ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

নারী আইনজীবীকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারার ঘটনায় সেই বিচারককে প্রত্যাহার

নারী আইনজীবীকে পেপারওয়েট ছুড়ে মারার ঘটনায় সেই বিচারককে প্রত্যাহার
×

ছবি-সংগৃহীত

সমকাল প্রতিবেদক ও ​গোপালগঞ্জ প্রতিনিধি

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৮:৫৭ | আপডেট: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৯:৫০

গোপালগঞ্জে আদালতের এজলাসে ছোড়া কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবীর আহত হওয়ার ঘটনায় বিচারক মো. সুজন মিয়াকে বদলি করে আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার আইন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।

আইন ও বিচার বিভাগের বিচার শাখা-১ থেকে জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, সুপ্রিমকোর্টের সঙ্গে পরামর্শক্রমে মো. সুজন মিয়াকে বর্তমান কর্মস্থল হতে বদলি করে পুনরাদেশ না দেওয়া পর্যন্ত আইন মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত করা হয়েছে।

এর আগে বুধবার গোপালগঞ্জে আদালতের এজলাসে কাচের পেপারওয়েটের আঘাতে এক শিক্ষানবিশ নারী আইনজীবী আহত হন। জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত-২ এ ঘটনা ঘটে। আইনজীবীদের অভিযোগ, আদালতের বিচারক মো. সুজন মিয়া ওই পেপারওয়েট ছুড়ে মেরেছেন।

আহত সাবিহা সুলতানাকে গোপালগঞ্জ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। ওই ঘটনার পর জেলা আইনজীবী সমিতির নেতারা চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে মৌখিক অভিযোগ করেন। 

এদিকে, বৃহস্পতিবার সকালে বিচারক সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়ার দাবিতে গোপালগঞ্জের সাধারণ আইনজীবীরা বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করেন। 

সকাল পৌনে ১১টার দিকে চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত ভবনের নিচ থেকে মিছিলটি শুরু হয়। পরে জেলা প্রশাসকের কার্যালয়ের পাশ দিয়ে আইনজীবী সমিতির সামনের সড়ক প্রদক্ষিণ করে জেলা ও দায়রা জজ আদালত প্রাঙ্গণে গিয়ে সমাবেশের মাধ্যমে কর্মসূচি শেষ হয়। 

সমাবেশে আইনজীবী হাবিবুর রহমান বলেন, আদালতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত পরিস্থিতি সৃষ্টি হলে বিচারকের আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার সুযোগ ছিল। কিন্তু পেপার ওয়েট নিক্ষেপ করে কাউকে আহত করা বিচারিক ক্ষমতার আওতায় পড়ে না। এ ঘটনায় বিচারক নিজেই অপরাধ করেছেন দাবি করে তিনি তার অপসারণ ও বিচারের দাবি জানান।

অ্যাডভোকেট রোকেয়া আক্তার রুপা বলেন, বিচারক সুজন মিয়ার বিরুদ্ধে আইনজীবীদের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ নতুন নয়। একজন শিক্ষানবিশ আইনজীবী আহত হওয়ার ঘটনায় আইনজীবীদের নিরাপত্তা ও বিচারপ্রার্থীদের ন্যায়বিচার পাওয়ার পরিবেশ নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। আইনজীবী নাজনীন সুলতানা বলেন, এটি কোনো অনিচ্ছাকৃত ভুল নয়, বরং একটি শাস্তিযোগ্য অপরাধ।

গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির নিন্দা

গোপালগঞ্জে চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট আদালত- ২ এর কক্ষে বুধবার একজন বিচারক কর্তৃক শিক্ষানবিশ আইনজীবী সাবিহা সুলতানার উপর সহিংস আচরণের নিন্দা জানিয়েছে বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক আইনজীবী সমিতির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি এডভোকেট সুব্রত চৌধুরী এবং সাধারণ সম্পাদক হাসান তারিক চৌধুরী।  

বিবৃতিতে নেতৃবৃন্দ বার ও বেঞ্চের মর্যাদা রক্ষায় অবিলম্বে যথাযথ তদন্ত সাপেক্ষে উক্ত বিচারকের বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য সংশ্লিষ্ট কতৃপক্ষের নিকট জোর দাবী জানান।

আরও পড়ুন

×