ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রাশিফল ২০২৬

বছরজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা

বছরজুড়ে যুদ্ধের আশঙ্কা
×

অলংকরণ :: ফাইয়াজ হোসেন

জ্যোতিষ সাগর ড. আব্দুল হাদী

প্রকাশ: ০৩ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৬ | আপডেট: ০৫ জানুয়ারি ২০২৬ | ১৭:০৭

| প্রিন্ট সংস্করণ

২০২৬ সাল পৃথিবীতে গত বছরের অস্থিরতা এবং যুদ্ধের দামামা নিয়ে শুরু হবে। নসট্রাডেমাস বলেছিলেন, ২০২৫ থেকে ২০৪০ সালের মধ্যে যে কোনো সময় পৃথিবী ধ্বংসের দোরগোড়ায় যাবে। কারও কারও মতে, ২০৩১ থেকে ৭ বছর অসহনীয় পর্যায়ে চলে যাবে পৃথিবী। কারণ শক্তিশালী হয়ে উঠবে নিউক্লিয়ার অস্ত্রে সমৃদ্ধ বিভিন্ন দেশ। ২০৩১ সালে আমেরিকা এবং তার মিত্র দেশগুলো প্রথম ধ্বংসের সম্মুখীন হবে। ২০২৬ থেকে আমরা ভূমিকম্প, জলোচ্ছ্বাস, আগ্নেয়গিরির অগ্ন্যুৎপাত, ভূমিধসসহ নানা রকম প্রাকৃতিক দুর্যোগ সারা পৃথিবীতে দেখা দেবে।

২০২৬ সালের ১৮ জুন থেকে রাহু, কেতু ও মঙ্গল রবি ও শনিকে প্রভাবিত করবে তথা ধ্বংসের ইঙ্গিত দেবে পৃথিবীকে। অক্টোবর থেকে ডিসেম্বর আরও মৃত্যুর মিছিল দেখবে পৃথিবী। শুরু হয়ে গেছে তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধ। তার জন্য দায়ী হবে পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় দেশগুলো। সবচেয়ে ভয়ংকর ব্যাপার হচ্ছে–যুদ্ধ হবে আকাশ থেকে। নসট্রাডেমাস ৬০০ বছর আগেই এর উল্লেখ করে গেছেন। তিনি বলেছেন, আকাশপথে যুদ্ধ হবে– নবশতাব্দী কাঁদবে। সেই নবশতাব্দী শুরু হয়ে গেছে আর আমরা আকাশপথে যুদ্ধের অপেক্ষা করছি; যা সারাবিশ্বের জন্য ভয়ংকর হবে। পাশ্চাত্য দেশ আমেরিকা, ব্রিটেন, ফ্রান্স এক জোটে যুদ্ধ করবে। চীন, রাশিয়া, উত্তর কোরিয়াসহ আরও কিছু মুসলিমপ্রধান দেশ পৃথিবীর পূর্বাংশে নেতৃত্ব দেবে। এ ছাড়া পাকিস্তান-ভারত ও অন্যান্য এশিয়া মহাদেশের দেশগুলো একত্রে থাকবে যুদ্ধের কারণে। ফলে ইরাক, ইরান ও মুসলিম বিশ্ব শক্তিশালী হয়ে উঠবে।

