ঢাকা বৃহস্পতিবার, ১৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬

রাশেদ খাঁনকে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর

রাশেদ খাঁনকে নির্যাতনের অভিযোগের তদন্ত চলছে: চিফ প্রসিকিউটর
×

চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। ফাইল ছবি

সমকাল প্রতিবেদক

প্রকাশ: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৩৮ | আপডেট: ১৬ সেপ্টেম্বর ২০২৬ | ১৮:৫৪

২০১৮ সালে কোটা সংস্কার আন্দোলনের সময় গ্রেপ্তা‌রের পর নির্যাতন নিয়ে মো. রাশেদ খাঁনের আনা অভিযোগের তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম।

বুধবার আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক সহকারী মো. রাশেদ খাঁন। 

সাক্ষাৎ শেষে সাংবাদিকদের রাশেদ খাঁন বলেন, ২০১৮ সালের ১ জুলাই ভাসানটেক থেকে তাকে গ্রেপ্তা‌র করে মিন্টো রোডের ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়। পরে তাকে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে নেওয়া হয়। সেখানে তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদ তাকে হাত-পা ও চোখ বেঁধে এবং মুখে গামছা দিয়ে প্রায় ৩০ মিনিট নির্যাতন করেন।

রাশেদ খাঁন বলেন, ২০২৫ সালের ৭ মে তিনি আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এ বিষয়ে অভিযোগ দাখিল করেছিলেন। সেই অভিযোগের তদন্ত কোন পর্যায়ে রয়েছে, তা জানতেই চিফ প্রসিকিউটরের সঙ্গে তার আজকের এই সাক্ষাৎ।

২০১৮ সালের আন্দোলনের সময় তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে কটূক্তির মামলায় গ্রেপ্তা‌র দেখানোর প্রসঙ্গে মো. রাশেদ খাঁন বলেন, আমি আশা করছি যে, আমাকে ১৫ দিন রিমান্ডে রেখে যে অমানুষিক নির্যাতন করা হয়েছিল এবং পরবর্তীতে জেলে কষ্ট দেওয়া হয়েছে— শেখ হাসিনার নির্দেশনা ছাড়া এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ এই কাজ করতে পারেন না। তার সঙ্গে যুবদল নেতা মোস্তাফিজসহ আরও অনেককে একইভাবে নির্যাতন করেছিলেন ইশতিয়াক আহমেদ।

এ বিষয়ে চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম সাংবাদিকদের বলেন, ২০১৮ সালের কোটা সংস্কার আন্দোলনে নেতৃত্বে থাকা ব্যক্তিদের অনেককে তুলে নিয়ে বিভিন্নভাবে অত্যাচার-নির্যাতনের অভিযোগ তাদের কাছে রয়েছে।

রাশেদ খাঁন আরও বলেন, এই এডিসি ইশতিয়াক আহমেদের মাধ্যমে ডিএমপির সাইবার ক্রাইম ইউনিটে আমি নির্যাতনের শিকার হয়েছিলাম। সেই সময় আমার হাত বেঁধে, চোখ বেঁধে, এমনকি মুখ গামছা দিয়ে বেঁধে আমাকে প্রায় ৩০ মিনিট সাইবার ক্রাইম ইউনিটের মধ্যে নির্যাতন করা হয়।

চিফ প্রসিকিউটর বলেন, মো. রাশেদ খাঁনের অভিযোগের তদন্ত চলছে। তার বক্তব্য নেওয়া হয়েছে এবং এর সঙ্গে আরও কারা জড়িত, কী উদ্দেশ্যে তাকে নির্যাতন করা হয়েছিল, সেসব যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।

রাশেদ খাঁনের অভিযোগটি ট্রাইব্যুনালের এখতিয়ারভুক্ত অপরাধ বলে মনে হচ্ছে উল্লেখ করে চিফ প্রসিকিউটর বলেন, অভিযোগ প্রাথমিকভাবে প্রমাণিত হলে ন্যায়বিচার নিশ্চিত করা হবে।

তৎকালীন অতিরিক্ত উপ-কমিশনার (এডিসি) ইশতিয়াক আহমেদের বিরুদ্ধে মাওলানা আলামিন নামে এক ব্যক্তিকে তুলে নিয়ে হত্যা ও গুমের আরেকটি অভিযোগের কথা জানান চিফ প্রসিকিউটর। এ বিষয়ে তিনি বলেন, মাওলানা আলামিনকে অপহরণের পর দীর্ঘদিন তাকে হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে তাকে হত্যা করে গুম করা হয় বলে অভিযোগ রয়েছে। ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থার প্রতিবেদনের ভিত্তিতে ওই ঘটনায় ইশতিয়াক আহমেদসহ পাচজনের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

পাঁচ পুলিশের বিরুদ্ধে অভিযোগ দাখিল
তিন বছর আগে গাজীপুরের মাদ্রাসা অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন আল-আমিনকে হত্যা ও মরদেহ গুমের অভিযোগে কাউন্টার টেরোরিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম (সিটিটিসি)-এর সাবেক প্রধান আসাদুজ্জামানসহ পাঁচ পুলিশ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে ট্রাইব্যুনালে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করেছে প্রসিকিউশন।

বুধবার চিফ প্রসিকিউটর মো. আমিনুল ইসলাম জানান, ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার কার্যালয়ে এ অভিযোগ দাখিল করা হয়েছে।

অপর পুলিশ কর্মকর্তারা হলেন এডিসি ইশতিয়াক আহমেদ, পুলিশ পরিদর্শক মো. আসাদুজ্জামান মিয়া, পুলিশ পরিদর্শক মো. মেজবাহ উদ্দিন আহাম্মেদ এবং এসআই তৌহিদুল ইসলাম সুমন।

অভিযোগে বলা হয়েছে, আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করায় ২০২৩ সালের ৩০ জানুয়ারি গাজীপুরের মাদ্রাসা ইবনে মাসউদের অধ্যক্ষ মাওলানা আবুল হোসেন আল-আমিনকে সিটিটিসির সদস্যরা তুলে নিয়ে যান। এরপর তাকে মিন্টো রোডের সিটিটিসি কার্যালয়ে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত অবৈধভাবে আটকে রাখা হয়। টানা ১৮ দিন আটকে রেখে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হলে ভুক্তভোগী অসুস্থ হয়ে পড়েন। ১৮ ফেব্রুয়ারি তাকে রাজারবাগ কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হলে সেখানে তার মৃত্যু হয়। হত্যার দায় এড়াতে অভিযুক্তরা ভুক্তভোগীর মরদেহ ধলেশ্বরী নদীতে ফেলে গুম করেন বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।

আরও পড়ুন

×