ছুটির দিনে তিন নাটকের চারটি প্রদর্শনী
ছবি-সংগৃহীত
নন্দন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ৩০ এপ্রিল ২০২৬ | ১৩:৪৬
আগামীকাল শুক্রবার মে দিবস। ছুটির দিনে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমি, বেইলি রোডের মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়ন ও কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে রয়েছে তিনটি নাটকের চারটি প্রদর্শনী। এ ছাড়াও থাকছে একটি পথনাটকের মঞ্চায়ন।
সাঁওতালদের অধিকার আদায়ের সংগ্রাম নিয়ে আরণ্যক নাট্যদল মঞ্চায়ন করছে দর্শকনন্দিত নাটক ‘রাঢ়াঙ’। বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির জাতীয় নাট্যশালার পরীক্ষণ থিয়েটার হলে সন্ধ্যা ৭টায় দলের ৪৫তম প্রযোজনাটির মঞ্চায়ন হবে।
নাটকে দেখা যায়, সাঁওতাল সম্প্রদায়ের দরিদ্র জনগোষ্ঠীর নিত্যদিনের হালচালে মলিন বেশভূষা। নিরীহ মুখাবয়বে যেন রাজ্যের হাহাকার। খেয়ে না খেয়ে সভ্য সমাজের মানুষদের সঙ্গে তাল মিলিয়ে কোনোভাবে বেঁচে থাকা। নিজেকে টিকিয়ে রাখার লক্ষ্যে প্রত্যেক সাঁওতাল প্রায় এক প্রকার যুদ্ধে লিপ্ত। এভাবেই এগিয়ে যায় নাটকের কাহিনি।
নাটকটি রচনা করেছেন মামুনুর রশীদ, নির্দেশনার পাশাপাশি অভিনয়ও করেছেন তিনি।
নাটকের বিভিন্ন চরিত্রে আরও অভিনয় করেছেন শামীম জামান, আরিফ হোসেন আপেল, সাজ্জাদ সাজু, সুজাত শিমুল, শামীমা শওকত লাভলী প্রমুখ।
এ ছাড়া আরণ্যক মে দিবসে সকাল ১০টায় কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে পথনাটক ‘মূর্খ লোকের মূর্খ কথা’ মঞ্চায়ন করবে বলে জানা গেছে। এ ছাড়াও রয়েছে ভাবনগর সাধুসঙ্গের বাউল গানের পরিবেশনা।
নাট্যদল আরণ্যকের প্রতিষ্ঠাতা মামুনুর রশীদ বলেন, ‘আরণ্যক শুধু নগরকেন্দ্রিক নাট্যচর্চার মধ্যে তাদের কার্যক্রম সীমাবদ্ধ রাখেনি। সারাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে যেমন ছুটে গেছে নাটক নিয়ে তেমনি দেশের প্রতিনিধিত্ব করে বিদেশেও নাটক মঞ্চায়ন করেছে। মঞ্চনাটক, পথনাটক, মুক্তনাটক আন্দোলনসহ নানা সাংস্কৃতিক কর্মকাণ্ডে সব সময় যুক্ত থেকেছে আরণ্যক।
এরই ধারাবাহিকতায় নাট্যদলটি ১৯৮২ সাল থেকে বিগত ৪৪ বছর ধরে নিয়মিতভাবে মে দিবস উদযাপন করে আসছে। কোনো নাট্যদল হিসেবে আরণ্যকই প্রথম এ উদ্যোগ গ্রহণ করে। প্রতি মে দিবসের সকালে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার চত্বরে উন্মুক্ত অনুষ্ঠানের মাধ্যমে এই আয়োজন শুরু হয়ে শেষ হয় বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমিতে নাট্য প্রদর্শনীর মাধ্যমে। আশা করছি, এবারের আয়োজনটিও উপভোগ্য হবে।
