ঢাকা সোমবার, ০৫ অক্টোবর ২০২৬

এআই হুমকি নাকি আশীর্বাদ?

এআই হুমকি নাকি আশীর্বাদ?
×

কাজী সুলতানুল আরেফিন

প্রকাশ: ০৩ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

বর্তমান সময়ে যে হারে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআইয়ের চর্চা হচ্ছে, এর ফলাফল মানবসভ্যতাকে কোন দিকে নিয়ে যাবে, তা নিয়ে অনেকেই চিন্তিত। বিশেষ করে সামাজিক মাধ্যমে যে হারে ফটো এবং ভিডিও এআই দিয়ে তৈরি হচ্ছে, তা আসলেই ভাববার বিষয়। এআইয়ের কারণে অনেক বাস্তব ফটো এবং ভিডিও প্রশ্নের সম্মুখীন হচ্ছে। বেশির ভাগই বুঝতে পারছেন না এটি আসল নাকি নকল! আবার অনেক সত্য বিষয়বস্তু এআই দিয়ে তৈরি বলে প্রচার করা হয়। এটি মূলত কারও কোনো অপকর্ম ফাঁস হলে তখন করা হয়। 
এমনিতেও এআই অতিদ্রুত যেভাবে কাজ করছে, তাতে মানবজাতি অনেক কর্মসংস্থান হারাবে এবং অলস হবে। তবে বিভিন্ন তথ্যপ্রযুক্তিতে আর কৃষিতে এআইয়ের ব্যবহার হয়তো ভালো কিছুই বয়ে আনতে পারে।  এআইনির্ভরতা এবং আসক্তি কোনোভাবেই মঙ্গলজনক কিছু বয়ে আনবে না, এটা নিশ্চিত। শিশুরা যে হারে এআই ব্যবহারে আসক্ত হয়েছে, এতে করে শিশুদের স্বাস্থ্যহানি হবে এটাও নিশ্চিত করে বলা যায়।  

যাই হোক, কোনো একসময় এই নিয়ন্ত্রণকারীরা যদি মানবজাতিকে নিয়ন্ত্রণ করে ফেলে, সে চিন্তার রেখাও কপালে দেখা যাচ্ছে। আচ্ছা কখনও যদি এমন হয়– যারা এআই নিয়ন্ত্রণ করে তারা যদি এআইকে প্রশ্ন করে, ওই ডিভাইস ব্যবহারকারীদের ডিভাইসে ব্যাংক পাসওয়ার্ড কত টাইপ করেছিল বা কত ছিল? কিংবা ব্যাংকিং লেনদেনসহ অন্য সব পাসওয়ার্ড কী ছিল? এআই কি উত্তর দেবে না ভেবেছেন? এই ডিভাইস ব্যবহারকারীর চরিত্র বা দুর্বলতা কী ছিল? মানসিক অবস্থা, শারীরিক অবস্থা কেমন ছিল? এআই চুপ করে থাকবে ভেবেছেন? মানবজাতির গোপনীয়তা হুমকির মুখে বলে মনে হচ্ছে। এআই যেভাবে নিজের জ্ঞানের জানান দিচ্ছে, সেই হিসেবে এসব তো স্বাভাবিক বিষয় মনে হচ্ছে।
একদিন সবকিছু লকড হবে। এআই একদিন মানবসভ্যতা ধ্বংসের দিকে নিয়ে যাবে– এই আশঙ্কায় এআই প্রতিষ্ঠান অ্যানথ্রপিক থেকে পদত্যাগ করেছেন গবেষক জ্যাকব ককসন। একদিন এই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার কারণে মানবসভ্যতা জিম্মি হবে– এটা সন্দেহ জাগাচ্ছে!

কাজী সুলতানুল আরেফিন: 
ছাগলনাইয়া, ফেনী
[email protected].

আরও পড়ুন

×