ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

কেঁচো সারে স্বাবলম্বী

কেঁচো সারে স্বাবলম্বী
×

কম্পোস্ট সারের কারখানায় রিদয় হোসেন ও তাঁর স্ত্রী

জালাল উদ্দিন

প্রকাশ: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ০৭:১৮ | আপডেট: ১৭ জানুয়ারি ২০২৬ | ২০:৩১

| প্রিন্ট সংস্করণ

অভাব ছিল নিত্যদিনের সঙ্গী। অর্থের অভাবে এইচএসসি পাসের পর আর এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়নি পড়াশোনা। বেকারত্বের অভিশাপ আর সংসারের টানাপোড়েনে যখন দিশেহারা অবস্থা, ঠিক তখনই এক চিলতে আলোর দেখা পান পাবনার সাঁথিয়া উপজেলার নন্দনপুর ইউনিয়নের হাটবাড়িয়া গ্রামের রিদয় হোসেন। কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ‘ভার্মি কম্পোস্ট’ বা কেঁচো সার উৎপাদন শুরু করে সেই রিদয় আজ একজন সফল উদ্যোক্তা।

২০২২ সাল পর্যন্ত রিদয় হোসেন ছিলেন আর দশজন সাধারণ বেকার যুবকের মতোই। সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কার্যালয়ের মাধ্যমে তিনি জানতে পারেন, সহজলভ্য গোবর ও কেঁচো ব্যবহার করে পরিবেশবান্ধব জৈব সার তৈরি করা সম্ভব এবং এটি বেশ লাভজনক। পরামর্শ পেয়ে আর বসে থাকেননি রিদয়। কৃষি অফিসের সহযোগিতায় প্রথমে একটি টিনের ঘর দিয়ে শুরু করেন কার্যক্রম। পুঁজি ছিল মাত্র ২০ হাজার টাকা। ১০টি রিং (চাড়ি) এবং দুই কেজি কেঁচো। কিন্তু মনের জোর আর কঠোর পরিশ্রমকে পুঁজি করে তিনি এগিয়ে গেছেন।

সেই ছোট্ট উদ্যোগটি এখন ‘শহীদ এগ্রো ভার্মি কম্পোস্ট’ নামে পরিচিতি লাভ করেছে। বর্তমানে রিদয়ের খামারে তিনটি শেড বা ঘরে পুরোদমে চলছে সার উৎপাদন। শুধু সারই নয়, তিনি এখন কেঁচোও উৎপাদন করছেন বাণিজ্যিকভাবে। 

খামারের বর্তমান চিত্র বেশ আশাব্যঞ্জক। প্রতি মাসে এখানে উৎপাদিত হচ্ছে এক হাজার ৫০০ থেকে দুই হাজার কেজি জৈব সার এবং প্রায় ১৫ কেজি কেঁচো। সব মিলিয়ে মাসে বিক্রি হয় প্রায় ৬০ হাজার থেকে ৭০ হাজার টাকার পণ্য। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে রিদয়ের মাসিক আয় এখন ৪৫ থেকে ৫০ হাজার টাকা। মাত্র ২০ হাজার টাকা দিয়ে শুরু করা ব্যবসায় বর্তমানে তাঁর পুঁজি দাঁড়িয়েছে প্রায় ১০ লাখ টাকায়।

সাফল্যের এই যাত্রায় রিদয়ের পাশে ঢাল হয়ে দাঁড়িয়েছেন তাঁর স্ত্রী নেভা পারভিন। সংসারের কাজের পাশাপাশি তিনিও স্বামীকে সার উৎপাদনে সহযোগিতা করেন। নেভা পারভিন বলেন, ‘একসময় সংসার চালাতে আমাদের হিমশিম খেতে হতো। এখন সচ্ছলতা ফিরেছে, আমরা ভালো আছি।’

রিদয়ের বাবা শহীদ প্রামাণিকও ছেলের কাজে গর্বিত। তিনি জানান, ছেলের এখন লক্ষ্য– লাভের টাকা জমিয়ে নিজস্ব গরুর খামার করা, যাতে বাইরে থেকে গোবর কিনতে না হয়। সরকারি সহায়তা পেলে খুব দ্রুতই খামারটি বড় করার স্বপ্ন দেখেন তিনি।

উদ্যোক্তা রিদয় হোসেন কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করে বলেন, ‘বেকার জীবনে কৃষি অফিসই আমাকে পথ দেখিয়েছিল। স্যাররা ঘর করে দেওয়া থেকে শুরু করে সার বিক্রির ব্যবস্থা–সবকিছুতেই সহযোগিতা করেছেন।’

সাঁথিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মাহমুদুল হাসান বলেন, ‘রাসায়নিক সারের তাৎক্ষণিক সুফল মিললেও দীর্ঘমেয়াদে তা মাটির ক্ষতি করে। অন্যদিকে, জৈব সার মাটির প্রাণ ও স্বাস্থ্য রক্ষা করে। কৃষকরা এখন জৈব সারের গুরুত্ব বুঝতে পারছেন। আমরা শুরু থেকেই রিদয়ের পাশে ছিলাম এবং তাঁর ব্যবসার পরিধি বাড়াতে সার্বিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখব।’

আরও পড়ুন

×