অন্যদিকে রাজধানীর মহিলা সমিতির নীলিমা ইব্রাহিম মিলনায়তনে রয়েছে ‘বন্যথেরিয়াম’ নাটকটির দুটি মঞ্চায়ন। বিকেল ৪টা ৩০ মিনিটে ও সন্ধ্যা ৬টা ৩০ মিনিটে থাকছে পর পর দুটি প্রদর্শনী। সুকুমার রায়ের ‘হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি’ অবলম্বনে বন্যথেরিয়ামের নাট্যরূপ দিয়েছেন ইভান রিয়াজ। নির্দেশনাও দিয়েছেন তিনি।
এ নাটকের গল্পে দেখা যাবে, প্রাণিবিজ্ঞান সংস্থা ওয়াইল্ড ভিশন এক অদ্ভুত প্রজাতির ট্যাঁশ গরুর সন্ধান পায়। এরপর সেটিকে ধরে নিয়ে আসা হয় কোম্পানির প্রেসিডেন্ট হারুর নির্দেশে। এমন অদ্ভুত আর বিরল বন্যপ্রাণীর সন্ধান ওয়াইল্ড ভিশনকে এনে দেয় খ্যাতি। খবর পেয়ে ছুটে আসে বন্যপ্রাণী ব্যবসায়ী মিস হুক্কি; সে আরও ট্যাঁশ গরুর সন্ধান চায়। এরই মধ্যে আরও অদ্ভুত বন্যপ্রাণী আর প্রকৃতির সন্ধান নিয়ে আসে বিখ্যাত গবেষক প্রফেসর হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ভাগনে চন্দ্রখাই। তাঁর কাছে প্রফেসর হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের অদ্ভুত অভিযানের কাহিনি শুনে হারু আর মিস হুক্কি রোমাঞ্চিত হতে থাকে। নতুন ব্যবসার ক্ষেত্র আবিষ্কৃত হচ্ছে ভেবে উৎফুল্ল হয়। তখন তারা অক্সিজেন, খাদ্যচক্র আর পরবর্তী প্রজন্মের কথা ভুলে স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সবুজ প্রকৃতিকে ধূসর করে মুনাফা লাভের। চন্দ্রখাইও গল্পের ছলে পৌঁছাতে থাকে তাঁর চূড়ান্ত লক্ষ্যে।
বন্যথেরিয়াম নাটকটি নিয়ে নির্দেশক ইভান রিয়াজ বলেন, ‘তখন ২০১৬ সাল। রামপাল বিদ্যুৎকেন্দ্রসহ সুন্দরবনবিনাশী বিভিন্ন প্রকল্প বাতিলের পক্ষে বাংলাদেশের জনগণের আন্দোলন রাজপথে প্রবল আকার ধারণ করেছে। ঠিক সে মুহূর্তে হাতে এল সুকুমার রায়ের হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি। ভিন্নধর্মী তো বটেই, প্রাণপ্রকৃতি নিয়ে একটি গল্প উপস্থাপন করা যাবে ভেবে চোখ আটকে থাকে এই রচনাতে। সুকুমার রায়ের ছড়াগুলো পড়তে পড়তে একসময় ধরা পড়ে ট্যাঁশ গরু। এরপর আরেকটি ছড়া বোম্বাগড়ের রাজা এসে সম্পাদন করে দিল কর্ম। এভাবেই হেঁসোরাম হুঁশিয়ারের ডায়েরি থেকে তৈরি হলো নতুন এক গল্প বন্যথেরিয়াম। আগামীকাল শুক্রবার মে দিবসে ছুটির দিনে শিশুদের সঙ্গে তাদের অভিভাবকরা নাটকটি উপভোগ করবেন বলে আশা করছি।’
বন্যথেরিয়ামে বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন মাহবুব মাসুম, মোহাম্মদ আলী হায়দার, সুমিত তেওয়ারি রানা, আশরাফুল ইসলাম অশ্রু, লায়কা বশীর, তৌফিক হাসান ভূঁইয়া, হাফিজা আক্তার ঝুমা, জেঈরান জুহী, লোচন পলাশ, সবুজ সরকার, কাজী রোকসানা রুমা, আফনান রহমান, অন্তু চন্দ্র নাথ, ফিরোজ শেখ ও মনিরা খাতুন সৃষ্টি।
- বিষয় :
- মঞ্চ নাটক
