ঢাকা রোববার, ১৮ অক্টোবর ২০২৬

আরশের এই সময়

আরশের এই সময়
×
×

বুলবুল ফাহিম

প্রকাশ: ১৫ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৪৬

| প্রিন্ট সংস্করণ

‘বেছে বেছে কাজ করছি। নাটকের গল্প দেখে বুঝেশুনে সেই কাজে যুক্ত হচ্ছি। সত্যি কথা বলতে গল্প ভালো হলে আমি সব ধরনের গল্পে অভিনয় করতে চাই। বিশেষ করে যেসব গল্পে চ্যালেঞ্জ আছে সেই গল্পগুলো এখন আমাকে বেশি টানে। কারণ নাটকের প্রতি প্রবল ডেডিকেশন আছে।’
এভাবেই বলছিলেন তরুণ প্রজন্মের অভিনেতা আরশ খান। এক দশকের বেশি মঞ্চনাটকের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন। মায়ের অনুপ্রেরণা ও পরিবারের সহযোগিতায় তিনি আজ এত দূরে। বারবার হোঁচট খাওয়ার পর থেমে থাকেননি। নিজেকে গড়তে চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। সেই চেষ্টা এখনও চলমান। বর্তমানে টেলিভিশন ও ইউটিউব নাটকে তাঁর সরব উপস্থিতি। মনের মতো গল্প পেলে মাঝেমধ্যে ওটিটিতেও উঁকি দিচ্ছেন। গেল দেড় মাসে মুক্তি পেয়েছে আরশের প্রায় ডজনখানেক নাটক। এর মধ্যে রয়েছে ‘প্রেম হলো দেরিতে’, ‘আহা একি মায়া’, ‘হঠাৎ ঝুম’, ‘তুমি এসেছিলে পর’, ‘আশিক প্রিয়া’, ‘বাজি’, ‘মায়ারে’, ‘পরিণতি’, ‘বউ পালানোর পরে’, ‘অভিযোগ ছিল না’, ‘তুই আমার শুরু’, ‘তুমি এসেছিলে পরশু’, ‘দাদি ভয়ংকর’। এর মধ্যে বেশির ভাগ নাটক পেয়েছে দর্শকপ্রিয়তা। 
এত কিছুর পর বর্তমানের নাটক ও এই ইন্ডাস্ট্রি নিয়ে অনেকের অনেকরকম অভিযোগ। কেউ বলেন, নাটক ভালো হচ্ছে না। আবার কেউ প্রশ্ন তোলেন নাটকের মান নিয়েও। তবে আরশ খানের মতে, ‘আমাদের দেশের মানুষ নানা ধরনের স্বাদের গল্প পেতে ভালোবাসেন। সবার মানসিকতা এক নয়। তবে সবার বাছ-বিচারের স্বাধীনতা আছে। এত কিছুর মাঝে দর্শক আমার কাজ দেখছেন এবং প্রশংসা করছেন। সবচেয়ে বড় কথা হলো–আমি দর্শকের কাছে ভালোভাবে পৌঁছাতে পেরেছি। এটাই বড় প্রাপ্তি।’ আরশের কথায় বোঝা গেল নিজের ক্যারিয়ার নিয়ে এখন বেশ সচেতন তিনি। নতুন কাজের ক্ষেত্রে আরও সচেতন হতে চান। তাঁর ভাষ্য, ‘মাঝে কিছু নাটক করেছি। ভালো-খারাপ দুই প্রতিক্রিয়াই পেয়েছি। দর্শক ভালো বললেও সেটিতে আমার মন ভরেনি। ভালো কাজের ক্ষুধা আমার কখনও মেটে না। যেহেতু সেই সময়টা চলে গেছে। এখন গল্প ও সমাজকে ভালো বার্তা দেওয়ার নাটকগুলোকে আরও বেশি প্রাধান্য দেব।’ 
