শরতের উৎসবে
বিদ্যা সিনহা মিম, অপু বিশ্বাস, পূজা চেরী, সোমন্তি সৌমি
সাদিয়া মুনমুন
প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
রঙিন ঝলমলে পোশাক নিজেকে সাজানো। বাদ্যের তালে তালে নৃত্য, গীত আর দেবীর বন্দনায় মেতে ওঠা। প্রিয়জনদের সান্নিধ্যে উচ্ছ্বাস-আনন্দ ভাগাভাগি করে নেওয়া– এই চিত্র প্রতিটি শারদীয় উৎসবের। এবার তার ব্যতিক্রম হচ্ছে না। তাই ঘোটকে চড়ে দেবী দুর্গার মর্তে আগমন থেকে শুরু নৌকা তার প্রত্যাবর্তন পর্যন্ত প্রতিটি মুহূর্ত রাঙিয়ে তুলতে চান তারকারও। নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে তারা ফিরে পেতে চান দুর্গাপূজার সেসব মুহূর্ত, যা আজও স্মৃতিতে উজ্জ্বল। শরতের এ উৎসবকে ঘিরে তারকাদের স্মৃতিময় দিনগুলোকে ফিরে দেখা নিয়ে এ আয়োজন
হাওয়ায় ওড়া কাশফুলের এই দিনগুলোয় রচিত হয় শারদীয় উৎসবের অজস্র গল্প; যা কাগজে-কলমের লেখনীতে নয়, কেবলই দৃশ্যের পর দৃশ্যজুড়ে জমা হয় স্মৃতির মণিকোঠায়। তাই স্মৃতিরোমন্থনে বারবার সেই দৃশ্যগুলোর অবতারণা এনে অন্যরকম এক ভালো লাগা। শারদীয় দুর্গাপূজাকে ঘিরে এমন অনেক দৃশ্য মনের ক্যানভাসে আঁকা হয়ে গেছে এ সময়ের আলোচিত তারকাদের। এবারও মহালয়া, বোধন, সন্ধিপূজা–তিন পর্বের দুর্গোৎসবের প্রতিটি ক্ষণকে তারা রাঙিয়ে তুলতে চান যার যার মতো করে। যার মধ্য দিয়ে তারা ফিরে দেখতে চান, ফেলে আসা সেই সময়কে, যা আজও স্মৃতিতে অম্লান। মডেল ও অভিনেত্রী বিদ্যা সিনহা মিম বলেন, যে সময়কে হারিয়ে ফেলেছি, সেটি কেন জানি সবচেয়ে মধুর মনে হয়। চোখে ভাসে নতুন সাজ-পোশাকে পরিবারের মানুষগুলোকে নিয়ে এক মণ্ডপ থেকে আরেক মণ্ডপে ঘুরে বেড়ানো। দেবী দুর্গার কাছে সবার মঙ্গল আর সুন্দর আগামীর প্রত্যাশা প্রার্থনা। ইচ্ছেমতো সুস্বাদু সব খাবার খাওয়া। বন্ধু, প্রিজনদের সঙ্গে নাচ, গান আনন্দে মেতে ওঠা–এ সবই এক সময় ছিল পূজার ধারাবাহিক রুটিন। শৈশব, কৈশোর হারিয়ে আজ তা কেবলই স্মৃতি। যদিও এখনও পূজার প্রতিটি দিন নতুন সব সাজ-পোশাকে বের হই, তবু হারিয়ে যাওয়া সময়ের আনন্দটাকে ফিরে পাওয়া হয়ে ওঠে না। তবু ষষ্ঠী থেকে দশমী–প্রতিটি দিনেই অতীতে ছোঁয়া পাওয়া যাবে, এমন এক চিলতে আনন্দ খুঁজে নেওয়ার। মিমের মতো নন্দিত অভিনেত্রী অপু বিশ্বাসের কথাতেও শোনা যায় একই সুর। তাঁর কথায়, ‘পূজা মানেই আনন্দ। সময়ের সঙ্গে সেই আনন্দ-উদযাপনের ধরন কিছুটা বদলেছে, কিন্তু নিঃশেষ হয়নি। এখন দুর্গাপূজায় ষষ্ঠী থেকে দশমীর দিনগুলোয় বগুড়ার দিনগুলোর কথা মনে পড়ে। কী যে এক উচ্ছ্বাস, উল্লাসের ছিল সেই দিনগুলো–তা বলে শেষ করা যাবে না। অনেকে জানেন, বগুড়াতে আমার বেড়ে ওঠা। সেইখানে ছোটবেলার শারদীয় উৎসবগুলোর আনন্দ ভাগাভাগি করে নিয়েছি বাবা-মা, কাকা-কাকিসহ অন্যান্য আত্মীয়স্বজনের সঙ্গে। পূজার সময় আমরা সবাই একত্র হতাম। আমাদের বাড়ি উৎসবে মুখর হয়ে উঠত। নতুন জামা পরে ভোরবেলা প্রতিমা দেখতে যাওয়া, মায়ের ভোগের খাবার, সবার সঙ্গে মিলে হইহুল্লোড়–সবকিছু মিলে রঙিন হয়ে উঠত পূজা। আর মহাষ্টমীর ভোগের থালা হাতে পাওয়া ছিল অন্যরকম উন্মাদনার। ভোগের থালার খিচুড়ি, লাবড়া আর নানা পদের ভাজা আমার কাছে ছিল অমৃত। অপু বিশ্বাসের মতো নন্দিত কণ্ঠশিল্পী ও সংগীতায়োজক কুমার বিশ্বজিতেরও দারুণ প্রিয় মায়ের হাতের রান্না। মাকে হারিয়ে আজও তাই পূজার সেই দিনগুলোয় স্মৃতিকাতর হয়ে পড়েন এই শিল্পী। পূজায় মায়ের রান্না করা পাচনের স্বাদ থেকে তিনি বঞ্চিত বহুদিন। তাঁর মতো একইভাবে মায়ের শূন্যতা অনুভব করেন অভিনেত্রী পূজা চেরী। এই সিনে তারকা বলেন, ‘পূজা এলো, অথচ মা নেই। তাঁকে খুব মিস করি, বিশেষ করে এই আনন্দময় মুহূর্তে বেশি মনে পড়ছে। মা থাকলে পূজায় আনন্দটা সত্যি অন্যরকম হতো।’ তিনি আরও জানান, খুলনায় তাঁর গ্রামের বাড়ি হলেও বেড়ে উঠেছেন রাজধানীর হাজারীবাগে। ধুলোমাখা শৈশবের দিনগুলো ওই মাটিতেই কেটেছে। শারদীয় উৎসবের দিনগুলোয় নানারকম পোশাক পরে বের হতেন। উপহারও পেতেন অনেক। যা অন্যরকম এক ভালোলাগায় মনকে ভরিয়ে দিত। ছোটবেলা ক্লান্ত হয়ে বাড়ি ফিরতেন তাঁতীবাজার, শাঁখারীবাজারসহ পুরান ঢাকার বিভিন্ন মন্দির ঘুরে বেড়িয়ে। আত্মীয়স্বজনরা বাসায় আসতেন। তাদের নিয়ে একসঙ্গে মুখরোচক খাবার খেতেন। এভাবেই মহালয়া থেকে বিসর্জনের প্রতিটি দিন কাটত আনন্দ-উল্লাসে।
মডেল ও অভিনেত্রী সেমন্তী সৌমির কথায়, পূজা মানেই স্মৃতির ঝাঁপি খুলে বসা। চলচ্চিত্রের পর্দায় ভেসে ওঠা দৃশ্যের মতো ফের দেখা নেওয়া আনন্দমাখা অতীতকে। যার পুরোটাই শৈশব-কৈশোর ঘিরে রচিত। তখন পূজা মানেই ছিল সুন্দর জামা-কাপড় পরে মণ্ডপে ছুটে যাওয়া। অপেক্ষায় থাকা, কখন প্যান্ডেল থেকে ভেসে আসবে ঢাকের প্রথম তালে। সেই শব্দ আজও কানে বাজে, যেন হৃদয়ে দারুণভাবে গুঞ্জন তুলে যায়। তিনি আরও বলেন, ‘ছোটবেলায় বাবা আমাকে হাত ধরে প্যান্ডেলে তুলে দিতেন, আমি মুগ্ধ হয়ে দেখতাম আলোয় ঝলমলে প্রতিমাকে। সেই দিনগুলো হারিয়ে গেছে। তবু পূজা এলে সেই অতীত জীবন্ত হয়ে ওঠে।
অন্যান্য তারকার মতো নন্দিত নৃত্যশিল্পী পূজা সেনগুপ্তের মুখে শৈশব-কৈশোরের আনন্দের স্মৃতি ফিরে এসেছে। তাঁর কথায়, ছোটবেলা থেকে ঢাকায় পূজা উদযাপন করছেন। একবার পূজা উপলক্ষে গ্রামের বাড়ি চট্টগ্রামে গিয়েছিলেন; যা আজও সুখস্মৃতি হয়ে আছে। তবে পূজার আনন্দ যে একাবের ফিকে হয়ে গেছে, এমনটা মনে করেন না এই নৃত্যশিল্পী। তাঁর কথায়, সব বয়সেরই একটা আলাদা সৌন্দর্য আর আছে আনন্দ উপভোগের ধরন। পূজায় জগন্নাথ হলসংলগ্ন মেলা বেশ উপভোগ করেন। তবে তাঁর কাছে সবচেয়ে আকর্ষণীয় দিক হলো দুর্গা প্রতিমা। প্রতিমার শৈল্পিক দিক ও প্রতিমার ভেতরকার শক্তির ব্যাপারটি বেশি আকর্ষণ করে। ছোটবেলার পূজা প্রবলভাবে মিস করা তাদের দলে আছেন চলচ্চিত্র অভিনেত্রী মন্দিরা চক্রবর্তীও। বিশেষ করে গ্রামের বাড়ি যাওয়ার মুহূর্তগুলো আজও ভুলতে পারেন না। তিনি বলেন, প্রতিবছর গ্রামের বাড়ি যাওয়ার জন্য মুখিয়ে থাকতাম; বিশেষ করে যখন দুর্গা প্রতিমা গড়া হতো। ওই সময় আমার মা, প্রতিমাকে গহনা, শাড়ি পরাতেন। সে কাজে আমার মাকে সাহায্য করতাম। এই কাজটি ছিল সবচেয়ে ভালোলাগার। তাই অপেক্ষায় থাকতাম, কখন প্রতিমা সাজানো হবে। মন্দিরার মতো ছেলেবেলার সুখস্মৃতি আজও বহন করে চলেছেন কণ্ঠশিল্পী বাপ্পা মজুমদার, বাঁধন সরকার পূজা, অভিনেতা মনোজ প্রামাণিক, ইয়াশ রোহানসহ বিনোদন জগতের আরও অনেকে। তাই ফেলা আসা সময়ের মতো এবারে দুর্গাপূজাকেও রাঙিয়ে তুলতে চান বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে।
- বিষয় :
- উৎসব মণ্ডল