বদলে যাওয়া নামেই পরিচয়
লামিমা লাম
সাদিয়া মুনমুন
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫০
| প্রিন্ট সংস্করণ
বানান ভুল নয়, সত্যিকার অর্থে তাঁর নাম লামিমা। কাগজে কলমে লামিমা লাম। তবুও নাটকপ্রেমীরা অনেকে এ কথা বিশ্বাস করতে চান না। উল্টো প্রশ্ন করেন, ‘লামিমা’ কে? ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকে শিমুলের যে নায়িকা ছিলেন তিনি? তাঁর নাম তো ‘লামিয়া’–এটি সবাই জানেন। দর্শকদের এমন প্রশ্ন আর ধারণা নিয়ে তর্ক-বিতর্কে না যাওয়াই ভালো মনে করেন লামিমা লাম নিজেও। এই অভিনেত্রী কথায়, ‘বেশির ভাগ দর্শক তাঁকে লামিয়া বলেই চেনেন, তখন আর ভুল ভাঙিয়ে লাভ কী। বদলে যাওয়া নামে যদি পরিচিতি গড়ে ওঠে, তাহলে সেটিকে সাফল্য বলে ধরে নিতে চাই।’
বদলে যাওয়া নামে যার পরিচয় গড়ে উঠেছে, সেই লামিমা নিজেও জানতেন না একটি নাটকের সূত্র ধরে এমন কিছু ঘটতে পারে। সেটি কীভাবে ঘটেছে, সেই গল্প শোনালেন লামিমা লাম। বললেন, ২০২০ সালে বহুল জনপ্রিয় ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর শুটিং হয়েছিল নোয়াখালীতে। জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটকের একটি চরিত্রের জন্য তখন এমন একজনকে খোঁজা হচ্ছিল, যিনি নোয়াখালী জেলার আঞ্চলিক ভাষায় কথা বলতে পারেন। আমি যেহেতু নোয়াখালীর মেয়ে, সেখানের আঞ্চলিক ভাষায় অনর্গল কথা বলতে পারি, তাই আমিও বেশি কিছু না ভেবে অডিশন ভিডিও পাঠিয়ে দেই। শুনলে অবাক হবেন, অডিশন ভিডিও পাঠালেও অভিনয় সম্পর্কে আমার তেমন কিছু জানা ছিল না। তারচেয়ে অবাক করা বিষয় হলো, সেই অডিশনের ভিডিও দেখে আমাকে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’-এর জন্য নির্বাচন করে ফেলেন পরিচালক কাজল আরেফিন অমি। নির্বাচিত হলে তো হবে না, পরিচালক যেভাবে তাঁর কাজটি পর্দায় তুলে ধরতে চান, সেভাবে অভিনয়ও তো করে দেখাতে হবে। এটাই যখন দুশ্চিন্তার বিষয় হয়ে উঠেছে, তখন তা সহজ করে দিয়েছেন পরিচালক থেকে শুরু করে নাটকের সহশিল্পী সবাই। তাদের সব রকম সহযোগিতায় আর প্রতিটি দৃশ্যের আগে মহড়া দেওয়ার মধ্য দিয়ে ধীরে ধীরে কেটে গেছে অভিনয় ভীতি। ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে ‘লামিয়া’ হয়ে উঠতেও আর কোনো সমস্যা হয়নি। এরপর একনাগাড়ে মিশে ছিলাম ‘লামিয়া’ চরিত্রের মাঝে। দর্শকও চরিত্রটি ভালোবেসে ফেলেছেন। সেই ভালোবাসার জেরে আমার আসল নামটি তারা ভুলে যাবেন–এটি সত্যি ভাবিনি। এ তো গেল অভিনয়ের মধ্য দিয়ে লামিমা লামের ‘লামিয়া’ হয়ে ওঠার গল্প।
