সংখ্যায় নয়, মানে বিশ্বাসী রাজ
শরীফুল রাজ
নন্দন প্রতিবেদক
প্রকাশ: ০৫ নভেম্বর ২০২৬ | ০৭:৪৮
| প্রিন্ট সংস্করণ
অভিনয়ে নিজেকে বারবার ভাঙা-গড়ার চেষ্টা করেন শরীফুল রাজ। চরিত্রের বৈচিত্র্য, গল্প নির্বাচনে সচেতনতা আর কাজের প্রতি আগ্রহ–সব মিলিয়ে নিজের একটি স্বতন্ত্র অবস্থান তৈরি করেছেন এই অভিনেতা। সংখ্যার চেয়ে কাজের মানকে বেশি গুরুত্ব দেন তিনি। তাই পর্দায় তাঁর উপস্থিতি হয়তো নিয়মিত নয়, কিন্তু প্রতিটি কাজের মধ্য দিয়ে নতুন কিছু করার চেষ্টা থাকে। প্রথম সিনেমা থেকে অভিনয়ের প্রতি যে ভালোলাগা তৈরি হয়েছিল, সেটিই এখনও তাঁকে এগিয়ে নিচ্ছে। তবে অভিনয়ের পাশাপাশি সাম্প্রতিক সময়ে নানা আলোচনা ও বিতর্কেও উঠে আসছে তাঁর নাম। বিশেষ করে ‘ঠিকানা’ সিনেমার শিডিউল নিয়ে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠানের আইনি নোটিশ নতুন করে আলোচনায় এনেছে এই অভিনেতাকে।
প্রথম সিনেমার শিক্ষা
প্রথম সিনেমার অভিজ্ঞতাকে নিজের অভিনয়জীবনের সবচেয়ে বড় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান মনে করেন রাজ। তাঁর ভাষায়, ‘আমার সবটাই প্রথম সিনেমা থেকে শেখা। রনি ভাই [রেদওয়ান রনি] হাত ধরে ধরে শিখিয়েছেন। শুটিংয়ে গিয়ে অনেক কিছু জানলাম, বুঝলাম, শিখলাম।’ প্রথমবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়ে শুধু অভিনয় নয়, সিনেমা নির্মাণের নানা দিক সম্পর্কেও ধারণা তৈরি হয়েছিল তাঁর। সেই অভিজ্ঞতা থেকে আরও সিনেমায় কাজ করার আগ্রহ জন্মায়। অভিনয়কে পেশা হিসেবে নেওয়ার সিদ্ধান্ত অবশ্য একদিনে আসেনি। ইচ্ছা থাকলেও এই পেশার ভবিষ্যৎ নিয়ে একটা সময় দ্বিধা ছিল। পরে অভিনয়ের মধ্যেই নিজের ভালো লাগার জায়গাটি খুঁজে পান। এখন কাজটিকে উপভোগ করছেন তিনি। তাঁর মতে, সাম্প্রতিক সময়ে দেশের সিনেমায় ভালো কাজ হচ্ছে। ফলে শুধু বেশি সিনেমায় অভিনয় করাই তাঁর লক্ষ্য নয়; বরং পছন্দের গল্প ও চরিত্রে নিজেকে যুক্ত রাখতে চান।
সিনেমা হল ও দর্শক নিয়ে ভাবনা
দেশের সিনেমা হলের বর্তমান পরিস্থিতি নিয়েও নিজের পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেছেন রাজ। তাঁর মতে, সময়ের সঙ্গে দর্শকের সিনেমা দেখার অভ্যাস বদলেছে। এখন আর শুধু একটি হল থাকলেই দর্শক সেখানে যাবেন, এমন নয়। হলের পরিবেশ, পরিচ্ছন্নতা, শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা–সবই গুরুত্বপূর্ণ। ধুলাবালু, জরাজীর্ণ পরিবেশ কিংবা প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধার অভাব থাকলে দর্শক কেন সিনেমা দেখতে যাবেন, এমন প্রশ্নও তুলেছেন তিনি। তবে শুধু হলের পরিবেশ উন্নত করলেই সমস্যার সমাধান হবে না। দর্শককে নিয়মিত সিনেমা হলে ফেরাতে ভালো সিনেমার বিকল্প নেই। তাঁর মতে, পরিকল্পিতভাবে সারাবছর সিনেমা মুক্তির চর্চা চালু রাখতে হবে। এখন ঈদকেন্দ্রিক মুক্তির প্রবণতা বাড়ছে। অথচ বছরের অন্য সময়েও সিনেমা মুক্তি পাওয়া জরুরি। ঈদে একসঙ্গে অনেক সিনেমা মুক্তি পেলে প্রতিযোগিতার চাপও তৈরি হয়।
আন্তর্জাতিক দর্শকের সামনে
