চা-শ্রমিকদের বঞ্চনা
ছবি: সংগৃহীত
রাসেল আহমদ
প্রকাশ: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:২২ | আপডেট: ১০ জানুয়ারি ২০২৬ | ১১:৪০
| প্রিন্ট সংস্করণ
১৭৫৭ সালে ভারতবর্ষে ব্রিটিশ ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানির শাসন প্রতিষ্ঠার মধ্য দিয়ে এ অঞ্চলে ঔপনিবেশিক শোষণের ভিত্তি রচিত হয়। একই সময়ে ব্রিটেনে শিল্পবিপ্লবের সূচনা হলে কাঁচামাল ও লাভজনক পণ্যের সন্ধানে উপনিবেশগুলোকে ব্যবহার শুরু করে সাম্রাজ্যবাদী শক্তি। এই প্রেক্ষাপটেই ১৮৪০ থেকে পঞ্চাশের দশকে সিলেট ও আসামে চা-শিল্প গড়ে ওঠে।
একজন শ্রমিকের দৈনিক ন্যূনতম খাদ্য ব্যয়ই কমপক্ষে ২৫০ টাকা। ছয় সদস্যের পরিবারের জন্য প্রয়োজন ১২শ থেকে ১৫শ টাকা। অথচ রেশন, ছুটি ও বাসস্থানের হিসাব জুড়ে দিয়ে মালিকপক্ষ দৈনিক ৫৬০ টাকার বিভ্রান্তিকর প্রচারণা চালাচ্ছে বলে অভিযোগ শ্রমিকদের।
প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে বৈষম্য আরও স্পষ্ট। ভারতে চা-শ্রমিকদের দৈনিক মজুরি ৩৪০ থেকে ৬৮০ টাকা, শ্রীলঙ্কায় প্রায় ৬৭০ টাকা। বাংলাদেশে যখন গার্মেন্টস শ্রমিকদের বার্ষিক ইনক্রিমেন্ট এবং সরকারি কর্মচারীদের জন্য নতুন পে কমিশনের উদ্যোগ নেওয়া হয়, তখন চা-শ্রমিকরা ব্যাপক বৈষম্যের শিকার।
চা-বাগানে সরকার বদলায়, বদলায় না শ্রমিকের ভাগ্য। সিলেটের মালিনীছড়া চা-বাগানে শ্রমিকদের সঙ্গে সাম্প্রতিক আলাপে উঠে এসেছে বঞ্চনার দীর্ঘ, করুণ এবং প্রায় অপরিবর্তিত এক ইতিহাস। শ্রমিকদের কথায়, ‘সরকার বদলায়, শাসকের নাম বদলায়; কিন্তু চা-শ্রমিকদের জীবনে সুখ আসে না।’
চা-শ্রমিকদের দৈনিক এক হাজার টাকা ন্যূনতম মজুরি ও বার্ষিক ১৫ শতাংশ ইনক্রিমেন্ট কোনো বিলাসী দাবি নয়, এটি বেঁচে থাকার ন্যূনতম শর্ত। চা-শ্রমিকদের ন্যায্য মজুরির লড়াই কেবল একটি শিল্পের প্রশ্ন নয়; এটি মানবিক মর্যাদা, সাংবিধানিক ন্যায্যতা ও সামাজিক ন্যায়ের প্রশ্ন।
শ্রমিকরা ২০২৩ সালে প্রণীত গেজেটকে স্পষ্ট ভাষায় চা-শ্রমিক স্বার্থবিরোধী বলে অভিহিত করছেন। তাদের মতে, এই গেজেট শ্রমিকদের ন্যায্য অধিকার সুরক্ষার বদলে মালিকপক্ষের সুবিধাকেই প্রাধান্য দিয়েছে। ফলে ওই গেজেট বাতিলের দাবিও এখন চা বাগানগুলোতে ক্রমশ জোরালো হচ্ছে। আরেকটি গভীর উদ্বেগের জায়গা হলো চা বাগানের ভূমি দখল। শ্রমিকদের অভিযোগ চা-শিল্পের নামে প্রাপ্ত ভূমি একের পর এক দখল হয়ে যাচ্ছে।
রাসেল আহমদ: সাংবাদিক ও কলাম লেখক
[email protected]
