তারুণ্যকে কাজে লাগাতে ব্যবস্থা নিন
.
ফারিহা জামান নাবিলা
প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:১৩
দেশে প্রতিবছর বিপুলসংখ্যক তরুণ শিক্ষা গ্রহণ শেষে কর্মসংস্থানের বাজারে প্রতিযোগিতা করছে। কিন্তু দুঃখজনক, সেই সুযোগ আমরা পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারছি না। শিক্ষিত তরুণরাও চাকরি পাচ্ছেন না, কারণ তাদের শিক্ষা ও শ্রমবাজারের চাহিদার মধ্যে ফারাক তৈরি হয়েছে। অন্যদিকে গার্মেন্টস, কৃষি, টেকনিক্যাল খাতে আবার দক্ষ জনবল খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না। ফলে একদিকে বেকারত্ব বাড়ছে, অন্যদিকে কর্মী সংকট দেখা দিচ্ছে।
আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থার তথ্যমতে, বাংলাদেশের তরুণদের মধ্যে বেকারত্বের হার প্রায় ১১ শতাংশ, যা মোট বেকারত্বের দ্বিগুণ। প্রতিবছর যে সংখ্যক তরুণ চাকরির বাজারে প্রবেশ করছে, নতুন কর্মসংস্থান তৈরি হচ্ছে সে তুলনায় অনেক কম। অন্যদিকে দক্ষ লোক পাওয়া যায় না। এর মানে, সমস্যা শুধু চাকরির অভাব নয়, বরং দক্ষতার ঘাটতি ও বাজারের চাহিদার সঙ্গে অমিল।
বেকারত্ব দূর করতে চাইলে প্রত্যেক তরুণকে বাজার উপযোগী দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করতে হবে। তাদের ব্যবসা শুরু করার জন্য সহজ ঋণ, ফান্ড ও ট্রেনিং দিতে হবে। উচ্চশিক্ষার সঙ্গে শিল্প, প্রযুক্তি ও কৃষি খাতের চাহিদার সামঞ্জস্য থাকতে হবে। বিশ্ববিদ্যালয়, ট্রেনিং সেন্টার ও শিল্পকারখানাকে একসঙ্গে যুক্ত করতে হবে। দক্ষ জনবল তৈরি করে তাদের বিদেশে পাঠাতে হবে, যাতে রেমিট্যান্স বাড়ে। শুধু চাকরি নয়; ব্যবসা, ফ্রিল্যান্সিং বা স্বনির্ভরতার মানসিকতা গড়ে তুলতে হবে। এ ছাড়া সরকারের উচিত পাঠ্যক্রম আধুনিকায়ন করে প্রযুক্তি, কৃষি ও শিল্পমুখী শিক্ষাকে বাধ্যতামূলক করা। প্রতিটি উপজেলায় আধুনিক টেকনিক্যাল ট্রেনিং সেন্টার স্থাপন করা। তরুণ উদ্যোক্তাদের জন্য সুদমুক্ত ঋণ, স্টার্টআপ ফান্ড ও বিশেষ সুবিধা দেওয়া সরকারি-বেসরকারি যৌথ উদ্যোগে ইন্ডাস্ট্রি-ইউনিভার্সিটি লিঙ্কেজ তৈরি করা। বেকারত্ব ও দক্ষতার সংকট শুধু ব্যক্তিগত সমস্যা নয়, এটি জাতীয় উন্নয়নের সবচেয়ে বড় বাধা। যদি তরুণদের যথাযথভাবে কাজে লাগানো যায়, তবে তারা হবে বাংলাদেশের অগ্রগতির চালিকাশক্তি।
ফারিহা জামান নাবিলা: শিক্ষার্থী, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগ, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়
farihazaman524@gmail
- বিষয় :
- তারুণ্য
