ঢাকা বৃহস্পতিবার, ০৪ জুন ২০২৬

রুটিন মেনে প্রতিদিন একই খাবার খাওয়া কি ঠিক? 

রুটিন মেনে প্রতিদিন একই খাবার খাওয়া কি ঠিক? 
×

প্রতীকী ছবি

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ০৯ মে ২০২৬ | ১১:২৭

অনেকেরই রুটিন মেনে প্রতিদিন একই ধরনের খাবার খাওয়ার অভ্যাস আছে। সকাল, দুপুর কিংবা রাতে তারা একই ধরনের খাবার খেতে স্বাচ্ছন্দ্য বোধ করেন। তবে পুষ্টিবিদদের মতে, দীর্ঘদিন ধরে এই ধরনের অভ্যাস বজায় রাখলে তা অন্ত্রের স্বাস্থ্যের উপর খারাপ প্রভাব ফেলতে পারে। বিশেষ করে গাট ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য কমে গেলে হজমের সমস্যা দেখা দেয়। সেই সঙ্গে শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাও কমে যায়। 

ভারতীয় গণমাধ্যম ‘এই সময়ে’র এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, অন্ত্রে থাকা লক্ষ লক্ষ ব্যাকটেরিয়া, ফাঙ্গাস এবং অণুজীবকে একত্রে বলা হয় গাট মাইক্রোবায়োম। এই অণুজীবগুলির প্রতিটির আলাদা ধরনের পুষ্টি প্রয়োজন হয়। এ কারণে প্রতিদিন একই খাবার খেলে শরীর নানা ধরনের ফাইবার, ভিটামিন ও পলিফেনল থেকে বঞ্চিত হয়। এর ফলে কিছু উপকারী ব্যাকটেরিয়া কমে যায় এবং অন্ত্রের ভারসাম্য নষ্ট হতে শুরু করে। গবেষণায় দেখা গেছে, যারা সপ্তাহে ৩০ ধরনের উদ্ভিজ্জ খাবার খান, তাদের গাট ব্যাকটেরিয়ার বৈচিত্র্য অনেক বেশি থাকে। অন্যদিকে, যারা খুব কম বৈচিত্র্যপূর্ণ খাবার খান, তাদের অন্ত্র তুলনামূলক ভাবে দুর্বল হয়।

ওই প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, দীর্ঘদিন একই খাবার খেলে শরীর ধীরে ধীরে সেই খাবারের সঙ্গে অভ্যস্ত হয়ে যায়। এর ফলে অন্ত্রের স্বাভাবিক কার্যক্ষমতা কমে হজমের সমস্যা দেখা দিতে পারে। এর মধ্যে ঘন ঘন পেট ফাঁপা, কোষ্ঠকাঠিন্য বা অনিয়মিত মলত্যাগের মতো সমস্যা বেশি দেখা যায়। অনেক সময় খুব স্বাস্থ্যকর খাবার খেলেও যদি খাদ্যতালিকায় বৈচিত্র্য না থাকে, শরীর প্রয়োজনীয় সব ধরনের ফাইবার পায় না। এতে অন্ত্রের উপকারী ব্যাকটেরিয়াগুলি পর্যাপ্ত পুষ্টি থেকে বঞ্চিত হয়।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, একই খাবার খাওয়ার কিছু সুবিধাও রয়েছে। এতে ডায়েট মেনে চলা সহজ হয়, ওজন কমানোর পরিকল্পনা বজায় রাখা যায় এবং কোন খাবারে শরীরের সমস্যা হচ্ছে তা বুঝতেও সুবিধা হয়। 

পুষ্টিবিদদের মতে, খাদ্যতালিকায় হঠাৎ বড় পরিবর্তন না এনে ধীরে ধীরে বৈচিত্র্য আনতে পারেন। যেমন— ভাতের পাশাপাশি মিলেট, ওটস বা গম রাখতে পারেন। প্রতিদিন একই ধরনের সবজি না খেয়ে মৌসুমি সবজি বদলে খান। খাদ্যতালিকায় বিভিন্ন ধরনের ডাল ও শস্য যোগ করুন। হজমের জন্য দই, ঘোলের মতো ফারমেন্টেড খাবার যোগ করতে পারেন। বাদাম, বীজ ও নানা ধরনের ভেষজ ব্যবহার করতে পারেন রান্নায়। নিখুঁত ডায়েটের চেয়ে ভারসাম্যপূর্ণ ও বৈচিত্র্যময় খাবার দীর্ঘমেয়াদে শরীরের জন্য  উপকারী হবে।

আরও পড়ুন

×