ঢাকা মঙ্গলবার, ৩০ জুন ২০২৬

করোনাভাইরাস

প্রস্তুতিতে যেন ফাঁক না থাকে

প্রস্তুতিতে যেন ফাঁক না থাকে
×

ছবি: ইউসূফ আলী

--

প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০ | ১৩:৩৮

করোনাভাইরাস কেবল ছয় মহাদেশেই ছড়িয়ে যায়নি, দেশে দেশে কীভাবে 'মানবিক সংকট' তৈরি করছে, শনিবার সমকালে শীর্ষ প্রতিবেদনে তা স্পষ্ট। আমরা জানি, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা ইতোমধ্যে এই পরিস্থিতিকে মহামারি ঘোষণা করেছে। একই সঙ্গে বিভিন্ন দেশ সংগনিরোধ ব্যবস্থা জাতীয় পর্যায়ে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে। পর্যটক প্রবেশ স্থগিত করা হয়েছে অনেক দেশেই। আমরা দেখছি, পরিস্থিতির ভয়াবহতা উপলব্ধি করে মাত্র কিছুদিন আগেও সার্ক নিয়ে অনুৎসাহী ভারত সার্কভুক্ত দেশগুলোর নেতাদের মধ্যে ভিডিও কনফারেন্সের প্রস্তাব দিয়েছে। আমরা মনে করি, করোনা মোকাবিলায় বাংলাদেশের প্রস্তুতিতেও বিন্দুমাত্র ফাঁক রাখার অবকাশ নেই। এক্ষেত্রে যেমন অভ্যন্তরীণ মোকাবিলার কৌশল নিতে হবে, তেমনি বৈশ্বিক পরিস্থিতির সঙ্গে তাল মিলিয়ে কাজ করতে হবে আন্তর্জাতিকভাবে। অস্বীকার করা যাবে না যে, গত কয়েক সপ্তাহে আমরা একাধিকবার এই সম্পাদকীয় স্তম্ভে একই তাগিদ দিয়েছি। কিন্তু পরিস্থিতির ভয়াবহতাই আমাদের একই তাগিদ আবারও দিতে বাধ্য করছে। এক্ষেত্রে বিমান, স্থল ও নৌবন্দরগুলোতে পর্যাপ্ত পরীক্ষা ছাড়াও বিদেশফেরত যাত্রীদের পর্যবেক্ষণে রাখতেই হবে। দুর্ভাগ্যবশত বিবিসিকে উদ্ৃব্দত করে সমকালে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে আমরা দেখছি যে, গত দুই মাসে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত দেশগুলো থেকে কমবেশি সাড়ে পাঁচ লাখ বাংলাদেশি নাগরিক দেশে ফিরেছেন। ২০টি জেলায় বিশেষ ব্যবস্থায় 'হোম কোয়ারেন্টাইন' বা বাড়িতেই সংগনিরোধ অবস্থায় রাখা হয়েছে মাত্র কয়েকশ'জনকে। আমরা স্বীকার করি, বাংলাদেশের মতো ঘনবসতিপূর্ণ দেশে বাড়িতে কিংবা হাসপাতালে সবার জন্য সংগনিরোধ ব্যবস্থা সহজ নয়। প্রবাস থেকে ফিরে আসা অনেক নাগরিকের এমন সংগতি না-ও থাকতে পারে। কিন্তু তাদের পর্যবেক্ষণে রাখার বিকল্পও নেই।

এক্ষেত্রে স্বাস্থ্য বিভাগের পাশাপাশি সরকারের অন্যান্য বিভাগকেও এগিয়ে আসতে হবে। এগিয়ে আসতে পারে সামাজিক, সাংস্কৃতিক সংগঠন ও উন্নয়ন সংস্থাগুলোও। কিন্তু এই উদ্যোগগুলো যেন আতঙ্ক সৃষ্টি না করে। করোনাভাইরাস নিয়ে সচেতনতামূলক বার্তার পাশাপাশি এটাও জনসাধারণকে জানাতে হবে যে, সংগনিরোধ থাকা মানেই করোনা আক্রান্ত হওয়া নয়। আর করোনাভাইরাস আক্রান্ত হলেই সব শেষ হয়ে যায় না। এর যেমন উপযুক্ত চিকিৎসা রয়েছে, তেমনই রয়েছে নিরাময়ের বিপুল হার। আমরা দেখেছি, বাংলাদেশে প্রথম শনাক্ত হওয়া তিনজনের একজন ইতোমধ্যে সুস্থ হয়ে বাড়িতে ফিরে গেছেন। বাকি দুইজনও সম্পূর্ণ সুস্থ ঘোষিত হওয়ার দ্বারপ্রান্তে। ইতোমধ্যে দুই দফা পরীক্ষা করে তাদের শরীরে ভাইরাসটির অস্তিত্ব পাওয়া যায়নি। আশার কথা, বিমানবন্দরগুলোতে করোনা পরীক্ষা ও পর্যবেক্ষণের গুণগত তৎপরতা বেড়েছে। মানুষও দৃশ্যত সচেতন হয়েছে। কিন্তু একটি সন্তোষজনক সংগনিরোধ ব্যবস্থা গড়ে তুলতে এবং করোনাভাইরাস মোকাবিলায় সব পক্ষকে সক্রিয় করতে যেতে হবে আরও অনেকটা পথ। তার আগ পর্যন্ত আমাদের যতটুকু সামর্থ্য রয়েছে, সেখানে ছাড় দেওয়ার অবকাশ নেই। 

আরও পড়ুন

×