ঢাকা বৃহস্পতিবার, ২৩ জুলাই ২০২৬

এবার মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফর, জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি

এবার মানবতাবিরোধী মামলায় গ্রেপ্তার মোজাফফর, জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি
×

মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ২৩ জুলাই ২০২৬ | ১৯:১৬

শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেনকে ফেনীতে মানবতাবিরোধী অপরাধের এক মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর নির্দেশ দিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। একইসঙ্গে তাকে দুইদিন জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতিও দেওয়া হয়। 

তদন্ত সংস্থার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-২ আজ বৃহস্পতিবার এই আদেশ দেন। পাশাপাশি তাকে সেনা হেফাজতে রাখার নির্দেশ দেন। মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের জন্য আগামী ২৩ সেপ্টেম্বর দিন ঠিক করেন। 

এর আগে, এদিন সকালে মোজাফফর হোসেনকে প্রিজনভ্যানে করে ঢাকা সেনানিবাস থেকে ট্রাইব্যুনালে আনা হয়। দুপুর পৌনে ১টার দিকে তাকে হাজতখানা থেকে ট্রাইব্যুনালের এজলাসে হাজির করা হয়। এর আগে, মঙ্গলবার মোজাফফর হোসেনকে হাজির করার নির্দেশ দেন ট্রাইব্যুনাল-২। তারই ধারাবাহিকতায় এদিন তাকে হাজির করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর যা বললেন

পরে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, সাবেক সেনা কর্মকর্তা মোজাফফরকে দুই দিনের জন্য জিজ্ঞাসাবাদের অনুমতি দিয়েছেন ট্রাইব্যুনাল। সুবিধাজনক সময়ে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবেন। তিনি যেখানে আছেন, সেখানেই থাকবেন। অর্থাৎ, সেনা হেফাজতেই থাকবেন। সেখান থেকে এনে তাকে জিজ্ঝাসাবাদ করা হবে। এরপর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ পেলে পরবর্তী কার্যক্রম গ্রহণ করা হবে। 

সাবেক সেনা কর্মকর্তা মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী মানবতাবিরোধী অপরাধের যে মামলায় কারাগারে আছেন, ওই মামলায় মোজাফফরকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে। তিনি বলেন, জুলাইয়ের আন্দোলন চলাকালে মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটিত হওয়ার সময় মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এবং মোজাফফরের মধ্যে অনেকবার কথোপকথন হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা তথ্য পেয়েছি, মোজাফফর ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে বহুবার পার্শ্ববর্তী দেশে যাতায়াত করেছেন। বাংলাদেশে আত্মগোপনে থেকে মানবতাবিরোধী অপরাধে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীসহ সরকারের সাথে তার সংশ্লিষ্টতা ছিল। জুলাই আন্দোলনে মানবতাবিরোধী যেসব অপরাধ হয়েছে, সেখানে অনেক পরিকল্পনা বাস্তবায়নের সাথে তিনি জড়িত ছিলেন। 

তিনি আরও বলেন, জিজ্ঞাসাবাদের পর সুনির্দিষ্ট অভিযোগ প্রমাণিত হলে তাকে বিচারের মুখোমুখি করা হবে।

সাবেক রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান হত্যা মামলার অন্যতম আসামি মেজর (অব.) মোজাফফর হোসেন। গত ৪৫ বছর ধরে পলাতক ছিলেন তিনি। গত ১৫ জুলাই রাতে ঢাকার বনানীর একটি বাসা থেকে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। পরদিন তাকে ঢাকা সেনানিবাসের মিলিটারি পুলিশের কাছে হস্তান্তর করা হয়।

জুলাই গণহত্যার দ্রুত বিচারের দাবিতে মানববন্ধন

এদিকে, জুলাই গণহত্যার সুষ্ঠু তদন্ত ও দ্রুত বিচারের দাবিতে ১১–দলীয় ঐক্যের উদ্যোগে আজ বৃহস্পতিবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইনালের সামনে মানববন্ধনের আয়োজন করা হয়। এতে অংশ নেন জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ, এনসিপি, এবি পার্টিসহ ১১–দলীয় ঐক্যের নেতাকর্মীরা। মানববন্ধনে বিভিন্ন শহীদ পরিবারের সদস্যরাও অংশ নেন।

মানববন্ধনে জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, সরকার ফ্যাসিবাদকে পুনরায় প্রতিষ্ঠা করতে চায়। আমরা তার নমুনা দেখতে পাচ্ছি। যাদের নিয়ে প্রশাসন চালাচ্ছেন, সরকার চালাচ্ছেন, তাদের মধ্যে জায়গায় জায়গায় ফ্যাসিবাদের দোসরেরা বসে আছে।’ তিনি আরও বলেন, ফ্যাসিবাদের দোসরদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচার নিশ্চিত না করলে জনগণ আবারও ঐক্যবদ্ধ হয়ে যথাযথ ব্যবস্থা নেবে। 

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের উদ্দেশে করে পারভীন আক্তার বলেন, ‘আমরা দেখতাছি আমগো সন্তানের কোনো বিচারই অইতাছে না। আমরা জানতে চাই, আমগো ছেলেরা জীবন দিয়ে কী অপরাধ করছে?’ তিনি আরও বলেন, ‘কিছু শহীদ পরিবারকে সরকার অগ্রাধিকার দিচ্ছে, বাকিদের উপেক্ষা করছে।’ তিনি নিজের ছেলে শহীদ মেহেদী হাসান ও সব জুলাই শহীদের বিচার দ্রুত নিশ্চিতের দাবি করেন।

শহীদ মুনতাসির রহমানের বাবা গাজীউর রহমান বলেন, জুলাই শহীদরা দেশের সম্পদ ছিল। তিনি বলেন, ‘তারা কোনো মন্ত্রিত্ব চায়নি। তারা কোনো উপদেষ্টা হতে চায়নি। তাদের রক্তের বিনিময়ে অনেকে মন্ত্রী-উপদেষ্টা হয়েছেন। অথচ সন্তান হত্যার বিচারের জন্য এখন আমাদের রাস্তায় রাস্তায় ঘুরতে হচ্ছে।

এনসিপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক আরিফুল ইসলাম আদীব বলেন, গণ–অভ্যুত্থানের দুই বছর পার হলেও হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কারও বিচার হয়নি। 

জামায়াতের ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের নায়েবে আমির মো. হেলাল উদ্দিনের সঞ্চালনায় মানববন্ধনে বক্তব্য দেন এবি পার্টির সাধারণ সম্পাদক আসাদুজ্জামান ফুয়াদ, লেবার পার্টির নেতা জাফরুল্লাহ চৌধুরী, জাগপার সাধারণ সম্পাদক ইকবাল হোসেন প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে সাত দফা দাবিসংবলিত একটি স্মারকলিপি চিফ প্রসিকিউটরের কাছে জমা দেন ১১–দলীয় ঐক্যের নেতারা। এ সময় জুলাই শহীদ পরিবারের সদস্যরাও উপস্থিত ছিলেন। 

এ সময় জামায়াত নেতা হামিদুর রহমান আযাদ সাংবাদিকদের বলেন, বিভিন্ন বিষয়ে মতভেদ থাকলেও জুলাই গণহত্যার বিচারে আমাদের সব রাজনৈতিক দলেরই দাবি একরকম। এ জায়গায় আমাদের প্রত্যাশা সবচেয়ে বেশি। কিন্তু বিচারে অগ্রগতি তেমন দেখছি না। শহীদ পরিবারের সদস্যরাও বিচারের অপেক্ষায় রয়েছেন।

আরও পড়ুন

×