সম্প্রতি ‘বনলতা এক্সপ্রেস’ নিয়ে হংকং সফর করেছেন শরীফুল রাজ। আন্তর্জাতিক উৎসবে দেশের সিনেমা প্রদর্শনের অভিজ্ঞতা তাঁর কাছে ছিল বিশেষ কিছু। বিভিন্ন দেশের দর্শক সিনেমাটি দেখেছেন, গল্প ও প্রেক্ষাপট নিয়ে প্রশ্ন করেছেন। তাদের আগ্রহ থেকেই বুঝেছেন, বাংলাদেশের সিনেমা সম্পর্কে আন্তর্জাতিক দর্শকের জানার কৌতূহল রয়েছে।
শাকিব খানের সঙ্গে অভিনয়ে আপত্তি নেই
সহশিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রেও খোলা মনোভাবের কথা জানিয়েছেন রাজ। সামাজিক মাধ্যমের বিভিন্ন সিনেমাসংশ্লিষ্ট গ্রুপে প্রায়ই দর্শকরা তাঁকে চিত্রনায়ক শাকিব খানের সঙ্গে একই সিনেমায় দেখার আগ্রহ প্রকাশ করেন। এ প্রসঙ্গে রাজের বক্তব্য, শাকিব খান একজন গুণী শিল্পী। প্রযোজক ও পরিচালক তাদের দুজনকে নিয়ে ভাবলে তাঁর আপত্তি নেই, বরং সবার সঙ্গে কাজ করতে চান তিনি। একইভাবে অভিনেত্রী নাজিফা তুষির সঙ্গেও নতুন সিনেমায় অভিনয়ের আগ্রহ রয়েছে তাঁর। তাদের প্রথম সিনেমার পর দীর্ঘ সময় পেরিয়ে গেলেও আর একসঙ্গে কাজ করা হয়নি। রাজের ভাষায়, তারা বন্ধু। তাদের নিয়ে নতুন করে ভাবতে হবে প্রযোজক ও পরিচালকদের। অর্থাৎ সহশিল্পী নির্বাচনের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কোনো গণ্ডিতে নিজেকে আটকে রাখতে চান না তিনি। ঈদুল আজহার একটি সিনেমায় অভিনয়ের কথাও জানিয়েছেন রাজ। যদিও সিনেমাটি নিয়ে বিস্তারিত কিছু বলতে চাননি। সব ঠিক থাকলে শিগগিরই শুরু হবে শুটিং।
‘ঠিকানা’ নিয়ে আইনি নোটিশ
অভিনয় ও সিনেমা নিয়ে ইতিবাচক পরিকল্পনার মধ্যেই ‘ঠিকানা’ সিনেমাকে ঘিরে নতুন জটিলতায় পড়েছেন রাজ। বারবার শিডিউল চেয়েও না পাওয়ার অভিযোগে রিয়েল এনার্জি প্রোডাকশনের পক্ষ থেকে তাঁর বিরুদ্ধে আইনি নোটিশ পাঠানো হয়েছে। প্রযোজক শাহরিন আক্তারের অভিযোগ, আগামী ঈদুল আজহায় ‘ঠিকানা’ মুক্তির পরিকল্পনা রয়েছে। চুক্তি অনুযায়ী, এ সময় রাজ অন্য কোনো সিনেমায় অভিনয় করতে পারবেন না। কিন্তু তিনি একই সময়ে মুক্তির পরিকল্পনায় থাকা আরও দুটি সিনেমায় কাজের জন্য শিডিউল দিয়েছেন, অথচ ‘ঠিকানা’র শিডিউল দিচ্ছেন না। অন্যদিকে পরিচালক জুবাইর ইবনে বকর অভিযোগ করেছেন, শিডিউলের পাশাপাশি রাজ অর্থও দিচ্ছেন না। এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন রাজ। তাঁর দাবি, শিডিউল দিতে অস্বীকৃতি জানানোর কোনো ঘটনা ঘটেনি। এ ছাড়া ঈদে ‘ঠিকানা’ মুক্তি পাবে বলে অন্য কোনো সিনেমায় কাজ করা যাবে না, এমন শর্তও চুক্তিতে নেই। তাঁর ভাষায়, ‘আমার দীর্ঘ ক্যারিয়ারে টাকা নিয়ে শিডিউল দেইনি, এমন কেউ বলতে পারবে না। এবারও শিডিউল দিতে চাচ্ছি না, এমন কোনো কিছু ঘটেনি।’
রাজের অভিযোগ, শুরু থেকেই প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ও সংশ্লিষ্টদের আচরণে তিনি হতাশ। শিডিউল নিয়ে আলোচনা চলার মধ্যেই আইনি নোটিশ পাঠানোর বিষয়টি তাঁকে বিস্মিত করেছে। তাঁর মতে, ভিত্তিহীন অভিযোগ তুলে পেশাদারিত্ব ও সম্মান নিয়ে প্রশ্ন তোলা হচ্ছে। এ ঘটনায় এখন আইনিভাবেই কথা বলার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন
তিনি।
- বিষয় :
- বিনোদন