পর্দার ‘লামিয়া’ যখন দর্শকের কাছেও একই নামে পরিচিতি পেয়ে গেছেন, তখন অভিনয় জগতে পথচলা আর থেমে থাকেনি। ততদিনে নির্মাতারাও তরুণীর মাঝে খুঁজে পেয়েছেন সম্ভাবনাময় এক অভিনেত্রীর ছায়া; যার সুবাদে দিন দিন ব্যস্ততাও বেড়ে গেছে লামিমার। হাতে এসেছে একের পর এক নাটক, ওয়েব সিরিজ ও সিনেমার কাজ। সেই সুযোগ ভালোভাবে কাজে লাগিয়েছেন এই অভিনেত্রী। ‘লতা অডিও’, ‘কোল্ড’, ‘অসময়’, ‘হোটেল রিল্যাক্সড’, ‘ফিমেল ২’, ‘দই’, ‘আমাদের ডিভোর্স’, ‘খানদানি ক্যাচাল’, ‘এতদিন কোথায় ছিলে’, ‘চুল পাকনা’, ‘যাহা বলিব সত্য বলিব’, ‘এক্স যখন নার্স’, ‘ভাড়াটে বয়ফ্রেন্ড’, ‘ধাওয়া-পাল্টা ধাওয়া’, ‘রানার কলি’, ‘বিয়ে বাড়ি বাড়াবাড়ি’, ‘যৌতুকের জ্বালা’, ‘টাচ ফর হ্যান্ড’, ‘গোলাপ গ্রাম’, ‘গুড বাজ’, ‘সম্পদ’, ‘লোভী সন্তান’, ‘শর্টকাট’সহ আরও বেশ কিছু নাটক ও ওটিটি কনটেন্টে অভিনয় করে দর্শক মনোযোগ কাড়তেও সময় লাগেনি তাঁর। তবে বিষয়টি যে খুব সহজে হয়ে গেছে এমন নয়; বরং পরিণত শিল্পী হয়ে ওঠার বাসনায়, লামিমা নিজেও প্রতিটি কাজে আলাদা করে প্রস্তুতি নিয়েছেন। তাঁর কথায়, যখনই তিনি নতুন কোনো কাজ হাতে নিয়েছেন, চেষ্টা করেছেন চিত্রনাট্য ভালোভাবে পড়ে চরিত্র নিজের মধ্যে ধারণ করে নিতে। তা করতে গিয়ে নিজের ভেতরে একটা কল্পনার জগৎও তৈরি করে নিয়েছেন। সতর্ক থেকেছেন যেন একই চরিত্রের পুনরাবৃত্তি না ঘটে। চরিত্রের মৌখিক ভাষা, তাঁর স্বভাব, আচরণ থেকে শুরু করে প্রতিটি বিষয় আলাদাভাবে রপ্ত করে নেওয়ার চেষ্টায় নিবেদিত ছিলেন। চরিত্র দর্শকের কাছে বিশ্বাসযোগ্য করে তুলতে নিজের সর্বোচ্চটা দিতেও কার্পণ্য করেননি। পরিচিতি আর দর্শকের ভালোবাসার পরও এতটুকু বদল ঘটেনি তাঁর চিন্তাধারায়। লামিমার এ কথা থেকে বোঝা যায়, কাজে তিনি বরাবরই সিরিয়াস। যে কারণে দর্শক আশা করতে পারেন, আগামীতেও ভালো ও ব্যতিক্রমী গল্প ও চরিত্রে তাঁকে পাওয়া যাবে। সেই আভাস পাওয়া গেছে, সদ্য মুক্তি পাওয়া বঙ্গ অরিজিনালস ‘চেক আউট’-এ। যেখানে আরেকটি আনকোরা গল্প ও নায়রা নামে নতুন এক চরিত্র তুলে ধরছেন লামিমা। হালের কনটেন্ট ক্রিয়েটর দিয়ে রচিত ‘চেক আউট’ নামে মজার এই গল্পে দর্শক তাঁকে আরও একবার নতুনরূপে আবিষ্কার করবেন, তা অনুমান করা যায় সহজে।
- বিষয় :
- বিনোদন