দুই দশকের নস্টালজিয়ায় বিয়ন্সে
সাইফান সানাফ
প্রকাশ: ১৬ জুলাই ২০২৬ | ০৭:২১
| প্রিন্ট সংস্করণ
বিয়ন্সে, পুরো নাম বিয়ন্সে গিসেল নোলস-কার্টার। তিনি আবারও প্রমাণ করলেন, চমক দিতে তাঁর খুব বেশি আয়োজনের প্রয়োজন হয় না। কোনো আগাম ঘোষণা ছাড়াই সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন তাঁর নতুন সিঙ্গেল ‘মর্নিং ডিউ (ডঙ্ক)’। তাতেই বিশ্বজুড়ে ভক্তদের মধ্যে শুরু হয়েছে উন্মাদনা। তবে এটি কেবল একটি নতুন গান নয়; এর মধ্য দিয়ে শুরু হয়েছে তাঁর ক্যারিয়ারের অন্যতম সফল অ্যালবাম ‘বি-ডে’র ২০ বছর পূর্তি উদ্যাপনের আনুষ্ঠানিক কাউন্টডাউন। ২০২৪ সালে ‘কাউবয় কার্টার’ অ্যালবাম দিয়ে সংগীতাঙ্গনে আলোড়ন তৈরির পর দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান ঘটিয়ে এবার শ্রোতার সামনে হাজির হলেন এই গান নিয়ে। মুক্তির পর থেকেই ‘মর্নিং ডিউ’ স্পটিফাই, অ্যাপল মিউজিকসহ বিভিন্ন স্ট্রিমিং প্ল্যাটফর্মে দ্রুত জনপ্রিয়তা অর্জন করছে। ভক্তদের কাছে এটি যেন একই সঙ্গে নতুন গান ও পুরোনো স্মৃতির এক আবেগঘন ফিরে দেখা।
২০০৬ সালের সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত হয়েছিল ‘বি-ডে’ শিরোনামে বিয়ন্সের অ্যালবাম। এটি ছিল তাঁর দ্বিতীয় একক স্টুডিও অ্যালবাম। মুক্তির প্রথম সপ্তাহেই অ্যালবামটির প্রায় সাড়ে পাঁচ লাখ কপি বিক্রি হয়েছিল। ‘ডেজা ভু’, ‘ইররিপ্লেসেবল’, ‘বিউটিফুল লায়ার’ কিংবা ‘গেট মি বডিড’-এর মতো একের পর এক জনপ্রিয় গান এই অ্যালবামকে পপসংগীতের ইতিহাসে একটি বিশেষ জায়গা করে দেয়। চলতি বছরের সেপ্টেম্বরে অ্যালবামটির ২০ বছর পূর্ণ হবে। পাশাপাশি আগামী ৪ সেপ্টেম্বর, বিয়ন্সের ৪৬তম জন্মদিনে প্রকাশ করা হবে ‘বি-ডে’র বিশেষ সংস্করণ। সেই বিশেষ সংস্করণেই যুক্ত হয়েছে ‘মর্নিং ডিউ’। নতুন এই গানের গল্পও বেশ ব্যতিক্রমী। গানটি নতুন হলেও এর জন্ম হয়েছিল ২০১৩ সালে প্রকাশিত স্বনামের ‘বিয়ন্সে’ অ্যালবামের জন্য। শেষ পর্যন্ত গানটি অ্যালবামে স্থান পায়নি। এরপর দীর্ঘ নীরবতা। ২০২৩ সালে গানটির একটি ডেমো সংস্করণ অনলাইনে ফাঁস হয়ে যায়। খুব অল্প সময়ের মধ্যেই সেটি টিকটকে ভাইরাল হয়ে পড়ে। হাজার হাজার ব্যবহারকারী সেই ডেমো ব্যবহার করে ভিডিও তৈরি করেন। ভক্তদের দীর্ঘদিনের আগ্রহ ও অনুরোধের