ডিটক্স ওয়াটার: খালি পেটে নাকি ভরা পেটে পান করা উচিত?
ছবি: সংগৃহীত
ইসরাত জাহান প্রিয়ানা
প্রকাশ: ২৫ জুলাই ২০২৬ | ১৩:৪৫
ডিটক্স ওয়াটার বর্তমানে স্বাস্থ্যসচেতন মানুষের মধ্যে বেশ জনপ্রিয় একটি পানীয়। সাধারণত লেবু, শসা, পুদিনা, আদা বা বিভিন্ন ফল যেমন মাল্টা,ড্রাগন কিংবা বিটরুট পানিতে ভিজিয়ে এই পানীয় তৈরি করা হয়।
অনেকের ধারণা, সকালে খালি পেটে ডিটক্স ওয়াটার পান করলে শরীর থেকে টক্সিন বের হয়ে যায়, হজম প্রক্রিয়া বাড়ে এবং দ্রুত ওজন কমে। তবে বৈজ্ঞানিক দৃষ্টিকোণ থেকে, খালি পেটে কেবল ডিটক্স ওয়াটার পান করলেই শরীরের টক্সিন বিশেষভাবে বের হয়ে যায় বা চর্বি দ্রুত গলে, এমন প্রমাণ খুব বেশি নেই। আমাদের শরীরের বর্জ্য ও ক্ষতিকর পদার্থ অপসারণের প্রধান দায়িত্ব স্বাভাবিকভাবেই লিভার ও কিডনি পালন করে। তবে পানির চাহিদা পূরণ এবং কিছু উপকারিতার জন্য এ পানীয় পান করা যেতেই পারে।
ডিটক্স ওয়াটার কখন পান করা ভালো?
ডিটক্স ওয়াটার খালি পেটে পান করতেই হবে এমন কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ নেই। খাবারের আগে, খাবারের সঙ্গে বা খাবারের পরেও এই পানীয় পান করা যেতে পারে। তবে সকালে ডিটক্স ওয়াটার পান করার সবচেয়ে বড় সুবিধা হতে পারে পর্যাপ্ত তরল গ্রহণের স্বাভাবিক অভ্যাস তৈরি হওয়া। অন্যদিকে খাবারের আগে পানি পান করলে পেট ভরা অনুভূতি তৈরি হয়। যার ফলে খাবারের পরিমাণ কিছুটা কমতে পারে। পাশাপাশি অতিরিক্ত খাবার গ্রহণের প্রবণতাও কমে। তবে এই সম্ভাব্য উপকার মূলত পানির কারণে ঘটে।
এমনকি ডিটক্স ওয়াটার তৈরিতে ব্যবহৃত উপাদান যেমন লেবু, মাল্টা, পুদিনা বা সাইট্রাস ফলে বিদ্যমান ভিটামিন সি পানিতে দ্রবণীয় হওয়ায় পানির সাথে মিশে যায়। আদা, বিটরুটে বিদ্যমান আন্টিঅক্সিডেন্ট শরীরে প্রতিনিয়ত তৈরি ফ্রি র্যাডিকেলের ক্ষতিকর প্রভাব কমাতে সহায়তা করে।
ডিটক্স ওয়াটার খালি পেটে পান করা যেতেই পারে। তবে সবার জন্য খালি পেটে ডিটক্স ওয়াটার গ্রহণ সমানভাবে আরামদায়ক নাও হতে পারে। বিশেষ করে লেবু বা অন্যান্য টক উপাদানযুক্ত ডিটক্স ওয়াটার কিছু মানুষের অ্যাসিডিটি, বদহজম বা রিফ্লাক্সের সমস্যা বাড়াতে পারে। কারো এ ধরনের সমস্যা থাকলে খালি পেটে পান না করা ভালো। খাবারের পরে বা দিনের অন্য সময়ে পান করলে এ ধরনের সমস্যায় পড়তে হবে না। তাই ডিটক্স ওয়াটার খাওয়ার সময় নির্ধারণের ক্ষেত্রে ব্যক্তির শারীরিক অবস্থা, হজম প্রক্রিয়া ও সহনশীলতাকে গুরুত্ব দেওয়া উচিত।
তবে শরীর ‘ডিটক্স’ করার জন্য শুধু ডিটক্স ওয়াটারের ওপর নির্ভর না করে পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে। পাশাপাশি সুষম খাদ্য, পর্যাপ্ত ঘুম এবং নিয়মিত শারীরিক কার্যক্রমের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
লেখক: পুষ্টিবিদ
ড্রিম ফার্টিলিটি কেয়ার এবং হেমায়েতপুর সেন্ট্রাল হসপিটাল
- বিষয় :
- ডিটক্স