ট্রেনের ধাক্কায় প্রাণহানি
যত্রতত্র সেলফি নয়
ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ১৭ ফেব্রুয়ারি ২০২০ | ১৩:৫৪
উচ্ছ্বাস কিংবা আনন্দ যখন হেঁয়ালিতে পরিণত হয় কিংবা অসচেতনতা যখন মানুষকে বেভুলা করে দেয়, তখন অনেক ক্ষেত্রেই বিপদ কিংবা বিপর্যয় জীবনে কত মর্মান্তিকভাবে হানা দিতে পারে, এমন অনেক দৃষ্টান্ত আমাদের সামনে রয়েছে। সোমবার সমকালসহ বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে সেলফি তুলতে গিয়ে রাজধানীর কুড়িলে ট্রেনের ধাক্কায় দুই বন্ধুর প্রাণহানির খবরটি এমনই মর্মন্তুদ দৃষ্টান্ত। এ রকম ঘটনা ইতোপূর্বে আরও ঘটেছে; তবুও জনসমাজে, বিশেষ করে তারুণের সম্বিৎ ফেরেনি। স্কুলে যাওয়ার কথা বলে পাঁচ বন্ধু বেড়াতে চলে গিয়েছিল কুড়িল বিশ্বরোড এলাকায়। রেললাইনে দাঁড়িয়ে মোবাইল ফোনে 'সেলফি' তুলছিল তারা।
ছবি তোলার উচ্ছ্বাসে তারা এতটাই মত্ত ছিল, ট্রেনের শব্দ তাদের কর্ণকুহরে ঢোকেনি। মুহূর্তে যা হওয়ার তা-ই হয়ে গেল। অসাবধানতা-অসচেতনতায় নিভে গেল দুটি বাড়ন্ত জীবনপ্রদীপ। 'সেলফি' বা 'নিজস্বী তোলা' এই শব্দগুলো অভিধানে এখনও ঠাঁই না পেলেও এর অস্তিত্ব ক্রমেই কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে, এ নিয়ে আমরা উদ্বিগ্ন না হয়ে পারি না। পাহাড়ে, নদীতে কিংবা সড়কের ধারে 'সেলফি' তুলতে গিয়ে এমন অঘটনের তালিকা ক্রমে দীর্ঘ হচ্ছে। 'সেলফি'র নেশা অনেক ক্ষেত্রে তৈরি করছে মৃত্যুফাঁদ। প্রযুক্তির আশীর্বাদ-অভিশাপ নিয়ে নানারকম কথা হয়। আমরা মনে করি, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি আশীর্বাদ নাকি অভিশাপ হবে, তা নির্ভর করবে তা কোন পথে ব্যবহার করা হচ্ছে এর ওপর।
একই সঙ্গে কথা হলো- আশীর্বাদটা যদি আমরা সাদরে গ্রহণ করতে পারি, তাহলে অভিশাপটা প্রত্যাখ্যান করতে সচেতনতার পরিচয় দিতে ব্যর্থতার চিত্র কেন অনেক ক্ষেত্রেই মর্মপীড়ার কারণ হয়ে দাঁড়াচ্ছে? যে কোনো অপপ্রবণতা কিংবা নিজস্বী ভুলের মত্ততা রুখে দিতে পারে সচেতনতা-সাবধানতা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পর্দা মানুষে মানুষে বন্ধন নিবিড় করছে তা অসত্য নয়; কিন্তু কোনটা উচিত আর কোনটা অনুচিত, তা নিজেকেই নির্ধারণ করতে হবে। কোনো আনন্দ-বিনোদন-উচ্ছ্বাসই মানসিক প্রশান্তির বদলে যেন জীবনের জন্য বৈরী না হয়, এর জন্য দরকার সচেতনতা বোধ পুষ্ট করা। আমরা দুই বন্ধুর এমন অনাকাঙ্ক্ষিত মৃত্যুতে শোক ও সমবেদনা জানাই। বন্ধ হোক এই শখ বা হেঁয়ালির অপরিণামদর্শী খেলা।
- বিষয় :
- ট্রেনের ধাক্কা
- প্রাণহানি
- সেলফি
