জাটকা নিধন
প্রশাসনের নজরদারি বাড়ূক
--
প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০ | ১৩:১৬
আমাদের জাতীয় সম্পদ ইলিশের উৎপাদন ও সুরক্ষা নিশ্চিত করতে সরকার প্রতিবছর প্রজননকালে জাটকা ধরতে নিষেধাজ্ঞা জারি করে খাদ্য সহায়তা দেওয়াসহ জেলেদের জন্য নানা প্রণোদনা প্রদান করে। মার্চ ও এপ্রিলে নিষেধাজ্ঞার এ সময়েই দুঃখজনকভাবে আমরা দেখছি 'মেঘনায় জাটকা শিকারের মহোৎসব'। শুক্রবার সমকালে এ সংক্রান্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, প্রতিদিন লক্ষ্মীপুরের আলেকজান্ডার থেকে চাঁদপুরের ষাটনল এলাকার একশ' কিলোমিটার পর্যন্ত মেঘনা নদীর ইলিশের অভয়াশ্রম ঘোষিত এলাকায় নির্বিচারে চলছে জাটকা নিধন। একই সঙ্গে তেঁতুলিয়া নদীর ১০০ কিলোমিটার এবং মেঘনার ৯০ কিলোমিটার এলাকায় জাটকা ধরা নিষিদ্ধ হলেও তা মানা হচ্ছে না। আমরা বিস্মিত যে, নিষেধাজ্ঞার এ সময়ে কীভাবে অবাধে এ বেআইনি কাজটি চলছে! আমরা মনে করি, ইলিশ ধরার নিষিদ্ধ সময়ের আগে প্রশাসনের তরফে কেবল মাছ ধরা থেকে বিরত থাকতে জেল-জরিমানার হুমকি-ধমকি দেওয়া কিংবা মাইকিং করাই যথেষ্ট নয়, বরং এ সময়ের মধ্যে কেউ মাছ ধরছে কিনা তার সার্বক্ষণিক তদারকিও জরুরি। মাঝেমধ্যে অভিযান চালিয়ে জরিমানা করে যে জাটকা সুরক্ষা সম্ভব নয়, এ দুটি ঘটনাই তার প্রমাণ। তবে মেঘনায় জাটকা ধরার পেছনে আড়ত সংশ্নিষ্ট দাদনদারদের চাপের যে অভিযোগ প্রতিবেদনটিতে এসেছে, তাও খতিয়ে দেখা দরকার।
নির্দিষ্ট সময়ে সরকারের খাদ্য সহায়তা না পেয়ে আড়তদারদের কাছ থেকে জেলেরা অগ্রিম টাকা নেওয়ার যে অভিযোগ উঠেছে, সেটিও দুঃখজনক। আমরা দেখেছি, লক্ষ্মীপুর জেলায় প্রায় ৫২ হাজার জেলে থাকলেও নিবন্ধিত রয়েছেন সাড়ে ৪৩ হাজার। নিষেধাজ্ঞার দুই মাসে প্রত্যেক জেলেকে ৪০ কেজি হারে খাদ্য সরবরাহ করার কথা। কিন্তু প্রায় তিন সপ্তাহ পেরিয়ে গেলেও সবার খাদ্য সরবরাহ কেন নিশ্চিত করা যায়নি? আমরা জানি, জাটকা নিধন বন্ধ না হলে কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় ইলিশ উৎপাদন সম্ভব নয়। আর ইলিশ উৎপাদন বাধাগ্রস্ত হলে তা অর্থনীতির জন্যও বিরাট ক্ষতি। বিষয়টি আমলে নিয়ে এ ক্ষেত্রে সংশ্নিষ্ট সবার দায়িত্বশীল আচরণ প্রয়োজন। এ জন্য নাগরিক হিসেবে জাটকা যেমন আমাদের কেনা উচিত হবে না, তেমনি জেলেদের প্রণোদনা নিশ্চিত করে জাটকা নিধন বন্ধ করতে প্রশাসন সজাগ থেকে জাতীয় দায়িত্ব পালন করবে- এটি আমাদের প্রত্যাশা।
- বিষয় :
- জাটকা নিধন
