ঢাকা শনিবার, ৩১ অক্টোবর ২০২৬

পোষা প্রাণীর যত্ন

পোষা প্রাণীর  যত্ন
×
×

কে এন দেয়া

প্রকাশ: ১১ জুলাই ২০২৩ | ১৮:০০

বর্ষায় পোষা প্রাণীর নানা ধরনের রোগবালাই লেগে থাকে। এ সময় এদের প্রয়োজন হয় বাড়তি যত্নের। বৃষ্টির দিনে পোষ্যের যত্ন নিয়ে লিখেছেন কে এন দেয়া

সকাল থেকেই আকাশ ভেঙে নেমেছে বৃষ্টি। ল্যাপটপে কাজ করতে করতে আনমনে চায়ের পেয়ালাটা হাতে নিয়েছিলেন টুম্পা, অমনি বিছানার নিচে থেকে হাঁচির শব্দ। একবার নয়, একনাগাড়ে তিন-চারবার। এর পর তাঁর আদরের বিড়ালছানাটি বের হয়ে এলো সেখান থেকে, এসেই সোজা টুম্পার কোলে। ছানাটির গায়ে হাত দিতেই টুম্পা বুঝলেন হালকা জ্বরের আভাস দেখা দিচ্ছে। এখন উপায় একটিই, পশু চিকিৎসকের কাছে নিয়ে যাওয়া।

শুধু টুম্পা নন, বৃষ্টির দিনে পোষা প্রাণী নিয়ে এ ধরনের সমস্যায় পড়ছেন অনেক প্রাণীপ্রেমী। অনেকেই জানান, বর্ষাকালে বিড়ালের ঠান্ডা লেগে যায় সহজেই। জ্বর, হাঁচি, কাশি, নাক দিয়ে পানি পড়া– এমন কিছু উপসর্গ দেখা দেয়। উপায় না পেয়ে তারা ছোটেন পশু চিকিৎসকের কাছে।

রাজধানীর মোহাম্মদপুরের বেসরকারি পশু ক্লিনিক ‘মি. ভেট’-এর প্রধান চিকিৎসক মো. রবিউল হাসান জানান, বর্ষাকালে স্বাভাবিকভাবেই পরিবেশ স্যাঁতসেঁতে ও ঠান্ডা থাকে। এজন্য বিড়াল পালনের ক্ষেত্রে শুকনো ও একটু গরম পরিবেশ তৈরি করে দেওয়া খুব জরুরি।

ডা. মো. রবিউল হাসান জানান, শুধু ঠান্ডা লাগা নয়, বর্ষাকালে বিড়ালের ত্বকের সমস্যা, বুকের ভেতর ঘড়ঘড় আওয়াজ হওয়া, পেটের পীড়াসহ কৃমিজনিত সমস্যাও বেশি দেখা যায়।

বিশেষজ্ঞ এ চিকিৎসকের মতে, বিড়ালের ঠান্ডা লেগেছে– এমনটা মনে হলে প্রাথমিকভাবে কুসুম গরম পানি খাওয়াতে পারেন। বিড়াল যেসব ঘরে আনাগোনা করে, সেখানে যেন পর্যাপ্ত আলো-বাতাস থাকে এবং সে যেখানে বসতে বা ঘুমাতে পছন্দ করে, সেসব জায়গা শুকনা ও গরম রাখতে পারলে ভালো হয়।

যদি মনে হয় ঠান্ডার সমস্যা বেড়েই চলেছে এবং এতে বিড়ালটি দুর্বল হয়ে পড়ছে, তাহলে অবশ্যই চিকিৎসকের কাছে নিতে হবে। কারণ, এ মৌসুমে বিড়ালের ফ্লু জাতীয় কিছু সংক্রমণ দেখা যায়, যা সময়মতো চিকিৎসা করা না হলে প্রাণঘাতী হতে পারে।

মো. রবিউল হাসান জানান, ঠান্ডা ছাড়াও আরেকটি সমস্যার কথা অনেকেই বলেন তা হলো, পোষা বিড়ালের শরীরে ফাঙ্গাস দেখা দেওয়া। বর্ষাকালে ফাঙ্গাস সমস্যা বেশি হলে শরীরে লাল ফুসকুড়ি, অতিরিক্ত চুলকানো, সেই সঙ্গে ক্ষত দেখা যাবে। এ ক্ষেত্রে ফাঙ্গাসরোধক শ্যাম্পু দিয়ে ভালোভাবে গোসল করাতে হবে। খুব বেশি বৃষ্টি হচ্ছে এমন দিনে বিড়ালকে গোসল না করানোই ভালো। রোদ আছে এমন দিনে সকাল সকাল গোসল করিয়ে দিতে পারেন। খেয়াল রাখবেন যেন কোনোভাবেই ওর কানে পানি না যায়।

মো. রবিউল বলেন, বিড়ালের ঠান্ডাজনিত সমস্যা বেশি হলে যেমন– জ্বর, নাক দিয়ে অনবরত পানি পড়া, গলার আওয়াজ পরিবর্তন হওয়াসহ, খাবার কম খাওয়া, বমি, কৃমি, ডায়রিয়া এসব সমস্যা দেখার সঙ্গে সঙ্গে বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকের সঙ্গে জরুরি ভিত্তিতে যোগাযোগ করতে হবে এবং সঠিক চিকিৎসা নিশ্চিত করতে হবে।

বর্ষাকালে বিড়াল তো বটেই, অন্যান্য পোষা প্রাণী যেমন কুকুর বা খরগোশের যত্নে দেখে নিতে পারেন আরও কিছু টিপস:

১. অনেকের বিড়াল বা কুকুর বাড়ির বাইরে যায়। এগুলো বৃষ্টিতে ভিজে বাড়ি ফিরলে দ্রুত টাওয়েল দিয়ে শরীর মুছে দিন।

২. কুকুরকে বাইরে হাঁটতে নিয়ে গেলে লক্ষ্য রাখুন, যেন প্রাণীটি রাস্তায় বা ফুটপাতে জমে থাকা পানি থেকে দূরে থাকে। বৃষ্টি চলাকালে তাকে নিয়ে বের না হওয়াই সমীচীন।

৩. পোষা প্রাণীর শরীর পরিষ্কার রাখা সব সময়ই জরুরি, বর্ষাকালে আরও বেশি জরুরি। এর লোম দৈনিক আঁচড়ে দিন। কান, থাবা ও নাক পরিষ্কার করে দিন নিয়মিত।

৪. পোষা প্রাণীর শরীরে উঁকুন হচ্ছে কিনা খেয়াল রাখুন, কারণ উঁকুনের সঙ্গে কৃমি হওয়ার একটা সম্পর্ক আছে। উঁকুন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ওষুধ ব্যবহার করুন।

৫. বর্ষাকালে পানি থেকে বিভিন্ন রোগ ছড়ায়। আপনার পোষা প্রাণীর খাবার ও পানির পাত্র নিয়মিত পরিষ্কার করুন। এতে বিভিন্ন পেটের সমস্যা থেকে নিস্তার পাওয়া যাবে।

আরও পড়ুন

×