২০৪০ পর্যন্ত অস্ট্রেলিয়া, বাংলাদেশসহ আরও কিছু দেশ যুদ্ধে জড়াবে না। মিয়ানমার, থাইল্যান্ডসহ কিছু কিছু দেশ বড় দেশগুলোর সঙ্গে একত্র হয়ে ড্রোন তৈরি করবে, যা ২০২৮ সালের মধ্যে যুদ্ধের জন্য প্রস্তুত হবে। বিশ্বের জন্য যা ভয়ংকর ক্ষতির কারণ হবে। পৃথিবীতে আর্থিক ঝুঁকি বাড়বে। ক্রমাগত যুদ্ধের কারণে পশ্চিমা দেশগুলো খাদ্য সংকটে পড়বে। পৃথিবীতে খাদ্য উৎপাদনে ঘাটতি হবে। ফলে খাদ্য উৎপাদনকারী দেশগুলো নিজেদের চাহিদাই পূরণ করতে পারবে না। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সময় আমেরিকার প্রেসিডেন্ট ছিলেন হ্যারি এস ট্রুম্যান; যিনি যুদ্ধের কারণে তৃতীয়বার প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। আমেরিকার সংবিধান অনুযায়ী কেউ দুবারের বেশি প্রেসিডেন্টের পদে থাকতে পারেন না। কিন্তু যুদ্ধের কারণে নির্বাচন না হওয়ায় ট্রুম্যান তৃতীয়বারের মতো প্রেসিডেন্টের দায়িত্ব পালন করেন। তিনি যুদ্ধের সময় জাপানের নাগাসাকি ও হিরোশিমায় পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ করান; যার কারণে লাখ লাখ লোক জাপানের দুই শহরে মারা যান। কয়েক মিনিটের মধ্যে মৃত্যুপুরীতে পরিণত হয় নাগাসাকি ও হিরোশিমা শহর। আজও সেখানে কোনো শিশুর জন্ম হলে বিকলাঙ্গ হয়ে জন্ম নেয়। সেই সময়ে যে পারমাণবিক বোমা নিক্ষেপ হয়েছিল আজ সেই বোমা থেকেও অনেকগুণ বেশি ভয়ংকর বোমা তৈরি হয়েছে পৃথিবীতে। যদি সেসব বোমা তৃতীয় বিশ্বযুদ্ধে ব্যবহার হয় তাহলে পৃথিবী ধ্বংস হতে একদিনও সময় লাগবে না। যারা বেঁচে থাকবে তারাও পঙ্গু বা বিকলাঙ্গ হয়েই বেঁচে থাকবে। নট্রাডেমাসের ভবিষ্যদ্বাণীতে উল্লেখ আছে, যুদ্ধ হবে আকাশপথে এবং পৃথিবীর তিন-চতুর্থাংশ মানুষ ধ্বংস হয়ে যাবে। যারা বেঁচে থাকবে তাদের পক্ষেও পৃথিবীতে বসবাস করা কঠিন হয়ে যাবে।

কাউকে দায়ী করে এ যুদ্ধ থামানো যাবে না। নট্রাডেমাস বলেছেন, এ যুদ্ধ থামাতে হলে পৃথিবীর নেতৃস্থানীয় দেশগুলোকে একযোগে কাজ করতে হবে অন্যথায় সবার জন্যই ধ্বংস নেমে আসবে। কেউ এর থেকে রেহাই পাবে না। এখনই সময় পৃথিবীকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করার।

সারাবিশ্ব ২০২৬ থেকেই আর্থিক ঝুঁকিতে পড়বে। নিজেদের অর্থ দিয়ে খাদ্য ও অন্যান্য সামগ্রী কেনা সম্ভব হয়ে উঠবে না অনেক দেশের জন্যই। তাই এখন থেকেই সহযোগী মনোভাব বজায় রেখে একত্রে কাজ করে যেতে হবে–না হয় পৃথিবীকে বাঁচানো সম্ভব হবে না। উত্তর মেরুর বরফ গলতে শুরু করবে; যা সমুদ্রের উচ্চতা বাড়িয়ে দেবে। এর কারণে পৃথিবীর অনেক দেশ জলমগ্ন হয়ে পড়বে। ভারতের কিছু অংশ এবং বাইরে বাংলাদেশেও জলমগ্ন হয়ে পড়ার আশঙ্কা রয়েছে ২০৪১ সালের মধ্যে।

নতুন নতুন অনেক প্রযুক্তি আসবে পৃথিবীতে; যার কারণে খাদ্য ও শস্য উৎপাদনে সহায়তা বাড়লেও ভুল সিদ্ধান্তের জন্য অনেক দেশই খাদ্য ঘাটতিতে পড়বে। নানা রকম খনিজ দ্রব্য আহরণ সম্ভব হবে ব্রিটেন ও আমেরিকায়। যার কারণে অর্থনীতিতে কিছুটা চাঙ্গা ভাব দেখা দেবে। চীন ও রাশিয়া অন্য দেশের তুলনায় অনেক এগিয়ে থাকবে। কিন্তু ২০২৮ সালের মধ্যে ঘটতে 
পারে বড় বিপর্যয় এ দুই দেশের যুদ্ধের কারণে। সৌদি আরব, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও এশিয়ার বিভিন্ন দেশ আর্থিক জটিলতায় পড়বে যুদ্ধের কারণে।

আরও পড়ুন

×