চলতি বছরের শুরুতে ওটিটিতে মুক্তি পেয়েছে আরশের ওয়েব সিরিজ ‘আঁতকা’, যার পরিচালনায় আরাফাত মহসীন নিধি। এখানে চমৎকারভাবে নিজেকে উপস্থাপন করেছেন তিনি। পেয়েছেন দর্শকের প্রশংসা। তবে ওটিটির ক্ষেত্রে আরও বেশি প্রতিজ্ঞাবদ্ধ তিনি। তাঁর মতে, ‘ওটিটিতে কাজ শুরু করেছি। নিজেকে প্রমাণ করারও চেষ্টা করেছি। দর্শকের অগাধ ভালোবাসা পেয়েছি। তবে এখানে বেশকিছু বিষয় থাকে। প্রতিটি প্ল্যাটফর্মে আলাদা করে একটা নীতি থাকে। এখন ওটিটির জন্য অনেক গল্প আসছে। তবে আমার মনমতো হচ্ছে না। আমি বরাবর চ্যালেঞ্জ নিতে ভালোবাসি। সেই ধরনের গল্প-নির্মাতা পেলে আমি কাজ করব।’ তাঁর কথা শুনে বোঝা গেল, এত কিছুর মাঝে অভিনেতা হিসেবে নিজেকে এখনও পরিপূর্ণ মনে করেন না আরশ খান। প্রতিটি কাজেই নিজের সর্বোচ্চটা দেওয়ার চেষ্টা করেন তিনি। কোনো কাজে সফল হন, আবার কোনো কাজে প্রত্যাশা পূরণ হয় না। তবে সেই অপূর্ণতা নিয়ে এগিয়ে যেতে চান এই অভিনেতা। 
তাঁর মতে, মানুষ যত দিন অপূর্ণ থাকে, তত দিনই বেঁচে থাকার ও নিজেকে নতুন করে গড়ে তোলার সুযোগ থাকে। আরশ খান বলেন, ‘এফোর্টের জায়গায় আমার কমতি নেই। বাড়িয়ে বলার কিছু নেই। কারণ, আমি সব সময় আমার অবস্থান থেকে সর্বোচ্চটা চেষ্টা করেছি প্রতিটি প্রজেক্টে দেওয়ার। কোনো কাজের ক্ষেত্রে পেরেছি, কোনো ক্ষেত্রে পারিনি। সব মিলিয়ে এখনও সেই জায়গায় পৌঁছাতে পারিনি, যেখানে একজন পরিপূর্ণ অভিনেতার থাকা উচিত। কারণ, আমি অপরিপূর্ণ। চেষ্টা ওইভাবেই চলছে, বাকিটা দেখা যাক।’ জীবনে সবকিছু মনের মতো হয় না বলেও মনে করেন আরশ খান। তাঁর মতে, কখনও প্রত্যাশার চেয়ে কম পাওয়া যায়, আবার কখনও মেলে প্রত্যাশার চেয়েও বেশি। কিন্তু সবকিছু একেবারে মনের মতো হওয়া সম্ভব নয়। মানুষ নিজের মতো করে পরিস্থিতি ও প্রাপ্তিকে গ্রহণ করতে শেখে। 
আরশ খান বলেন, ‘পৃথিবীতে কখনও কিছুই মনের মতো হয় না। কখনও সেটি মনের মতো হওয়ার চেয়ে কম হয়, কখনও মনের মতো হওয়ার চেয়ে বেশি হয়। কিন্তু একদম মনের মতো হওয়া সম্ভব নয়। আমরা মনের মতো ভেবে নিই, মনের মতো বানিয়ে নিই। কারণ, সৃষ্টির সময় থেকে সৃষ্টিকর্তা আমাদের ভেতরে এমন কিছু উপাদান দিয়ে রেখেছেন, যার কারণে আমরা পরিস্থিতির সঙ্গে মানিয়ে নিতে পারি। মানুষ অনেকটা পানির মতো। পাত্রের অবস্থান, আকার ও নকশা বুঝে সে নিজেকে সেভাবে মানিয়ে নেয়।’ অভিনয় জীবন ও নিজের দায়বদ্ধতা নিয়ে আরশ খানের কথায় উঠে এসেছে প্রতিনিয়ত ছাড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা। পরিপূর্ণতার পেছনে ছোটা নয়; বরং অপূর্ণতা নিয়ে সামনে এগিয়ে যাওয়াকে জীবনের অংশ হিসেবে দেখছেন এই অভিনেতা। 

আরও পড়ুন

×