পর অবশেষে বিয়ন্সের প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘পার্কউড এন্টারটেইনমেন্ট’ গানটি প্রকাশের সিদ্ধান্ত নেয়। গানটির গীতরচনায় বিয়ন্সের সঙ্গে কাজ করেছেন ফারেল উইলিয়ামস, অ্যাঞ্জেলা শেরি উডস, ড্যারিয়াস ডিকসন এবং দ্য ড্রিম। সংগীত প্রযোজনার দায়িত্বও ভাগাভাগি করেছেন বিয়ন্সে ও ফারেল উইলিয়ামস। ফারেলের সঙ্গে বিয়ন্সের রসায়ন নতুন নয়। অতীতেও তাঁদের একাধিক সফল সহযোগিতা শ্রোতার প্রশংসা কুড়িয়েছে। ‘মর্নিং ডিউ’-এ সেই পরিচিত ঘরানার সঙ্গে আধুনিক আরঅ্যান্ডবি ও পপের মিশেল তৈরি হয়েছে, যা গানটিকে দিয়েছে আলাদা আবেদন। গানের পাশাপাশি প্রকাশ করা হয়েছে একটি সাদাকালো ভিজ্যুয়াল ভিডিও, যা ইতোমধ্যে ভক্তদের মধ্যে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছে। ভিডিওটি নির্মাণ করেছেন বিয়ন্সের দীর্ঘদিনের সহকর্মী ও খ্যাতিমান ফটোগ্রাফার ক্লিফ ওয়াটস। ভিডিওটির সবচেয়ে বড় আকর্ষণ হলো, এতে ব্যবহার করা হয়েছে ২০০৭ সালে ‘স্পোর্টস ইলাস্ট্রেটেড’ ইস্যুর ফটোশুট চলাকালীন ধারণ করা বিয়ন্সের অপ্রকাশিত আর্কাইভ ফুটেজ। নতুন গানের সঙ্গে পুরোনো সেই মুহূর্তগুলোর সংমিশ্রণ দর্শককে যেন এক লহমায় ফিরিয়ে নিয়ে যায় দুই দশক আগের বিয়ন্সের সোনালি সময়ে। ভিডিওটি শুধুই একটি মিউজিক ভিডিও নয়, বরং তাঁর ক্যারিয়ারের এক গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়ের স্মৃতিচারণ। পপসংগীতের ইতিহাসে বিয়ন্সে এমন একজন শিল্পী, যিনি প্রতিটি অ্যালবামের মাধ্যমে নিজেকে নতুনভাবে আবিষ্কার করেছেন। ‘ডেঞ্জারাসলি ইন লাভ’ থেকে ‘লেমনেড’, ‘রেনেসাঁ’ কিংবা ‘কাউবয় কার্টার’ প্রতিটি অধ্যায়ে তিনি ভেঙেছেন প্রচলিত ধারা। ‘মর্নিং ডিউ’ সেই ধারাবাহিকতায় এক ভিন্ন সংযোজন। এটি যেমন অতীতের অপ্রকাশিত একটি গানকে নতুন জীবন দিয়েছে, তেমনি ‘বি-ডে’র বিশ বছর পূর্তিকে ঘিরে ভক্তদের আবেগও নতুন করে দিয়েছে। বিশ্বজুড়ে সংগীতপ্রেমীরা এখন অপেক্ষায় আছেন সেপ্টেম্বরের বিশেষ সংস্করণের জন্য। কারণ, ‘মর্নিং ডিউ’ শুধু একটি নতুন সিঙ্গেল নয়; এটি বিয়ন্সের দীর্ঘ সংগীতযাত্রার এক নস্টালজিক অধ্যায়ের দরজা খুলে দিয়েছে, যেখানে অতীতের স্মৃতি আর বর্তমানের সাফল্য এক হয়ে তৈরি করেছে নতুন এক উদযাপনের গল্প।
- বিষয় :
- বিনোদন