ছিনতাই মামলা নিতে অনাগ্রহ
অপরাধ ঢাকতে এ কোন কৌশল
ফাইল ছবি
--
প্রকাশ: ১৪ মার্চ ২০২০ | ১৩:৩৮
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় ছিনতাইকারীদের অপতৎপরতা বেড়ে গেছে। শনিবার সমকালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ঢাকার বিভিন্ন থানায় ভুক্তভোগীরা ছিনতাই মামলা করতে গেলে পুলিশ ঘটনা আড়াল করতে হারানোর জিডি করতে বলে। এমনকি অনেক ক্ষেত্রেই চাপ প্রয়োগ করে হারানোর জিডি করতে বাধ্য করে! অপরাধ ধামাচাপা দিতে পুলিশের এমন অপকৌশল প্রশ্নবোধক। ভুক্তভোগী অনেকেই থানা পুলিশের এমন আচরণের কারণে আইনি প্রতিকার চাইতে থানায় যেতেই রাজি নন। ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে জবাবদিহির বাইরে থাকতে থানা পুলিশের এমন কর্মকাণ্ড আমাদের উদ্বিগ্ন না করে পারে না। থানা পুলিশ অপরাধ চাপা দিয়ে স্বস্তির পথ খুঁজলেও জননিরাপত্তাহীনতার চিত্র ক্রমেই প্রকট হচ্ছে। 'দুষ্টের দমন শিষ্টের পালন' পুলিশের কর্তব্য। ছিনতাইকারীর হাতে প্রাণহানি কিংবা বড় অঙ্কের অর্থ হাতিয়ে না নিলে ছিনতাইকারীদের বেপরোয়া হয়ে ওঠার বিষয়টি আড়ালেই থেকে যাচ্ছে। আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সদস্যদের প্রতি এই যে অনাস্থা ক্রমেই প্রকট হচ্ছে, তা শুভ লক্ষণ নয়। এর ফলে শুধু আইনের শাসন প্রতিষ্ঠায়ই প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হচ্ছে না, এর বহুমুখী বিরূপ প্রভাব বাড়ছে সমাজে। ছিনতাইয়ের ঘটনায় মামলা না নিয়ে জিডি কেন নেওয়া হলো মিরপুরের একটি ঘটনায় সমকাল প্রতিবেদকের এমন প্রশ্নের জবাবে সংশ্নিষ্ট থানার ওসি যেসব খোঁড়া যুক্তি দেখিয়েছেন তা শুধু আইনের লঙ্ঘন নয়, স্বেচ্ছাচারিতারও নামান্তর বটে। এই যদি অবস্থা হয় তাহলে ছিনতাইকারীদের বিপজ্জনক থাবা থেকে জনসাধারণ কীভাবে রক্ষা পেতে পারে?
ছিনতাইকারীদের অপতৎপরতা সম্পর্কে পুলিশের ধারণা আছে। কখনও কখনও পুলিশ সূত্রেই আমরা জানতে পারি কোন কোন এলাকায় ছিনতাইকারীদের দৌরাত্ম্য বেশি। বিদ্যমান পরিস্থিতিতে পুলিশের টহল বাড়িয়ে সক্রিয়তার দৃশ্যমান কার্যকারিতার পাশাপাশি মামলা গ্রহণ ও গ্রেপ্তার অভিযান চালানো এবং অপরাধীদের শাস্তি নিশ্চিত করা জরুরি। ছিনতাইকারীরা যদি বুঝতে পারে তারা নজরদারির মধ্যে আছে এবং ছিনতাই করে পার পাওয়া যাবে না তাহলে এই দুস্কর্ম হ্রাস পেতে পারে। নিশ্চিত হতে পারে জননিরাপত্তা। আর পুলিশের প্রতি আস্থার সংকট কাটাতে পুলিশকেই উদ্যোগী হতে হবে।
- বিষয় :
- ছিনতাই মামলা
- অপরাধ
