ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

শাকিলের এভারেস্ট জয়ের ছবি জিতল ইউএনডিপির পুরস্কার

শাকিলের এভারেস্ট জয়ের ছবি জিতল ইউএনডিপির পুরস্কার
×

এভারেস্টে ইকরামুল হাসান শাকিল

শাহেরীন আরাফাত

প্রকাশ: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৪ | আপডেট: ০৯ ফেব্রুয়ারি ২০২৬ | ২২:০৬

একটি ছবি কেবল একটি মুহূর্তের সাক্ষী নয়, অনেক সময় তা হয়ে ওঠে অদম্য ইচ্ছাশক্তি আর পরিবর্তনের প্রতীক। ঠিক তেমনই একটি ছবি– যা ধারণ করেছিল পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়ায় বাংলাদেশের পতাকাবাহী এক তরুণের বিজয়োল্লাস– এবার জিতে নিল বিশ্বমঞ্চের স্বীকৃতি। বলছি ইউএনডিপি বাংলাদেশের ইয়ুথ অ্যাডভোকেট ইকরামুল হাসান শাকিলের কথা। তাঁর এভারেস্ট জয়ের সেই আইকনিক ছবিটি জাতিসংঘ উন্নয়ন কর্মসূচির (ইউএনডিপি) মর্যাদাপূর্ণ ‘ডিজিটাল কমিউনিকেশন অ্যাওয়ার্ড’-এ সাসটেইনেবল ডেভেলপমেন্ট গোলস (এসডিজি) বিভাগে প্রথম স্থান অর্জন করেছে।

বিশ্বের বিভিন্ন দেশের ইউএনডিপি অফিসের সঙ্গে কড়া প্রতিযোগিতা করে এই গৌরব অর্জন করেছে বাংলাদেশ। শুধু ছবিই নয়, ইউএনডিপি বাংলাদেশ ‘শর্ট ভিডিও’ বিভাগে প্রথম এবং ‘স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপ অ্যান্ড ডোনার এনগেজমেন্ট’ বিভাগে তৃতীয় স্থান অর্জন করে নিজেদের সাফল্যের পাল্লা ভারী করেছে।

একটি দুঃসাহসিক যাত্রা: ইনানী থেকে এভারেস্ট
শাকিলের এই অর্জনের পেছনে রয়েছে এক দীর্ঘ ও রোমাঞ্চকর পথচলার গল্প। অভিযানের শিরোনাম ছিল ‘সাগর থেকে শিখরে’। মূলত প্লাস্টিক দূষণ রোধ এবং টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা (এসডিজি) বাস্তবায়নে সচেতনতা সৃষ্টিই ছিল এই অভিযানের মূল লক্ষ্য।

২০২৫ সালের ২৫ ফেব্রুয়ারি কক্সবাজারের ইনানী সমুদ্রসৈকত থেকে শুরু হয় শাকিলের এই ঐতিহাসিক পদযাত্রা। পিঠে ভারী ব্যাগ আর বুকে অদম্য সাহস নিয়ে তিনি হেঁটে অতিক্রম করেন চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, ঢাকা, সিরাজগঞ্জ ও পঞ্চগড়। পরিবেশ রক্ষার বার্তা দিতে তিনি ছিলেন আপসহীন; জ্বালানি ব্যবহারের বিরুদ্ধে সচেতনতা গড়তে তিন কিলোমিটার প্রমত্তা যমুনা নদী তিনি পাড়ি দেন সাঁতরে।

বাংলাদেশ সীমান্ত পেরিয়ে তিনি ভারতে প্রবেশ করেন এবং সেখান থেকে ৩১ মার্চ পৌঁছান হিমালয় কন্যা নেপালে। টানা ৬৪ দিন এবং ১,৩৭২ কিলোমিটার হাঁটার পর ২৯ এপ্রিল তিনি পৌঁছান এভারেস্ট বেসক্যাম্পে।

চূড়ান্ত বিজয় ও ইতিহাসের সাক্ষী
বেসক্যাম্পে পৌঁছানোর পর শুরু হয় চূড়ান্ত প্রস্তুতির পালা। ৬ মে রোটেশনে বের হয়ে ক্যাম্প-৩ পর্যন্ত গিয়ে শরীরকে উচ্চতার সঙ্গে মানিয়ে নেন এবং ১০ মে আবার বেসক্যাম্পে ফিরে আসেন। অবশেষে ১৬ মে শুরু হয় স্বপ্নের চূড়ায় ওঠার চূড়ান্ত অভিযান।

প্রকৃতির বৈরী আচরণ আর মৃত্যুর হাতছানি উপেক্ষা করে একে একে ক্যাম্প-২, ৩ এবং ৪ অতিক্রম করেন তিনি। অবশেষে ১৯ মে, নেপাল সময় ভোর সাড়ে ছয়টায় পৃথিবীর সর্বোচ্চ চূড়া মাউন্ট এভারেস্টে পা রাখেন ইকরামুল হাসান শাকিল। উঁচিয়ে ধরেন লাল-সবুজ পতাকা, আর সেই মাহেন্দ্রক্ষণেই লেন্সবন্দি হয় বিজয়ের সেই ছবি– যা আজ বিশ্বস্বীকৃত। 

পরিবর্তনের ডাক
এই অভিযান কেবল পর্বতজয়ের গল্প ছিল না, এটি ছিল একটি ‘কজ’ বা উদ্দেশ্যের জন্য যাত্রা। ইউএনডিপি বাংলাদেশের কমিউনিকেশন প্রধান মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম এই অর্জনে গর্ব প্রকাশ করে বলেন, ‘শাকিলের এই ঐতিহাসিক অভিযানের সাক্ষী হতে পেরে আমরা গর্বিত। এই কাজের মাধ্যমে শাকিল তিন দেশে যৌথভাবে প্লাস্টিক দূষণ রোধে কার্যকরী বার্তা পৌঁছে দিতে সক্ষম হয়েছে।’

সাগর থেকে শুরু করে পাহাড়ের চূড়া পর্যন্ত– শাকিলের এই যাত্রা প্রমাণ করে যে, তারুণ্যের শক্তি আর সঠিক উদ্দেশ্য থাকলে যেকোনো উচ্চতা জয় করা সম্ভব। ইউএনডিপির এই অ্যাওয়ার্ড সেই প্রচেষ্টারই এক আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি।

 

আরও পড়ুন

×