সিনেমার নতুন জুটি
আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েল
বুলবুল ফাহিম
প্রকাশ: ০৮ অক্টোবর ২০২৬ | ০৭:৫৪
| প্রিন্ট সংস্করণ
নাটকে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অল্প সময়ে দর্শকের নজর কেড়েছেন অভিনেত্রী কেয়া পায়েল। সম্প্রতি ‘এটা আমাদের গল্প’ ধারাবাহিকে অভিনয় করে নতুন করে আলোচনায় আসেন তিনি। সেই সাফল্যের রেশ কাটতে না কাটতে খুলে যায় নতুন সম্ভাবনার দরজা। এবার নাটকের গণ্ডি পেরিয়ে ওটিটিতে অভিষেক। সুযোগটি লুফে নিতে দেরি করেননি অভিনেত্রী। কারণ, প্রথম ওয়েব সিনেমায় সহশিল্পী হিসেবে পেয়েছেন তারকা অভিনেতা আরিফিন শুভকে। তাদের নিয়ে নির্মিত হয়েছে নতুন ওয়েব সিনেমা ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। ওটিটি প্ল্যাটফর্ম চরকিতে গতকাল বুধবার রাতে মুক্তি পেয়েছে সিনেমাটি।
বিয়ের পর একটি দম্পতির সম্পর্ক কোন ধরনের টানাপোড়েনের মধ্য দিয়ে এগোয় তা নিয়ে ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ তৈরি হয়েছে।
সিনেমাটি নিয়ে উচ্ছ্বসিত পায়েল বলেন, ‘এটি আমার প্রথম ফিল্ম। অসাধারণ একজন পরিচালক পেয়েছি। তার থেকে আনন্দের বিষয় হলো, আমার সঙ্গে আমার হিরো আরিফিন শুভ ভাইয়া আছেন। বড়পর্দায় তাঁর সঙ্গে কাজ করার ইচ্ছে ছিল। সেটি যে আমার জীবনের অভিষেক ফিল্ম হবে তা কখনও ভাবিনি। সব মিলিয়ে আমার কাছে খুবই স্বপ্নের মতো একটি প্রজেক্ট এটি।
কেয়া পায়েলের কথায় বোঝা গেল দীর্ঘদিন এমন একটি কাজের জন্য অপেক্ষায় ছিলেন তিনি। সে কারণে সিনেমাটির প্রস্তাব পাওয়া মাত্রই রাজি হয়ে গেছেন তিনি। বিশেষ করে তরুণ এক মেয়ের সঙ্গে ৩৫-৩৭ বয়সী এক যুবকের প্রেম-বিয়ের বিষয়টি চ্যালেঞ্জ নিয়ে করতে হয়েছে তাকে। তাই অভিনেত্রীর কাছে প্রশ্ন–চরিত্রটি ভালোভাবে ফুটিয়ে তুলতে নিজের জায়গা থেকে চেষ্টা কতটা ছিল। জবাবে বললেন, ‘‘ওটিটিতে কাজের জন্য অনেক প্রস্তাব পেয়েছি। গল্পের কারণে সেগুলোতে যুক্ত হইনি। ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’-এর মতো গল্পের জন্য আমি অপেক্ষায় ছিলাম। আমার জায়গা থেকে চেষ্টা করেছি কাজটি ভালোভাবে করার, চরিত্রটি ভালোভাবে করার। বাকিটা আমি চাইব, আমার দর্শক, যারা আমাকে ভালোবাসেন, তারা দেখুন। বাকি বিবেচনা তারা করুন। মূলত এখানে বিয়ের আগে ও এর পরের চ্যাপ্টারটা কী, সেটি নিয়ে কি আমরা আদৌ ভাবি? ওই চ্যাপ্টারটা নিয়েই আসলে সিনেমার গল্প।’’ বাস্তব জীবনে সম্পর্ক টিকিয়ে রাখার ক্ষেত্রে বিশ্বাস ও সম্মানকে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মনে করেন কেয়া। তিনি বলেন, ‘বিয়ে বা সম্পর্কে সবচেয়ে বড় দরকার হচ্ছে বিশ্বাস এবং দুজন মানুষের মধ্যে সম্মান।’ তাঁর মতে, বিয়ের পর যে কোনো সমস্যার মুখোমুখি হওয়া স্বাভাবিক। যে কোনো সমস্যা তো হতেই পারে এবং সমস্যা হবে, এটা খুব স্বাভাবিক। সেই সমস্যাগুলোকে ফেস করে সেটি নিয়ে সারা জীবন পার করাই আমার মনে হয় বিয়ে।’
