ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

ডিনার ক্রুজে চাও প্রয়া নদীতে

ডিনার ক্রুজে চাও প্রয়া নদীতে
×

ব্যংককের স্মাইল রিভারসাইড ক্রুজ

সুরুয খান

প্রকাশ: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ০৬:২৬ | আপডেট: ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৫ | ১৬:৪১

এখন পর্যন্ত তিনবার থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককে যাওয়ার সুযোগ হয়েছে আমার। শেষবার গিয়েছি গত জুন মাসে। তখন সেখানকার চাও প্রয়া নদীতে ডিনার ক্রুজে ভ্রমণ হয়েছে।

চাও প্রয়া থাইল্যান্ডের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নদী, যা ব্যাংকক শহরের কেন্দ্র দিয়ে প্রবাহিত হয়ে বিভিন্ন ঐতিহাসিক স্থান, মন্দির ও আধুনিক স্থাপনার পাশ দিয়ে গেছে। এটি থাইল্যান্ডের ইতিহাস, সংস্কৃতি ও অর্থনীতির সঙ্গে গভীরভাবে জড়িত। ব্যাংককে ডিনার ক্রুজ হচ্ছে চাও প্রয়া নদীতে ভেসে খাবার খাওয়ার এক অনন্য অভিজ্ঞতা। এটি ব্যাংকক ঘুরে দেখার অন্যতম জনপ্রিয় এবং রোমান্টিক একটি উপায়। বিশেষ করে সন্ধ্যাবেলা বা রাতে। জনপ্রিয় ক্রুজগুলোর মধ্যে রয়েছে চাও প্রয়া প্রিন্সেস ক্রুজ, হোয়াইট অরকিড রিভার ক্রুজ, লয় নাভা ডিনার ক্রুজ, অপ্সরা ক্রুজ এবং স্মাইল রিভারসাইড ক্রুজ, যেখানে আমরা ডিনার করেছি। 

এবার উঠেছিলাম আনিয়া নানার হোটেলে। সন্ধ্যা ৬টার দিকে হোটেল থেকে আইকনসিয়াম ৫ কিলোমিটারের দূরত্ব হলেও ট্রাফিক জ্যামের কারণে ট্যাক্সিতে প্রায় আধাঘণ্টা লেগেছে। আইকনসিয়াম থাইল্যান্ডের সবচেয়ে বড় ও বিলাসবহুল শপিংমলগুলোর একটি। শপিং, খাওয়া-দাওয়া, নদীর ধারে আরামদায়ক সময় কাটানো এবং থাই সংস্কৃতির আধুনিক রূপ উপভোগের জন্য আদর্শ স্থান।

এখানে সন্ধ্যায় পানি ও আলোর প্রদর্শনী করা হয়, যা অনেক দর্শনার্থীর প্রিয় মুহূর্ত। আমার ভাগ্যও ভালো ছিল। যে সময়ে আইকনসিয়ামে পৌঁছেছি, তখনই শুরু হলো ফাউন্টেইন অ্যান্ড লাইট শো।
এরই মধ্যে স্মাইল রিভারসাইড ক্রুজের টিকিট কেটে এনে দিল গাড়ির চালক। আমার সঙ্গে ছিল এক বন্ধু আর তার স্ত্রী। নদীপাড়ে তখন শত শত মানুষ।

এমন সময় থাই ঐতিহ্যবাহী পোশাকে দুই তরুণীর আবির্ভাব ঘটল। স্মাইল রিভারসাইডের যাত্রীদের নীল রঙের স্টিকার ব্যাজ পরিয়ে দিল তরুণী দুজন। একের পর এক ডিনার ক্রুজ ভিড়ছে ঘাটে আর যাত্রীরা তাদের স্টিকার দেখিয়ে ঢুকে যাচ্ছে ভেতরে। নদী তীরে যেন উৎসব চলছে। আমাদের স্মাইল রিভারসাইড ক্রুজের আগমন হলো। গেট খুলে দিলে আমাদের বসার জায়গা ওপরের ডেকে দেখিয়ে দেওয়া হলো। ওপরে উঠতেই মনটা ভালো হয়ে যায়।

একদম মাঝখানে ওভাল আকারে ব্যুফে খাবারের ব্যবস্থা পুরো ডেকে ৪টা চেয়ারের মাঝে একটা করে টেবিল, এমনভাবে অনেক টেবিল দেওয়া ছিল। আমরা একটা টেবিল দখল করে বসে পড়লাম। টেবিলে গ্লাসভর্তি জুস দেওয়া ছিল। মাত্র দুই ঘণ্টার নদীভ্রমণ, কিন্তু আনন্দের কোনো ঘাটতি রাখেনি কর্তৃপক্ষ। হরেক রকম আন্তর্জাতিক এবং থাই খাবারের আইটেম থেকে প্লেটে পছন্দমতো খাবার নিয়ে টেবিলে বসলাম।

পর্যায়ক্রমে চলছিল লাইভ মিউজিক, থাই ক্লাসিক্যাল এবং বিভিন্ন ধরনের গান আর নাচ। অনেক যাত্রীও নাচানাচি শুরু করল। চাও প্রয়া নদীর দুই পারের রাতের আলো ঝলমলে রঙিন ব্যাংকক শহর। বুঝতে পারলাম, ডাইনিং ক্রুজে না এলে হয়তো ব্যাংকক দেখাটাই অপূর্ণ থেকে যেত। সন্ধ্যার এই মুহূর্তগুলো মনে থাকবে অনেক দিন।

আরও পড়ুন

×