নদীতে রোমাঞ্চের খোঁজে
‘নদী-মানুষের সম্পর্ক অনন্তকালের’
মারিয়া ফেরদৌসী আক্তার
প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৫ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:২৩
| প্রিন্ট সংস্করণ
বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে আয়োজিত হচ্ছে ‘বাংলা চ্যানেল প্রতিযোগিতা’। এখানে অংশ নেওয়া অনেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশের মাটিতে নানা আয়োজনের অংশ হয়েছেন। ইংলিশ চ্যানেলেও পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের পতাকার গল্প। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে দেশের কয়েকজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রীর সাঁতারের রোমাঞ্চকর স্মৃতি। নদীমাতৃক দেশের পানিপথে সাঁতরে নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ভরেছেন নানা জনপদের বেঁচে থাকার লড়াই, চ্যালেঞ্জের আড়ালে সৌন্দর্য আর নদী বাঁচানোর স্বপ্ন। এমন সব স্মৃতিকথা নিয়ে আয়োজন সাজিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ–
-------------------------------------------------------------------------------------
মারিয়া ফেরদৌসী আক্তার। বাংলাদেশের ক্রীড়াঙ্গনে ‘আয়রন লেডি’ নামে পরিচিত। বাংলাদেশ ক্রীড়া শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান (বিকেএসপি) থেকে ওঠে আসা দেশসেরা ট্রায়াথলেট। সে সুবাদেই রানিং ও সাইক্লিংয়ের পাশাপাশি সাঁতার করতে হয়ে তাঁকে। দেশ-বিদেশের নানা প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়ে পদক ছিনিয়ে এনেছেন। সে সময়ই দেশের নদী সাঁতরানোর আগ্রহটা জন্ম নেয় তাঁর। তবে সুযোগটা আসছিল না।
মালয়েশিয়ায় পৌঁছে মারিয়া উপলব্ধি করেন, দেশের নদীতে সাঁতরানো প্রয়োজন। দেশে এত নদী থাকতেও কখনও সেগুলোয় সাঁতরাতে পারেননি তিনি। এ জন্য তাঁর মনটা বিষণ্নতায় ভরে ওঠে। দেশে পা রেখেই খোঁজ শুরু করেন–সাঁতার প্রতিযোগিতার আয়োজন কারা করছেন? সামাজিক মাধ্যমের কল্যাণে সেই সমাধান পেয়ে গেলেন মারিয়া। তিনি বলেন, ‘আমি আয়োজকদের সঙ্গে যোগাযোগ শুরু করলাম। তাদের জানালাম, মেয়েদের জন্য একটা ইভেন্ট রাখেন। আমরাও চেষ্টা করি। যদিও নারী হওয়ায় শুরুতে তারা খুব বেশি পাত্তা দিত না। পরে অবশ্য তাদের সহযোগিতায় ও নিজের আত্মবিশ্বাসে এসব প্রতিযোগিতায় অংশ নিয়েছি।’
নদী দূষণ রোধের বার্তা নিয়ে চলতি বছরের ফেব্রুয়ারি মাসে মেঘনায় আয়োজিত সাঁতার প্রতিযোগিতায় অংশ নেন মারিয়া। দেশের নদীতে এটাই ছিল তাঁর প্রথম সাঁতার। এই নদীর চাঁদপুর অংশে দুই কিলোমিটার সাঁতরান তিনি। পরে রায়পুরা অংশের মেঘনায় ফের দুই কিলোমিটার সাঁতার কাটেন। দুটি প্রতিযোগিতাতেই চ্যাম্পিয়ন হন মারিয়া। প্রমত্তা পদ্মায় সাত কিলোমিটার সাঁতরেছেন গত ১২ সেপ্টেম্বর, যেখানে দুই ঘণ্টার কিছু বেশি সময় নিয়ে ফিনিশিং লাইন টাচ করেন এই ‘আইরন লেডি’।
দেশের নদীতে সাঁতরানোর অভিজ্ঞতা নিয়ে মারিয়া বলেন, ‘বিদেশে যখন সাঁতার কাটি, তখন একটা উৎসবের আমেজ থাকে। দেশে ঠিক তার বিপরীত চিত্র! মেয়ে হয়ে নদীতে সাঁতার কাটছি। অনেকেই অবাক দৃষ্টিতে চেয়ে থাকতেন। তবে এটি ভেবে আশ্চর্য হই, নদী আর মানুষের মধ্যে অদৃশ্য এক সম্পর্ক আছে। এসব বিরল অভিজ্ঞতা খুব কাছ থেকে অর্জন করে আমি আনন্দিত। প্রান্তিক অঞ্চল থেকে বেড়ে ওঠা মেয়ে হয়েও সব প্রতিকূলতাকে জয় করেছি। আমি চাই, আমাকে দেখে অন্যরাও নিজেকে প্রস্তুত করুক, সাফল্য পাক।’
