ঢাকা বুধবার, ০১ জুলাই ২০২৬

উপনির্বাচন

পরিস্থিতি ইসির বিবেচনায় থাকুক

পরিস্থিতি ইসির বিবেচনায় থাকুক
×

চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং

--

প্রকাশ: ২০ মার্চ ২০২০ | ১৩:১৭

করোনাভাইরাসে বিশ্ব পরিস্থিতি টালমাটাল। বাংলাদেশের পরিস্থিতিও উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার বাইরে নয়। এই ভাইরাসের সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার সামাজিক, রাজনৈতিক, সাংস্কৃতিকসহ সব ধরনের অনুষ্ঠান বন্ধ রাখতে নির্দেশনা জারি করেছে। কিন্তু এ বাস্তবতার মধ্যেই আজ ঢাকা-১০, গাইবান্ধা-৩ ও বাগেরহাট-৪ সংসদীয় আসনে ভোট গ্রহণ করতে যাচ্ছে নির্বাচন কমিশন। নির্বাচন আপাতত স্থগিত রাখার পক্ষে শুধু বিভিন্ন রাজনৈতিক দল ও সাধারণ মানুষই নন, তিনজন নির্বাচন কমিশনার একই অভিমত ব্যক্ত করার পরও জনস্বাস্থ্যের জন্য ঝুঁকিপূর্ণ পরিবেশে এই নির্বাচন করতে যাওয়ায় সঙ্গতই প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে। এ ব্যাপারে ইসির তরফে যেসব যুক্তি ও স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পরামর্শ দেওয়া হয়েছে, তা কতটা যুক্তিযুক্ত প্রশ্ন দাঁড়িয়েছে এ নিয়েও। আমরা জানি, গণতন্ত্রে নির্বাচন মানেই উৎসব। সচেতন নাগরিক হিসেবে ভোটাধিকার প্রয়োগে ভিন্ন ধরনের আনন্দ ও গৌরববোধ করেন ভোটাররা। কিন্তু বিদ্যমান পরিস্থিতি মোটেও এর অনুকূল নয়। শুক্রবার সমকালের একটি প্রতিবেদনে যথার্থই বলা হয়েছে, করোনায় নিষ্প্রাণ এক নির্বাচনের গল্প। এই ভোট নিয়ে কোনো উৎসব-আমেজ কিংবা উচ্ছ্বাস নেই। মানুষজন নিতান্ত প্রয়োজন ছাড়া ঘরের বাইরে যাচ্ছেন না।

এমনিতেই ভোটারদের মধ্যে ভোটের ব্যাপারে এক ধরনের অনাগ্রহ সৃষ্টি হয়েছে। তার ওপর করোনার প্রভাবে ভোটকেন্দ্রে উপস্থিতির হার যে একেবারেই নগণ্য হবে, তা ধারণার বাইরে নয়। লক্ষণীয়, আজকের উপনির্বাচন স্থগিত না করলেও করোনাভাইরাস সংক্রমণের আশঙ্কায় ৩১ মার্চ পর্যন্ত ভোটার নিবন্ধন ও জাতীয় পরিচয়পত্র সেবা বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন। ইসির তরফে আইনি বাধ্যবাধকতার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু আইনে তো এও বলা আছে, সুষ্ঠু নির্বাচন করতে পারবে না এমনটা মনে হলে কমিশন যে কোনো সময় নির্বাচন স্থগিত করতে পারে। সংবিধান অনুযায়ী যে কোনো দুর্যোগ-দুর্বিপাকে নির্ধারিত সময়ের পরও নির্বাচন করার ক্ষমতা ইসির রয়েছে। অতীতে এমন নজিরও আছে। ২৯ মার্চ চট্টগ্রাম সিটি করপোরেশন ও বগুড়া-১, যশোর-৬ সংসদীয় শূন্য আসনে নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। আমরা মনে করি, বিদ্যমান পরিস্থিতিতে ওই নির্বাচন স্থগিত করা উচিত। ভোটার যদি ভোটই না দিতে পারেন, তাহলে নির্বাচন অর্থবহ হবে কীভাবে? ইতোমধ্যে দেশে একজন করোনাভাইরাস আক্রান্ত রোগী প্রাণ হারিয়েছেন। অনেকেই আছেন চিকিৎসাধীন ও সঙ্গনিরোধ ব্যবস্থায়। এমন পরিস্থিতিতে মানুষের স্বাস্থ্য ঝুঁকির বিষয়টি ইসির অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে আমলে রাখা উচিত ছিল। সার্বিক সতর্কতা ও সবার সক্রিয়তা-সচেতনতার প্রসঙ্গ যেখানে সামনে চলে এসেছে, সেখানে এমন সিদ্ধান্ত সুরক্ষার বিষয়টিও প্রশ্নবিদ্ধ করেছে।

দায়িত্বশীলদের কাছে দায়িত্বহীনতার পাশাপাশি স্ববিরোধিতা কাম্য নয়। যেহেতু আজকের উপনির্বাচন শেষ পর্যন্ত হচ্ছেই, সেহেতু জনস্বাস্থ্য নিয়ে সতর্কতা-সুরক্ষার বিষয়ে আরও মনোযোগ বাড়ানোর পাশাপাশি ২৯ মার্চের নির্বাচন স্থগিতের ব্যাপারে ইতিবাচক সিদ্ধান্ত নেওয়াই বাঞ্ছনীয় বলে আমরা মনে করি।

আরও পড়ুন

×