আত্মজৈবনিক। ‘দ্য ট্রায়াল’ ও ‘মেটামরফোসিস’ তার ব্যতিক্রম নয়। 
আজ চেক রিপাবলিকের রাজধানী প্রাহা (বা প্রাগ) ‘কাফকার শহর’ হিসেবেই পরিচিত। কিন্তু ফ্রানৎস কাফকার জীবন কেটেছে নিদারুণ যন্ত্রণায়। এই যন্ত্রণার সূত্রপাত হয়েছিল শৈশবে। পিতা হারম্যান কাফকা তাঁর খবর রাখতেন না। হারম্যান সাহেবের এই পুত্রের জীবন আদৌ সুখের হয়নি।
তখন প্রথম মহাযুদ্ধ শেষ হয়ে গেছে। একদিন পিতা পুত্রকে ডেকে জিজ্ঞেস করলেন, ‘আচ্ছা, তুমি আমাকে এত ভয় পাও কেন?’
অনুমিত হয় সদা ভয়-তটস্থ কাফকা এ প্রশ্নের উত্তর না-দিয়ে মাথা হেঁট করে দাঁড়িয়েছিলেন, এবং শেষ পর্যন্ত পালিয়ে বেঁচেছিলেন। কাফকার বয়স ৩৬। পিতার ওপর তিনি মহাক্ষুব্ধ। ধরতে গেলে পিতার ইচ্ছা ও ষড়যন্ত্রেই প্রণয়ী ফেলিসের সঙ্গে সম্প্রতি তাঁর সম্পর্কচ্ছেদ হয়েছে। 
কয়েক মাস পর নভেম্বরের (১৯১৯) এক সন্ধ্যায় মাথায় ভূত চেপে গেলে কাফকা তাঁর পিতাকে উদ্দেশ করে সেই প্রশ্নের জবাব লিখতে বসে গেলেন। এক-বাক্য প্রশ্নটির জবাব লিখতে লিখতে দীর্ঘ হয়ে গেল। চিঠির মাধ্যমে বাবার প্রশ্নের উত্তর লিখতে লিখতে কাফকা ছোটখাটো একটি বই লিখে ফেললেন। ইংরাজি অনুবাদে ১৯৫৪ খ্রিষ্টাব্দে প্রকাশিত বইটির নাম ‘লেটার টু ফাদার’ (বাবাকে লেখা পত্র)। বইয়ের দৈর্ঘ্য ৭২ পাতা। চিঠি লেখায় কাফকা পারঙ্গম ছিলেন বটে। শত শত পত্র তাঁর প্রণয়াকুল হৃদয়ের আবেগের অভিজ্ঞান অবধারণ করে আছে।
কথিত আছে দীর্ঘ এ পত্র বাবার হাতে পৌঁছানোর জন্য কাফকা মাকে দিয়েছিলেন; মা সেটি স্বামী হারম্যান কাফকার হাতে পৌঁছানোর সাহস করেননি। চিঠিটি শুরু হয়েছে এভাবে:
প্রিয়তম বাবা,
কিছুদিন আগে আপনি জিজ্ঞাসা করিয়াছিলেন আমি আপনাকে এত ভয় পাই কেন। 
এই প্রশ্নের উত্তর সহসা আমার মুখে আসে নাই: অংশত আপনারই ভয়ে, অংশত এই ভয়ের কারণ এমনই বিস্তীর্ণ, যাহা বাক্যবন্দি করা আমার সাধ্যাতীত। এই চিঠিতে আমি আপনার প্রশ্নটির জবাব দেওয়ার চেষ্টা করিতেছি। তবে কার্যত জবাবটি পরিপূর্ণ হইবে না, কারণ লিখিতে বসিয়াও আমার ভয়-তাড়না কলমের গতি রুদ্ধ করিয়া দিতেছে, আর বিষয়টির পরিধি এতই ব্যাপক যে, তাহা আমার স্মৃতি আর উপলব্ধিশক্তির অতীত।...
