‘স্কুলজীবনের সেই পরিচিত মুখটাই মনে পড়েছে’
ছবি: সংগৃহীত
আবুল হায়াত
প্রকাশ: ১৩ মে ২০২৬ | ১৭:৫৫ | আপডেট: ১৩ মে ২০২৬ | ১৭:৫৭
আতাউর রহমান নেই– এটা যেন এখনও বিশ্বাস করা কঠিন। এত কাছের ও প্রিয় একজন মানুষ ছিলেন তিনি যে, তাঁকে হারানোর শোক ভাষায় প্রকাশ করা সম্ভব নয়। মনটা বিষণ্ন হয়ে আছে। কথা বলার ভাষাও যেন হারিয়ে গেছে।
অনেক বছর আগে থেকেই পরিচয় তাঁর সঙ্গে। তখন চট্টগ্রামে থাকা হতো। একই স্কুলে পড়াশোনা করেছেন দুজন। আতাউর রহমান ছিলেন কয়েক বছরের বড়। সম্প্রতি শেষবারের মতো তাঁকে দেখে আসার পর স্কুলজীবনের সেই পরিচিত মুখটাই মনে পড়েছে। কিন্তু সেই চেনা মুখ আজ নীরব।
নাগরিক নাট্যসম্প্রদায় গঠনের সময়কার স্মৃতিও এখন বারবার ফিরে আসছে। অনেক বছর আগের কথা। নতুন একটি নাট্যদল গঠনের উদ্যোগ নেওয়া হলো। গোলাম রাব্বানী নিয়ে গেলেন সেখানে। গিয়ে দেখা হলো আতাউর রহমানের সঙ্গে। এরপর দল গঠন করা হলো। জিয়া হায়দার হলেন প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি, আতাউর রহমান প্রতিষ্ঠাতা সাধারণ সম্পাদক। সেই শুরু একসঙ্গে দীর্ঘ পথচলার।
মঞ্চনাটকের দলের বেশি সময় কাটে রিহার্সেলে। প্রদর্শনী হয় একদিন, কিন্তু একটি নাটকের জন্য মাসের পর মাস রিহার্সেল করতে হয়। কখনও কখনও ছয় মাস পর্যন্ত চলে সেই প্রস্তুতি। তখন প্রতিদিন দেখা হয়, নাটকের বাইরেও গল্প হয়। এভাবেই জমে ওঠে অসংখ্য স্মৃতি। আতাউর রহমানের সঙ্গেও বহু বছরের সম্পর্ক ছিল এমনই স্মৃতিময়।
তাঁকে ‘মঞ্চ সারথী’ নামে ডাকা হতো। কে এই উপাধি দিয়েছিলেন জানা নেই, তবে তাঁর জন্য এটিই সবচেয়ে মানানসই। তিনি ছিলেন মঞ্চের প্রাণপুরুষ। মঞ্চনাটকের জন্য অসাধারণ অবদান রেখে গেছেন। জীবনের শ্রেষ্ঠ সময়টুকু মঞ্চের জন্য ব্যয় করেছেন। একসময় চাকরি করতেন, পরে সেই চাকরি ছেড়ে পুরো সময় দিয়েছেন নাটকের দলে।
তিনি ছিলেন অত্যন্ত পাণ্ডিত্যপূর্ণ মানুষ। রবীন্দ্রনাথের প্রতি ছিল গভীর অনুরাগ। প্রচুর পড়াশোনা করেছেন। মঞ্চে তাঁর নির্দেশনাগুলো ছিল অসাধারণ। কাজ দিয়েই তিনি বেঁচে থাকবেন।
এক এক করে প্রিয় মানুষরা চলে যাচ্ছেন। ড. ইনামুল হক, জামালউদ্দিন হোসেনের পর এবার আতাউর রহমানও চলে গেলেন। পরিবারের সঙ্গেও ছিল গভীর সম্পর্ক। মেয়েরা একসঙ্গে বড় হয়েছে, তাদেরও অসংখ্য স্মৃতি রয়েছে। সব স্মৃতি আজ একসঙ্গে মনে পড়ছে। তাঁর আত্মার শান্তি কামনা করি। মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।
- বিষয় :
- আবুল হায়াত
- আতাউর রহমান