জীবনের প্রেমের সময়, এরপর পরিণত হওয়ায় পর কী কী পরিবর্তন আসে তা নিয়ে সিনেমার গল্প বুনন। সিনেমার গল্প, চিত্রনাট্য, সংলাপ রচয়িতা ও নির্মাতা জাহিদ প্রীতম। এই গল্পের জন্য আরিফিন শুভ ও কেয়া পায়েলকে উপযুক্ত মনে করেছেন তিনি। নির্মাতা বলেন, ‘অভিনেত্রী কেয়া পায়েলের সঙ্গে আমার এর আগে কাজ হলেও আরিফিন শুভ ভাইয়ের সঙ্গে আমার প্রথম কাজ এটি। তিনি খুবই উৎসাহ প্রদানকারী। শুভ ভাই শুটিংয়ের সময় সেটে ফোন আনেন না, মনিটর দেখেন না। সেটে ব্রেক টাইমে নিজের মতো থাকেন, গান শোনেন, বই পড়েন। অন্যদিকে কেয়া পায়েল সামাজিক মাধমে বেশ সক্রিয় এবং অনামিকা চরিত্রটিও এমন। তাই আমার কাছে মনে হয়েছে সিনেমার এই দুটি চরিত্রের জন্য খুবই ভালো কাস্টিং হয়েছে।’
দেশের ওটিটিতে অনেক দিন পর আসছে আরিফিন শুভ অভিনীত কোনো কনটেন্ট। যদিও চিত্রনায়কের কাছে প্রতিটি কাজই তাঁর ‘কামব্যাক’ এবং প্রতিটি কাজই তাঁর কাছে নতুন নতুন চ্যালেঞ্জ। আরিফিন শুভকে পর্দায় আরও বেশি দেখতে চান দর্শকরা, কিন্তু সেই আশা পূরণ হচ্ছে না। আরিফিন শুভ জানান, তাঁর কাছে প্রতিটি কাজ ‘কামব্যাক’ মনে হয়। সব সময় নতুন কিছু করার চেষ্টা করেন। সবকিছু মিলে নিজেকে নিখুঁত মনে হলে সেই কাজে যুক্ত হন। এটিও ছিল তেমনই একটি কাজ।
দাম্পত্য জীবনের চেনা গল্পকে একটু ভিন্নভাবে পর্দায় তুলে ধরেছে ওয়েব সিনেমা ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’। সিনেমাটি নিয়ে অভিনেতা আরিফিন শুভর কণ্ঠেও শোনা গেল উচ্ছ্বাস। তাঁর মতে, এই গল্পের বিশেষত্ব হলো দাম্পত্য জীবনের এমন এক সময়কে তুলে ধরা, যখন সম্পর্কের ভেতর থেকে ‘হ্যাপি’ শব্দটি যেন হারিয়ে যায়।
আরিফিন শুভ বলেন, ‘হ্যাপিলি ম্যারিড’ শুরু হয় হ্যাপি শব্দটা ফুরিয়ে গেলে। আমার জন্য এটি দারুণ একটি কাজ। এত ভালো গল্প ও দারুণ সব শিল্পীর সঙ্গে কাজের অভিজ্ঞতাও অসাধারণ। বিশেষ করে এই সিনেমার মাধ্যমে কেয়া পায়েলের ওটিটিতে অভিষেক হলো। সে আগে থেকেই ভালো অভিনয় করে, এখানেও দারুণ অভিনয় করেছে। শুধু কেয়া পায়েল নয়, এখানে যারা কাজ করেছেন, সবার সঙ্গে কাজ করে আনন্দ পেয়েছি।’ সিনেমাটির একটি সংলাপের কথা উল্লেখ করে শুভ বলেন, ‘এই সিনেমায় একটি লাইন আছে হ্যাপিলি ম্যারিড শুরু হয় হ্যাপি শব্দটা ফুরিয়ে গেলে। দাম্পত্য জীবন শুরু হয় হ্যাপি শব্দটা ফুরিয়ে গেলে। এমন অনেক কিছুই পাওয়া যাবে আমাদের এই প্রজেক্টে।’
নিজের চরিত্র ও কাজের অভিজ্ঞতা প্রসঙ্গে শুভর ভাষ্য, ‘আমার জন্য চ্যালেঞ্জিংয়ের থেকেও বড় কথা হলো–রনি, জাহিদ প্রীতম, নুসরাত ইমরোজ তিশা বা যারা মূলত কাজটি তৈরি করেছেন, তারা যখন আমাকে এই সুযোগটা দেন, সেটাই আসলে বড় বিষয়। কতটা কী করতে পারছি, তার চেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ হলো ওই সুযোগটা পাওয়া।’
- বিষয় :
- বিনোদন