ঢাকা বুধবার, ২৬ আগস্ট ২০২৬

খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ পরিবর্তন কমাতে পারে বিষণ্নতার ঝুঁকি

খাদ্যাভ্যাসের একটি সাধারণ পরিবর্তন কমাতে পারে বিষণ্নতার ঝুঁকি
×

ছবি: সংগৃহীত

অনলাইন ডেস্ক

প্রকাশ: ২৬ আগস্ট ২০২৬ | ১৬:২৪

প্রতিদিনের খাবারে বড় কোনো পরিবর্তন না এনেও মানসিক সুস্থতায় ইতিবাচক প্রভাব ফেলা সম্ভব। গবেষণায় দেখা গেছে, একা খাওয়ার বদলে পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়ার অভ্যাস বিষণ্নতার ঝুঁকি কমানোর সঙ্গে সম্পর্কিত। একই সঙ্গে এই অভ্যাস মানসিক ভালো থাকা ও জীবনের প্রতি সন্তুষ্টি বাড়াতেও ভূমিকা রাখতে পারে।

একসঙ্গে খাওয়ার অভ্যাস

অন্যদের সঙ্গে বসে খাবার খাওয়াকে ‘কমেনসালিটি’ বলা হয়। খাবারের সময় একসঙ্গে থাকা, কথা বলা এবং পরস্পরের সঙ্গে যোগাযোগের সুযোগ তৈরি হয়। গবেষকেরা মনে করেন, এই সামাজিক যোগাযোগ মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর প্রভাব ফেলতে পারে।

চীনের ঝেজিয়াং প্রভিন্সিয়াল সেন্টার ফর ডিজিজ কন্ট্রোল অ্যান্ড প্রিভেনশনের এক গবেষণায় ৬০ বছর বা তার বেশি বয়সী ৯ হাজার ৩৬১ জন নারীকে নিয়ে তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার মানুষের সংখ্যা এবং বিষণ্নতার ঝুঁকির মধ্যে সম্পর্ক রয়েছে। অন্যান্য স্বাস্থ্য ও সামাজিক বিষয় বিবেচনায় নেওয়ার পরও এই সম্পর্ক পাওয়া যায়।

একা খাওয়ার সঙ্গে বিষণ্নতার সম্পর্ক

জাপানের একটি গবেষণায়ও একই ধরনের ফল পাওয়া গেছে। ৬৫ থেকে ৭৪ বছর বয়সী যেসব ব্যক্তি পরিবারের সঙ্গে বসবাস করেও নিয়মিত একা খাবার খেতেন, তাঁদের মধ্যে বিষণ্নতার লক্ষণ দেখা দেওয়ার ঝুঁকি অন্যদের সঙ্গে নিয়মিত খাওয়া ব্যক্তিদের তুলনায় বেশি ছিল।

মানসিক ভালো থাকায় ভূমিকা

২০২৪ সালের ‘ওয়ার্ল্ড হ্যাপিনেস রিপোর্ট’-এ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রায় ১ লাখ ৫০ হাজার মানুষের তথ্য বিশ্লেষণ করা হয়। এতে দেখা যায়, যারা বেশি দিন অন্যদের সঙ্গে দুপুর বা রাতের খাবার খেয়েছেন, তাঁদের মানসিক ভালো থাকার মাত্রাও তুলনামূলকভাবে বেশি ছিল। গবেষকদের মতে, অন্যদের সঙ্গে খাবার খাওয়ার অভ্যাস জীবনের প্রতি সন্তুষ্টির সঙ্গেও সম্পর্কিত। খাবারের টেবিলে নিয়মিত একসঙ্গে সময় কাটানোর মাধ্যমে মানুষের মধ্যে সামাজিক যোগাযোগ ও পারস্পরিক সম্পর্ক আরও শক্ত হতে পারে।

খাবারের সময় ভালো লাগার অনুভূতি

অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জৈবিক নৃবিজ্ঞানী রবিন ডানবারের মতে, একসঙ্গে খাবার খাওয়ার সময় শরীরে এন্ডোরফিনের কার্যক্রম বাড়তে পারে। এন্ডোরফিন শরীরে তৈরি হওয়া এমন একটি রাসায়নিক, যা ভালো লাগার অনুভূতির সঙ্গে সম্পর্কিত।

পরিবার, বন্ধু বা পরিচিতদের সঙ্গে নিয়মিত বসে খাবার খাওয়ার সুযোগ তাই সামাজিক যোগাযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি মানসিক সুস্থতার জন্যও উপকারী হতে পারে।
 

আরও পড়ুন

×