ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

নদীতে রোমাঞ্চের খোঁজে

‘নদীই শিকড়ে টেনেছে আমাকে’

‘নদীই শিকড়ে টেনেছে আমাকে’
×

পদ্মায় নিশাত মজুমদারের সঙ্গে কায়াকে মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম

মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম

প্রকাশ: ১৮ অক্টোবর ২০২৫ | ০৭:২৮ | আপডেট: ১৯ অক্টোবর ২০২৫ | ২০:২৩

| প্রিন্ট সংস্করণ

বছরের নির্দিষ্ট সময়ে বঙ্গোপসাগরের বুকে আয়োজিত হচ্ছে ‘বাংলা চ্যানেল প্রতিযোগিতা’। এখানে অংশ নেওয়া অনেকেই আন্তর্জাতিক মঞ্চে বিদেশের মাটিতে নানা আয়োজনের অংশ হয়েছেন। ইংলিশ চ্যানেলেও পৌঁছে গেছে লাল-সবুজের পতাকার গল্প। তবে সবকিছুকে ছাপিয়ে গেছে দেশের কয়েকজন দুঃসাহসিক অভিযাত্রীর সাঁতারের রোমাঞ্চকর স্মৃতি। নদীমাতৃক দেশের পানিপথে সাঁতরে নিজেদের অভিজ্ঞতার ঝুলিতে ভরেছেন নানা জনপদের বেঁচে থাকার লড়াই, চ্যালেঞ্জের আড়ালে সৌন্দর্য আর নদী বাঁচানোর স্বপ্ন। এমন সব স্মৃতিকথা নিয়ে আয়োজন সাজিয়েছেন আশরাফুল ইসলাম আকাশ–
-------------------------------------------------------------------------------------

মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম। তথ্যপ্রযুক্তি পেশাজীবী হলেও আপাদমস্তক রোমাঞ্চপ্রিয় মানুষ। সাঁতার কেটেছেন বাংলা চ্যানেলে। অংশ নিয়েছেন ওশানম্যান দুবাই প্রতিযোগিতায়। অভিযাত্রী হিসেবে অ্যান্টার্কটিকার হিমশীতল পানিতে সাঁতরানোর অভিজ্ঞতা রয়েছে। দেশে দেশে ভ্রমণের সুবাদে ছোট ও সরু নদ-নদী কিংবা জলাশয় দেখার সুযোগ হয়েছে তাঁর। পরম যত্নে শতাব্দীর পর শতাব্দী সেসব নদ-নদী বাঁচিয়ে রেখেছেন বিদেশিরা। সেই ভাবনা থেকে দেশের নদী ও সাগরের লাবণ্যমাখা সৌন্দর্য দেখার ইচ্ছা জেগে ওঠে দুঃসাহসিক এই অভিযাত্রীর।

চলতি বছরের ২০ ফেব্রুয়ারি উত্তরের জেলা কুড়িগ্রামে পৌঁছান রফিকুল। এই জেলার ঝুনকার চরের পাশ দিয়ে বাংলাদেশে ঢুকেছে ব্রহ্মপুত্র। সেখান থেকে সাঁতরে যমুনা, পদ্মা, মেঘনা হয়ে বঙ্গোপসাগরে পৌঁছান তিনি। দীর্ঘ এই নদীপথ পাড়ি দিতে ২৫ দিন সময় নিয়েছেন তিনি। অতিক্রম করতে হয়েছে সাড়ে ৫০০ কিলোমিটার নদীপথ। মুহম্মদ রফিকুল ইসলাম জানালেন, শুরুতে পরিকল্পনা ছিল কায়াক চালিয়ে বঙ্গোপসাগরে যাবেন। পানি দেখে সিদ্ধান্তটা বদলে ফেলেন। কায়াকটা সঙ্গীর কাছে দিয়ে দীর্ঘ এই পথ সাঁতরে অতিক্রম করতে মনস্থির করেন। এ জন্য কুড়িগ্রাম থেকে সাঁতরানো শুরু করলেও চিলমারী এসে থেমে যান। পরে ঢাকা থেকে প্রয়োজনীয় সামগ্রী নিয়ে পুরোদমে অভিযান শুরু করেন।

মুহম্মদ রফিকুল ইসলামের এই অভিযানের নাম ছিল ‘দ্য গ্রেট ডেলটা সুইম’। তিনিই প্রথম বাংলাদেশি, যিনি দুঃসাহসিক এই অভিযানের চ্যালেঞ্জ নিয়েছিলেন। দীর্ঘ এই পথে কয়েকটি জেলা ও বেশ কয়েকটি নদীতে সাঁতার কেটেছেন। পরিচিত হয়েছেন নানা জনপদের সঙ্গে। মিশে গেছেন তাদের জীবনধারার স্রোতে।

তিনি বলেন, ‘সকাল ৮-৯টার মধ্যেই সাঁতার শুরু করতাম। প্রতিদিন ৬-৭ ঘণ্টা সাঁতার কাটতে হতো। বেলা ফুরিয়ে এলে কিংবা আবহাওয়া অনুকূলে না থাকলে কায়াকে উঠে যেতাম। এরপর জনপদ খুঁজে সেখানেই রাতযাপন করতাম।’

রোমাঞ্চকর এই অভিযান সম্পর্কে তিনি আরও বলেন, ‘এমনও জনপদ দেখেছি, মুহূর্তেই নদীতে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। তবু তাদের বিন্দুমাত্র দুশ্চিন্তা নেই। সব ভুলে আবারও নতুন করে শুরুর দিকে মনোযোগ দেয় তারা। অভিযানের সময় এমনও হয়েছে, নিজেদেরই মাথা গোজানোর ঠাঁই নেই। নিজেদের শান্তি ভুলে আমাদের রাতযাপনের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন। ভাতের সঙ্গে খাওয়ার মতো কোনো হাঁড়িতে কোনো তরকারি নেই। শুধু বাদাম দিয়ে নানা পদের ভর্তা বানিয়ে আমাদের আপ্যায়ন করেছেন তারা। এসব আমাদের শিকড়ে নিয়ে যায়। চিনি না, জানি না অথচ কী এক অদ্ভুত টান! জন্ম থেকে জন্মান্তরের ভালোবাসা। এসব সম্ভব হয়েছে শুধু নদীর কারণে। এই নদীকে বাঁচিয়ে রাখা খুবই জরুরি–জরুরি পরিবেশের জন্য, জীবনের জন্য।’

আরও পড়ুন

×