সন্দেহ নেই হারম্যান কাফকার পর্বতসমান ব্যক্তিত্ব ও দম্ভোক্তি, প্রতিষ্ঠা ও সফলতা, এবং ক্রোধ ও ভর্ৎসনা ফ্রানৎস কাফকার কিশোর নিশ্চেতনায় অনপনেয় ছাপ অঙ্কন করেছিল। বাহাত্তর পৃষ্ঠার এই দীর্ঘ চিঠিতে পিতা-পুত্রের অন্ধকার সম্পর্কের বিশদ ব্যাখ্যা ও বিশ্লেষণ দেখতে পাওয়া যায়। পিতাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করিয়ে কাফকা শৈশব-কৈশোর-যৌবনের অবদমনের পূর্ণ প্রতিশোধ নিয়েছেন। পরাক্রমশালী পিতার রুদ্রমূর্তিতে সদা-সন্ত্রস্ত কাফকা চিঠির এক জায়গায় উল্লেখ করেছেন, ‘... এক ধরনের প্রতিশোধস্পৃহার বশবর্তী হইয়া আমি আপনার আচরণ-স্বভাবের পরিহাসতুল্য ক্ষুদ্র বিষয়াদিও গভীরভাবে পর্যবেক্ষণ ও অতিরঞ্জন করিতে শুরু করি।’
কাফকার পিতা হারম্যান ছিলেন বিশাল মাপের পুরুষ। সামাজিক প্রতিপত্তি অর্জনে তাঁর প্রচেষ্টা কাফকার চোখে হাস্যকর প্রতিভাত হতো। বাবাকে লেখা চিঠিতে এ নিয়ে ব্যঙ্গ করতে কাফকা কার্পণ্য করেননি। প্রতিটি বিষয়েই কাফকা বাবার আচরণ, দৃষ্টিভঙ্গি ও ব্যবহার নিয়ে পুঙ্খানুপুঙ্খ বিশ্লেষণ করেছেন। কাফকার সিদ্ধান্ত: দীনহীন অবস্থা থেকে যারা নিজগুণে যশস্বী হয়ে ওঠে তাদের আত্মবিশ্বাসও আগ্রাসী হয়ে পড়ে। তুলনা করে অন্যকে খাটো প্রতিপন্ন করা তাদের অভ্যাসে পরিণত হয়। নিজ পুত্রও এই আগ্রাসন থেকে ছাড় পায় না। 
কাফকা তাঁর বাবাকে বীরোচিত ‘খাঁটি কাফকা’ এবং নিজেকে ‘রোগা-পটকা, দুর্বল, তুচ্ছ’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন। চিঠির এক পর্যায়ে কাফকা কর্তৃত্বপরায়ণ পিতা হারম্যান কাফকাকে ‘শস্যখেকো পোকা’র সঙ্গে তুলনা করেছেন, যা দংশনে দংশনে শস্যকে নিরক্ত করে ফেলে। স্মরণ করা যেতে পারে যে, ‘দ্য জাজমেন্ট’ শিরোনামীয় গল্পটিরও কেন্দ্রে রয়েছে পিতা-পুত্রের মনস্তাত্ত্বিক দ্বন্দ্ব। 
বাবাকে লেখা চিঠিতে অভিযোগের স্তূপ উপচে যে গাঢ় বিষণ্ন সুর বেজে উঠেছে তা মূলত এক পরাক্রান্ত মানুষের চাপা হাহাকার। ‘লেটার টু ফাদার’ শেষ পর্যন্ত এক অনতিতরুণ যুবকের গভীর হীনম্মন্যতার প্রতিচ্ছবি। হারম্যান কাফকা ছিলেন কর্তৃত্বপরায়ণতার প্রতিমূর্তি। কাফকা পরিবার ছিল নিঃশব্দ নিষ্পেষণের মোক্ষম মাড়াইকল। যার ফলে কাফকা ছিলেন মানসিকভাবে পর্যুদস্ত। এই পরাভবের অনুপ্রাণনায়ই তিনি লেখেন ‘দ্য ট্রায়াল’, যা মানুষের অসহায়ত্বের করুণ লেখচ্ছবি । ‘দ্য ট্রায়াল’ গল্পের নায়ক জোসেফ কে. ভয়ার্ত কাফকারই প্রতিবিম্ব। সন্দেহ নেই যে, আধুনিক মানুষ প্রাতষ্ঠানিক নিয়মানুবর্তিতা ও রাষ্ট্রীয় বাধ্যবাধকতায় সদা সন্ত্রস্ত। আধুনিক প্রযুক্তি এই নিবর্তনমূলক প্রতিষ্ঠানকে শক্তিশালী করে তুলছে। 

আরও পড়ুন

×